জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার রোয়াইর গ্রামে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ মঞ্জিলা বেগম মারা গেছেন।
শুক্রবার (০৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
মঞ্জিলা জয়পুরহাট সদর উপজেলার বানিয়াপাড়ার দক্ষিণ সরদার পাড়ার বাসিন্দা আব্দুস সবুরের মেয়ে।
জানা গেছে, চার বছর আগে ক্ষেতলাল উপজেলার রোয়াইর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে শরিফুল ইসলাম রনির (৩২) সঙ্গে মঞ্জিলার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে প্রায়ই যৌতুকের টাকার জন্য রনি মঞ্জিলাকে নির্যাতন করে আসছিল।
পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্ক করার পরও রনি তার উপর কারণে অকারণে নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে গত ২৬ জুলাই (সোমবার) দুপুর ১টায় মঞ্জিলাকে হত্যার উদ্দেশে ঘরের দরজা বন্ধ করে শারীরিক নির্যাতন করে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সময় তার চিৎকার শুনে রনির বড় ভাই আরিফুল ইসলাম ও একই গ্রামের মীর বক্স এর ছেলে খয়বর আলী ছুটে এসে ঘরের দরজা ভেঙে মঞ্জিলাকে উদ্ধার করে। ততক্ষণে তার কোমর থেকে মুখ পর্যন্ত ও দুই হাত পুড়ে যায়।
তারা দ্রুত তাকে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠায়। পরে সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করেন। ১০ দিন সেখানে চিকিৎসার পর শুক্রবার দুপুরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে মঞ্জিলার বাবা বাদী হয়ে স্বামী শরিফুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে ক্ষেতলাল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নীরেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, এ বিষয়ে নিহত মঞ্জিলার বাবা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আমরা ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিকে আটক করেছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৩৭ ঘণ্টা, আগস্ট ০৬, ২০২১
আরএ