ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৬ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

উপকূলে পানীয়জল সংকট নিরসনে উদ্যোগী সরকার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০৪২ ঘণ্টা, আগস্ট ২, ২০১৯
উপকূলে পানীয়জল সংকট নিরসনে উদ্যোগী সরকার

খুলনা: সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য পানীয়জল সরবরাহে দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এ লক্ষ্যে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি এখন পানীয়জল সংকট নিরসনে প্রয়োজনমুখী প্রকল্প গ্রহণ করছে।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) মুক্তমঞ্চে দু’দিনব্যাপী দ্বিতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।   

তিনি বলেন, জন্মগতভাবেই আমরা বাংলাদেশের মানুষ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেই টিকে থাকি।

তাই আমাদের সামনে যেকোনো সমস্যাই আসুক না কেন, আমরা তার সমাধান করে সামনে এগিয়ে যেতে পারবো।  

তাজুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তথা এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । আমরা এমডিজি অর্জন করেছি, এসডিজিও অর্জন করতে সক্ষম হবো।  

তিনি বলেন, সরকার পানি, জ্বালানি, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ সব দিক নিয়ে কাজ করছে। সমস্যা নিরসনের ব্যাপারে অগ্রাধিকারভিত্তিক চেকলিস্ট তৈরি করা হয়েছে। দেশে দরিদ্র থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই চান সমস্যার সমাধান করে দেশকে উন্নতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে। যাতে মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ে।

এসময় মন্ত্রী উপকূলীয় এলাকার পানীয়জল সমস্যার ব্যাপারে সরকার সম্যক অবহিত বলে উল্লেখ করেন এবং বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে তার মন্ত্রণালয় থেকে সবধরনের প্রচেষ্টা চালানোর আশ্বাস দেন।  

তাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যার ফলে উন্নয়নে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ অংশ নিতে পারছে।  

মন্ত্রী খুলনা শহরের ব্যাপক উন্নয়নে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সুযোগ্য নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।  

পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী দ্বিতীয় পানি সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে উদ্বোধন ঘোষণা করেন মন্ত্রী।  

খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডাইরেক্টর ফ্রেদ উইতেভেন, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমান।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। সূচনা বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের নূরুল আলম রাজু। সঞ্চালনা করেন এওসেডের শামীম আরেফিন।  

সম্মেলনে বৃহত্তর খুলনার সংসদ সদস্য, খুলনার জেলা প্রশাসক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।  

এর আগে সকালে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিনিধিদের প্রশ্নত্তোর পর্বে সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন, মীর মোস্তাক আহমদ রবি, মুস্তফা লুৎফুল্লা, মো. আকতারুজ্জামান বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে তাদের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার কথা ব্যক্ত করেন।

এসময় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, মেয়র খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছালে উপাচার্য তাদের তার কার্যালয়ে স্বাগত জানান। দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুক্রবার (২ আগস্ট) খুলনা ডিক্লারেশনের মাধ্যমে শেষ হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৮ ঘণ্টা, আগস্ট ০১, ২০১৯
এমআরএম/আরবি/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।