ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৬ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১৩৭ ঘণ্টা, আগস্ট ২, ২০১৯
নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী

মাদারীপুর: মাদারীপুরের শিবচর এবং ফরিদপুরে সদরপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন কবিলত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম এবং ত্রাণ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম।

এসময় ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীসহ উভয় মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভাঙন কবলিত এসব এলাকা পরিদর্শন করেন তারা।

এসময় নেতারা এই দুই নদী সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ করেন ও ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।  

নেতারা পদ্মা সেতু, আড়িয়াল খাঁ সড়ক ও রেল সেতু,  ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় বড় ধরনের নদী শাসন প্রকল্প হাতে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য রাখেন।  

ভাঙন কবলিতদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ভাঙন প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া ছাড়াও বৃহত্তর ফরিদপুরকে ঘিরে বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার ঘোষণা দেন। সকাল থেকে চিফ হুইপ, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন কবলিত চরজানাজাত ইউনিয়ন পরিদর্শন করে সেখানে ত্রাণ বিতরণ করেন।  

পরে তারা একই নদীর ভাঙন কবলিত বন্দরখোলা পরিদর্শন করেন। দুপুরে তারা আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন কবলিত ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার মানাইরচর এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রায় সহস্রাধিক পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।  

পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী ভাঙা ও বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভাঙন প্রতিরোধে একদিকে তিনি নদী শাসন ও আরেক দিকে তিনি নদীতে ড্রেজিং করেন। পদ্মা নদী এমনভাবে ভাঙছে এতে পদ্মা সেতু, মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আমরা তাই বৃহত্তর ফরিদপুরকে ঘিরেই বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নেব। আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন প্রতিরোধে ৩৬০ কোটি টাকার কাজ আগামী ডিসেম্বরেই শুরু হবে। এছাড়াও বন্দরখোলার মাধ্যমিক স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় আগামী ১/২ দিনের মধ্যেই জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু হবে।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, চিফ হুইপ দাবি করেছেন পদ্মা নদীতে বাঁধ দেওয়ার জন্য। আমরা কাজ শুরু করবো। সারাদেশেই নদী ভাঙন এলাকায় বাঁধ চায়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সারাদেশে যে যে স্থানে ভাঙছে সব জায়গাতেই শক্তিশালী টেকসই বাঁধ দেওয়া হবে। যাতে বাংলাদেশে দুর্যোগ সহনীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়।  

চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে শিবচরের বড় স্কুল-মাদ্রাসা, ঘর-বাড়ি-রাস্তা বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এত বড় নদী ভাঙন প্রতিরোধে ব্যাপক পরিকল্পনা দরকার। আড়িয়াল খাঁ’র ভাঙন প্রতিরোধে ৩৬০ কোটি টাকার বাঁধের কাজ প্রক্রিয়াধীন। পদ্মার ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু না করলে ভবিষ্যতে আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এসব কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন মোল্লা, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনির চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন খান, পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ডা. সেলিম প্রমুখ।
 
বাংলাদেশ সময়: ২১২৪ ঘণ্টা, আগস্ট ০১, ২০১৯
এসএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।