ঢাকা, বুধবার, ২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১৮ মহররম ১৪৪৪

মুক্তমত

হাজার কোটি টাকার মুগ্ধতা, সরকারকে সাধুবাদ

মাহমুদ মেনন, হেড অব নিউজ | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৫৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ১১, ২০১৬
হাজার কোটি টাকার মুগ্ধতা, সরকারকে সাধুবাদ

সরকারের এমন সক্ষমতা মুগ্ধ করে দেয়। এই মুগ্ধতা হাজার কোটি টাকার।

এই সেদিনও, এমনকি গতকালও, কিংবা আরও এগিয়ে সোমবার সকালেও কি কেউ ভেবেছে- দেশ এখন  চাইলেই কোনও একটি খাতে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে পারে? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা দেখিয়ে দিলেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। লোকসানি এই খাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বকেয়া পড়েছে। হপ্তা মিলছে না। কিন্তু তাই বলে কি তারা ভুখা থাকবে! না, থাকবে না! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবারের মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রীকে বলে দিয়েছেন, পাটকলের শ্রমিকদের জন্য ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হোক। যার মধ্যে ৩০০ কোটি টাকাই যাবে বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধে।

এই ১০০০ কোটি টাকার ওপর গুরুত্ব দিতে চাই। একটু জোর দিয়েও বলতে চাই এই জন্য যে, অংকটি বেশ বড়।

এত বড় অংকের অর্থ মাত্র একবেলার সিদ্ধান্তে একটি লোকসানি খাতের জন্য বরাদ্দ করার দুটি দিক আছে- একটি মানবতার, অন্যটি অর্থনৈতিক সক্ষমতার।

মানবতার দিকটি হচ্ছে- দেশের শ্রমিকশ্রেণির একটি অংশ কাজ করার পরেও বেতন-ভাতা না পেয়ে ক্ষুধা-মন্দায় ভুগছে তা হতে দেওয়া যায় না। আর অর্থনৈতিক দিকটি হচ্ছে- বাংলাদেশ আজ এমন অবস্থানে এমন অর্থনৈতিক সক্ষমতায় পৌঁছেছে যে, হঠাৎ করেই একটি গোষ্ঠীর জন্য এমন বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব।

অর্থনৈতিক সক্ষমতার দিকটি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট। আর মানবতার দিকটি ফুটে উঠেছে তার কথায়। মন্ত্রিসভায় তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে বললেন, “পাট শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য ৩০০ কোটি টাকা দিয়ে দিন। আপনারা পহেলা বৈশাখ পালন করবেন, পাটকল শ্রমিকরা রাস্তায় থাকবেন- এটা হয় না। দ্রুত এ টাকা দিয়ে দিন। পহেলা বৈশাখের আগেই যেন তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়। ”

দেশ মধ্য আয়ের সীমারেখার ভেতরে ঢুকে পড়েছে আরও আগে। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে আরও উন্নতির দিকে। এবছর রেকর্ড পরিমান ৭.০৫ জিডিপি অর্জনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মাথাপিছু বার্ষিক আয় লক্ষটাকা ছাড়িয়েছে। এই যখন অর্থনীতির গ্রাফ, তখন সরকার এই সক্ষমতাটুকু অবশ্যই রাখে।

প্রধান যে বিষয়টি কাজ করেছে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তা হচ্ছে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৎসাহস ও সদিচ্ছা। তিনি চেয়েছেন। আর ঘূর্ণায়মান অর্থনীতির চাকা সঙ্গে তার সেই চাওয়ার সমন্বয় রয়েছে। আর সে কারণেই এমনটা সম্ভব হলো।

প্রধানমন্ত্রী ও তার মাধ্যমে সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের জন্য নতুন একটি দিকমাত্রা এনে দিলো। যে দেশের বয়স ৪৫ বছর, যার প্রথম বাৎসরিক বাজেটই ছিলো ৭৮৬ কোটি টাকা। যা হাজার কোটি ছাড়াতে আরও দুটি অর্থবছর কাটাতে হয়েছিলো। সেই হাজার কোটি টাকা আজ বরাদ্দ হচ্ছে স্রেফ একটি খাতের শ্রমিকদের বকেয়া দেওয়ার কাজে।

তুলনা এই জন্য যে, এক সময় যা ছিলো গোটা দেশের জন্য বরাদ্দ তা এখন একটি খাতের বকেয়া পরিশোধের জন্য মাত্র।

শেখ হাসিনা যে ভিশন-২০২১ ঘোষণা করেছেন, আর ২০৪১ সালে যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তা এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে সেটাই প্রত্যাশা। সরকারকে সাধুবাদ।         

বাংলাদেশ সময় ১৮৫০ ঘণ্টা, এপ্রিল ১১, ২০১৬
এমএমকে/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa