সোমবার (৮ মে) স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইট ভাটার কালো ধোঁয়ায় অত্র এলাকার তমিজ উদ্দিনের ১৫০ শতাংশ, মোজামেল হকের ৫০ শতাংশ, কেরামত আলীর ১০০ শতাংশ, মফিজ উদ্দিনের ৫০ শতাংশ, রশিদুল ইসলামের ২০ শতাংশ, জিয়ারুল হকের ১৫০ শতাংশ, জিকরুর হকের ৩০ শতাংশ, রিয়াজুল ইসলামের ৭৫ শতাংশ, মকবুলের ৩০ শতাংশ, সাদ্দাম হকের ৭৫ শতাংশ, বুলু রহমানের ৫০ শতাংশ, যফুরের ৩০ শতাংশ, হাবলুর ১৫ শতাংশ, আব্দুল কাফির ৩০ শতাংশ, মকলেসের ৫০ শতাংশ, রাজ্জাকের ৬০ শতাংশ, মহীমালির ৪৫ শতাংশ, এন্তাজুলের ৪৫ শতাংশ, ফজলার ৪৫ শতাংশ, হানিফার ২০ শতাংশ, হালিমের ২০ শতাংশ, খোকার ৫০ শতাংশ, কাবলীর ২০ শতাংশ, আফজালের ৫০ শতাংশ, জসীম উদ্দিনের ৫০ শতাংশ জমিসহ প্রায় ১০ একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

এসব জমিতে বর্তমানে বিভিন্ন প্রকার উঠতি ফসল রয়েছে। কিন্তু এখন আর এই ফসল রক্ষার কোন উপায় নেই। ফসলের এমন ক্ষতি হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ে।
স্থানীয় কৃষক তমিছ উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার এসকে বিক্স নামে একটি ইটভাটার ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় আশপাশের এলাকা। ওই ধোঁয়ার কারণে কলা বাগানের এমন ক্ষতি হবে প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি। কিন্তু পরে বুঝতে পারি। গত দুদিন ধরে দেখি কলাগাছের পাতা ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। এই কলা গাছগুলোর বর্তমান বয়স ৯ মাস। আর তিন মাস পরেই গাছের কলা বাজারজাত করা হতো। কিন্তু এখন গাছ ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাওয়ায় তা আর সম্ভব হচ্ছে না। কলাগাছগুলো ভালো থাকলে ১০ হাজার কলা গাছে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার কলা উৎপাদন সম্ভব ছিল।
মোজাম্মেল হক নামে অপর এক কৃষক বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় স্থানীয় কৃষকদের ক্ষতি সীমা ছাড়াচ্ছে। পুড়ে যাওয়া ফসলের ক্ষতি পূরণসহ জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ইটভাটা বন্ধ করা হোক।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বাংলানিউজকে বলেন, আমরা ক্ষতিগস্ত মাঠ আজকেই পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। তবে কলাবাগানসহ বিভিন্ন ফসলি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ভাটার ধোঁয়ায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম রব্বানী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময় ২১২৭ ঘণ্টা, মে ৮, ২০১৭
জেডএম/