গতকাল রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাংলাদেশ পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের ডাকে ইউএমসি জুট মিলের শ্রমিকরা মিল গেটের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেছে। অনশনে ইউনাইটেড-মেঘনা-চাঁদপুর (ইউএমসি) জুট মিলের স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক রয়েছে।
আগেই প্রস্তুত রাখা অস্থায়ী মঞ্চে রোববার সন্ধ্যা থেকে কাঁথা বালিশ নিয়ে অনশনে বসে পড়েন শ্রমিকরা। তীব্র শীত উপেক্ষা করে শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়ছে অনশনস্থলে।
শ্রমিকরা জানান, দাবি বাস্তবায়নে শ্রম প্রতিমন্ত্রী আরও এক মাস সময় চেয়েছেন। কিন্তু দাবি বাস্তবায়নের কোনো আশা না দেখে ফের আমরণ অনশন শুরু করেছেন তারা। এর আগে দাবি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিক সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে গত ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু করা আমরণ অনশন ১৩ ডিসেম্বর স্থগিত করেন পাটকল শ্রমিকরা। শ্রম প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শ্রমিক নেতারা তিন দফায় কর্মসূচি স্থগিত করেন।
দাবি পূরণে শ্রমিকরা ২৮ ডিসেম্বর শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এরই মধ্যে সিবিএ-ননসিবিএ নেতারা শ্রমমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিজেএমসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিন দফায় বৈঠক করেন। কিন্তু কোনো সমাধানে আসতে না পারায় শ্রমমন্ত্রী আরও এক মাসের সময় চেয়েছেন। কিন্তু ওই এক মাস পর মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হবে কি না তা নিশ্চিত করেননি কেউই। শুধু সময়ক্ষেপণ করার অভিযোগ তুলে আন্দোলন ছাড়া দাবি বাস্তবায়নের বিকল্প কোনো পথ দেখছেন না বলে জানান পাটকল শ্রমিকরা।
পাটকল শ্রমিকদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে পাটকলগুলো আধুনিকীকরণ, অস্থায়ী শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ, জুট গুডস ম্যান্ডেটরি অ্যাক্ট পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, বকেয়া পিএফ ও গ্রাচ্যুইটির টাকা প্রদান, পাট মৌসুমে কাঁচা পাট ক্রয়ে অর্থ ছাড়সহ ১১ দফা।
এসময় ইউএমসি জুট মিলের সিবিএর সভাপতি শফিকুল ইসলাম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক কামাল মিয়া, কাউছার আহাম্মেদ, সুমন খন্দকার, জাকির হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, নন সিবিএ পরিষদের সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান, মোশারফ হোসেন, কাউযুম প্রধান, শামসুল আরেফিন, ইসা হাবিব রিপন সরকারসহ ঐক্য পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১২১৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯
আরএ