আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা-বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের মারাত্মক খানা-খন্দে ভরা তিনটি স্থান মেরামত ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয় বগুড়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। তাতেই দেখা দেয় তীব্র যানজট।
বগুড়া শহরের বাঘোপাড়া থেকে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় ১২ কিলোমিটার জুড়ে যানজটের দৃশ্য চোখে পড়ে। মহাসড়ক মেরামত ও সংস্কারে ধীর গতির কারণে গত কয়েকদিন ধরে এমনটা হয়ে আসছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। বৃহস্পতিবার (০১ আগস্ট) রাত পর্যন্ত এ ভোগান্তি চলে। তবে শুক্রবার (০২ আগস্ট) সকাল থেকে যানজট অনেকটা কমতে শুরু করেছে। কিন্তু মহাস্থান বাজার এলাকায় থেমে থেমে যানজট দেখা যায়। ঢাকা-বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের গোকুল, বাঘোপাড়া ও মহাস্থান বাজার এলাকায় ছোট-বড় অসংখ্য মারাত্মক খানা-খন্দ সৃষ্টি হওয়ায় অনেকটা যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আসন্ন ঈদে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সম্প্রতি মহাসড়কের এই তিনটি স্থান মেরামত ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে থেমে থেমে পড়তে থাকে বৃষ্টির পানি।
ফলে মেরামত ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার পর অনেক জায়গা আবার অনেকটা আগের অবস্থায় ফিরে যায়। মানে খানা-খন্দে ভরে যায়। এছাড়া মহাসড়কের এই তিনটি স্থানের মধ্যে দূরুত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতেই অধিক ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়কের ওই তিনটি স্থান ভালোভাবে মেরামত ও সংস্কার কাজও প্রায় শেষ। বৃষ্টিপাত হলেও মহাসড়কের এসব স্থানে কোনো সমস্যা হবে না। এতে যানবাহন চলাচলে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। স্বাভাবিক গতিতেই উভয়দিকে যানবাহন আসা-যাওয়া করতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহার আগে ও পরে সব ধরনের যানবাহন যাতে ঢাকা-বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক হয়ে নির্বিঘ্ন চলাচল করতে পারে সেজন্য সওজের সদর দফতরের নির্দেশে পিরিয়ডিক মেইনটেনেন্স প্রোগ্রামের (পিএমপি) আওতায় মেরামত ও সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সম্প্রতি সে অনুযায়ী বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল ও বাঘোপাড়া মহাসড়কে সৃষ্ট খানা-খন্দ মেরামত ও সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়। পাশাপাশি বগুড়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উদ্যোগে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান বাজারের সামনে মহাসড়ক উঁচু করার কাজও শুরু করা হয়।
এতে রংপুর বিভাগের আট জেলাসহ জয়পুরহাট জেলাগামী ও উত্তরের জেলাগুলো থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন মহাসড়কের বগুড়ার এসব অংশে এসে আটকা পড়ে। তীব্র যানজটের মুখে পড়ে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
কামাল পাশা নামে এক বাসযাত্রী বাংলানিউজকে বলেন, এখনই যে অবস্থা তাতেই মহাসড়ক যানবাহনের লোড নিতে পারছে না। খানা-খন্দে ভরে যাচ্ছে। ঈদযাত্রায় মহাসড়কের এ স্থানগুলো বাড়তি যানবাহনের চাপ সামলাবে কী করে?
আরিফুর রহমানের আরেক যাত্রী বাংলানিউজকে জানান, একদিকে খানা-খন্দ মেরামত ও সংস্কার করা হচ্ছে, আরেকদিকে যানবাহনের চাপ সহ্য করতে না পেরে মেরামত ও সংস্কার করা স্থানে খানা-খন্দ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে আসন্ন ঈদযাত্রায় মহাসড়কের এই তিন কিলোমিটার অংশ উত্তরের মানুষকে চরমভাবে ভোগাবে।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী বাংলানিউজকে জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা-বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের তিনটিসহ ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো মেরামত ও সংস্কার করে বগুড়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এ কারণে মহাসড়কে কয়েকদিন যানজনট ছিল। তবে শুক্রবার (২ আগস্ট) থেকে মহাসড়কের এ অংশে আগের মতোই যানবাহন চলছে।
বগুড়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, ঈদযাত্রায় মহাসড়কের এসব স্থান কোনো সমস্যা হবে না। শুক্রবার (২ আগস্ট) মেরামত ও সংস্কার কাজ শেষ করা হয়েছে। তবে মহাস্থান বাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক সড়কের মুখে থাকায় সেখানে যানজট সৃষ্টি হতে পারে। সেটা হাইওয়ে পুলিশের দেখার দায়িত্ব।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মহাসড়কের এই অংশ ঠিক রাখতে সার্বক্ষণিক দু’টি ইউনিট কাজ করবে। এতে বৃষ্টি হলেও কোনো সমস্যা নেই। সড়কের কোথাও কোনো খানা-খন্দ সৃষ্টি হলে সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টার মধ্যেই তা মেরামত করা হবে। অবশ্য এতে কিছুটা যানজট সৃষ্টি হতে পারে। তবু ঈদযাত্রায় মহাসড়কের এই অংশ কোনো সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে না।
বাংলাদেশ সময়: ১০৪৬ ঘণ্টা, আগস্ট ০৩, ২০১৯
এমবিএইচ/এএ