সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক ওই দুই আসামিকে জামিন দেন।
এর আগে, রোববার (০৯ সেপ্টম্বর) ফরিদপুর থেকে বাসের মালিক জয়নালকে গ্রেফতার করে র্যাব।
আদালত সূত্র জানিযেছে, আকিফার বাবার দায়ের করা মামলায় গঞ্জেরাজ পরিবহেনর মালিক জয়নাল মিয়াকে ফরিদপুর থেকে আটক করে র্যাব সদস্যরা। রোববার বিকেলে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সোমবার সকালে মালিকের পক্ষে তার আইনজীবীরা সিনিয়র জুডিশিায়ল ম্যাজিষ্ট্রেট এমএম মোর্শেদের আদালতে জামিন আবেদন করেন। একই সময়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ড্রাইভার মহিদ মিয়া ওরফে খোকন। পরে আদালত দুইজনকে জামিন দেন।
আসামিদের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ আশরাফ বলেন, নতুন আইন এখনো গেজেট হয়নি। তাই পুরাতন আইনে আসামিদের জামিন আবেদন করা হয়। সব দিক বিবেচনা করে আদালত আসামিদের জামিন দিয়েছেন।
এদিকে আকিফা হত্যার ঘটনায় গঠিত সরকারি একটি তদন্ত টিমের সদস্যরা সকালে কুষ্টিয়ায় আসেন। তারা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার চৌড়হাস মোড়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ১০ সদ্যেসের একটি দল। এরমধ্যে ঢাকার ছয়জন ও বাকিরা স্থানীয়। তদন্ত টিমের সদস্যরা আকিফার বাড়িতে গিয়ে তার বাবা ও মার সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।
তদন্ত টিমে ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম, বিআরটিএ পরিচালক (অপারেশন) সিতাংশু শেখর বিশ্বাস, বুয়েটের সহযোগি অধ্যাপক ও দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সদস্য কাজী মোহাম্মদ সাইফুন নেওয়াজ, নিরাপদ সড়ক চাই এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আজাদ হোসেন, সাংবাদিক অশোক চৌধুরী।
এছাড়াও স্থানীয় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ছাড়াও বিআরটিএ বিভাগীয় পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত শেষে সড়ক পরিবহন ও সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শিশু আকিফার মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রাথমিকভাবে যেটি মনে হয়েছে চালকের অদূরদর্শিতার কারণেই শিশু আকিফার করুন মৃত্যু ঘটেছে। এই দুর্ঘটনার দায় চালক এড়াতে পারেননা। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আকিফার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। দুর্ঘটনার যে ভিডিওচিত্র সেটিও আমরা সংগ্রহ করেছি। আশা করি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এর প্রতিবেন দিতে পারব।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮
এনটি