ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৬ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

নাব্যতা সংকটে বন্ধ মূল চ্যানেল, ঈদে ভোগান্তির আশঙ্কা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২০৯ ঘণ্টা, আগস্ট ৩, ২০১৯
নাব্যতা সংকটে বন্ধ মূল চ্যানেল, ঈদে ভোগান্তির আশঙ্কা কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া ঘাট, ছবি: বাংলানিউজ

মাদারীপুর: দেশের ব্যস্ততম নৌরুটগুলোর মধ্যে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া অন্যতম। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের প্রবেশদ্বারখ্যাত এ নৌরুটটি।

দেশের ব্যস্ততম নৌরুট হওয়া সত্ত্বেও বছরের বিভিন্ন সময়ে ফেরি চলাচলে সংকট লেগে থাকে। এর মধ্যে নাব্যতা সংকট অন্যতম।

নাব্যতা সংকটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হয় গ্রীষ্ম ও বর্ষা উভয় মৌসুমে। ফলে ভোগান্তি এ রুটের যাত্রীদের জন্য সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যায়। ফলে এ রুটে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।  প্রায় দুই সপ্তাহের মতো ৩/৪ টি ফেরি দিয়ে পরিবহন পারাপার করে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া স্রোতকে উপেক্ষা করে বাকি ফেরিগুলো চলাচল করতে না পারায় বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে, পদ্মায় পানি কমতে শুরু করায় স্রোতের সমস্যা কাটিয়ে উঠলেও নাব্যতা সংকট নতুন করে ফেরি চলাচলে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়িছে। কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটের চ্যানেলমুখ পলি জমে থাকায় চ্যানেলটি দিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

নাব্যতা সংকটের কারণে গত ৩০ জুলাই রাত ১২ টা থেকে সকাল ৭ টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে এ মূল চ্যানেলটিতে। পরে কর্তৃপক্ষ বিকল্প আরেকটি চ্যানেল তৈরি করে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখে। বর্তমানে বিকল্প চ্যানেল দিয়েই ফেরি চলাচল করছে।

তবে বিকল্প চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচল করায় স্বাভাবিকের চেয়ে ১ থেকে দেড়ঘণ্টা সময় বেশি ব্যয় হচ্ছে। এতে করে কমে গেছে ফেরির নিয়মিত ট্রিপের সংখ্যা। ফলে ঘাটে পারাপারের অপেক্ষমাণ পরিবহনের দুর্ভোগ কমছে না।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশেনের (বিআইডব্লিউটিসি) কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্র জানায়, বর্তমানে বিকল্প চ্যানেল দিয়ে চারটি রোরো, পাঁচটি কে-টাইপ ও দুটি মিডিয়াম ফেরি ২৪  ‍ঘণ্টাই চলাচল করছে। এবং শুধু দিনের বেলায় আরও ৫ টি ডাম্প ফেরি চলে। দুর্ঘটনা এড়াতে যা রাতে বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে ঈদের আগে মূল চ্যানেলটি চালু করা সম্ভব না হলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির এজিএম (মেরিন, মাওয়া) মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, বিকল্প চ্যানেলে ফেরি চলাচলে যাওয়া-আসা নিয়ে ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় হচ্ছে। যা মূল চ্যানেল দিয়ে আগে ব্যয় হতো আড়াই থেকে ৩ ঘণ্টা। সময় বেশি লাগায় যাত্রীদের সমস্যা একটু হওয়াটাই স্বাভাবিক। ঈদের আগে মূল চ্যানেল চালু না করা গেলে সমস্যা থেকেই যায়।

তিনি আরও বলেন, নাব্যতা সংকট নিরসনে বিআইডব্লিউটিএ কাজ করবে। তবে কবে কাজ শুরু করবে তা জানা নেই।

বাংলাদেশ সময়: ০৭৫৫ ঘণ্টা, আগস্ট ৩, ২০১৯
ওএইচ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।