ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

হাওরের বুকে ‘কালবৈশাখী’ দর্শন

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৬১১ ঘণ্টা, মে ৯, ২০১৭
হাওরের বুকে ‘কালবৈশাখী’ দর্শন হাওরের বুকে ‘কালবৈশাখী’ দর্শন

ইটনা (কিশোরগঞ্জ) থেকে: হাওরের বুকে কালবৈশাখী ঝড়ের ভয়ঙ্কর রূপের কথা শুনেছি অনেক। তবে সত্যিই সত্যিই এর রূপ কত ভয়ঙ্কর হতে পারে, তার কিছুটা নমুনা চাক্ষুস করার সৌভাগ্য হলো।

মেঘালয়ের অকাল ঢলের কারণে এবার চৈত্র মাস থেকেই হাওরজুড়ে থই থই পানি।  

বর্ষা মৌসুমে আপাত পরিষ্কার আকাশে খেলা করছিলো রোদ মেঘের আলোছায়া।

প্রায় স্থির হাওরের পানির মৃদুমন্দ ঢেউ মাঝে মাঝেই ঝিলিক দিয়ে উঠছিলো রোদের প্রতিফলনে। হালকা ছলাৎ ছলাৎ শব্দে ঢেউগুলো ভেঙ্গে পড়ছিলো হাওরের কিনার ঘেঁষে ইটনা বাজারের রাস্তার কিনারে।  

ইটনা, কিশোরগঞ্জের বিশাল হাওরে অবস্থিত একটি বিচ্ছিন্ন জনপদ। বর্ষাকালে আক্ষরিক অর্থেই দেশের মূল জনপদ থেকে বিচ্ছিন্ন ইটনা উপজেলা সদর। নৌপথে কিংবা আকাশপথ ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থান থেকে এখানে আসার কোনো উপায় নেই। এমনকি জেলা সদর থেকে এখানে আসতেও ইঞ্জিন চালিত নৌকায় প্রায় তিন ঘণ্টা লাগে। হাওরের বুকে ‘কালবৈশাখী’ দর্শনবেলা দশটা নাগাদ আচমকাই বদলে গেল আকাশের চেহারা। কয়েক মিনিটেই নিজেদের মধ্যে দলা পাকাতে শুরু করলো মেঘ। শুরু হলো শো শো বাতাস। চেহারা পাল্টালো হাওরেরও। তীব্র ঢেউয়ের উথাল পাথালে খাবি খেতে লাগলো ভাসমান নৌকাগুলো। প্রায় ডুবতে ডুবতে বেঁচে গেল বেশ কয়েকটি ছোট ছোট নৌকা। টাল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলো মাঝারি ট্রলারগুলোও। অনেক দূরে হাওরের বুকে দিগন্ত রেখার কাছাকাছি জায়গায় বিদ্যুৎ চমকাতে দেখা যাচ্ছিলো। তবে আওয়াজ এসে পৌঁছাচ্ছিলো না।

ইটনার নতুন নির্মিত জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ভবনটির মুখ হাওরের দিকে। সামনেই বিস্তৃত জলরাশির বিস্তার। খোলা হাওরের বাতাস সরাসরি আছড়ে পড়ছিলো ডাকবাংলোর দরজা জানালায়। বাতাসের শো শো শব্দে যেন কান পাতাই যায়।  

বাতাসের তীব্রতায় খোলা রাখা যাচ্ছিলো না ডাকবাংলোর দরজা-জানালা। দরজা জানালা বন্ধ থাকলেও অনুভব করা যাচ্ছিলো বাতাসের বেগ।

অবশ্য এই বাতাসকেও ‘ঝড়’ বা ‘তুফান’ বলতে নারাজ স্থানীয় বাসিন্দারা। ডাকবাংলার দেয়াল ঘেষেই দোকান নারায়ণের। তিনি বললেন, ‘আমরার এইডারে তো তুফান কই না’। এইটা হইলো পাক। হাওরে বাতাস ছাড়ছে। এ সুময় প্রায় দিনই এমুন হয়। ’হাওরের বুকে ‘কালবৈশাখী’ দর্শন

সামান্য বাতাস ছাড়তেই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে হাওরে আসল তুফান বা ঝড়ের রূপ কেমন? 

নারায়ণ বললেন, ‘আসল ঝড় শুরু হইলে একটা নৌকাও হাওরে থাকবার পারতো না। আর আপনেও এই রাস্তায় দাঁড়ায় থাকবার পারতেন না। আর বাতাস, মনে হইতো যেন সব উড়ায় লইয়া যাইতো। আপনারেও উড়ায় নিতো’।

এই ‘বাতাস’ কিংবা ‘পাক’, যে নামেই ডাকা হোক না, তা উপলব্ধির জন্য যথেষ্ট, হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা কতটা বিপদসঙ্কুল। প্রকৃতির মর্জির কাছে তারা কতটা অসহায়।
 
বাংলাদেশ সময়: ১২১০ ঘণ্টা, মে ০৯, ২০১৭    
আরআই/জেডএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।