ঢাকা, বুধবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২২ মে ২০২৪, ১৩ জিলকদ ১৪৪৫

রাজনীতি

নৌকা নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়ারও সাহস নেই সরকারের: খসরু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৪৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৭, ২০২৪
নৌকা নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়ারও সাহস নেই সরকারের: খসরু ছবি: শাকিল আহমেদ

ঢাকা: আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নৌকার কথা শুনলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবে না। সেজন্য এবার (উপজেলা নির্বাচনে) নৌকাকে (প্রতীক) বাদ দিয়ে দিয়েছে সরকার।

নৌকা নিয়ে এখন মানুষের কাছে যাওয়ারও সাহস নেই তাদের।  

বুধবার (১৭ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের আলোকে ১০ এপ্রিলকে প্রজাতন্ত্র দিবস’ ঘোষণার দাবিতে’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার উপজেলা নির্বাচন করতে যাচ্ছে। তারা (আওয়ামী লীগ) চিন্তা করছে—বাংলাদেশের মানুষ তো নৌকাকে ভয় পায়, তাই নৌকার কথা শুনলে ভোটকেন্দ্রে যাবে না। এবার তাই নৌকাকে বাদ দিয়ে দিয়েছে। মানে তাদের নৌকা নিয়ে এখন মানুষের কাছে যাওয়ারও সাহস নেই। নৌকাকে কিন্তু এখন তারা বাদ দিয়ে দিয়েছে। অথচ তারাই কিন্তু আইন করেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মার্কা দিয়ে ভোট করার জন্য। তারা আইন কিন্তু বাতিল করেনি, আইন রেখেছে। এই আইন রেখেই কিন্তু তারা নৌকা নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছে না। কারণ ওরা (আওয়ামী লীগ) দেখছে, বাংলাদেশের জনগণ নৌকা যেখানে আছে সেখানে তারা (জনগণ) নেই।  

তিনি বলেন, জনগণ নৌকাকে বয়কট করেছে। তারা এখন নৌকাকে ডুবিয়ে দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে যে, এখন তো নৌকা নেই আপনারা আসতে পারেন (কেন্দ্রে)। তারা আরেকটি ভাঁওতাবাজির নির্বাচন করতে যাচ্ছে।  

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আজকে যারা ক্ষমতা দখল করে বসে আছে তারা ইতিহাস দখল করার চেষ্টা করছে। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, রাজনীতিবিদরা আজকে ইতিহাসবিদ হয়ে গিয়েছেন। আজকে যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা সবচেয়ে বড় ইতিহাসবিদ। তাদের ইতিহাসকে প্রমাণ করার জন্য আবার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা আছে। এমনকি বিচার বিভাগকেও ব্যবহার করা হচ্ছে।  

রাজনীতিবিদ যখন ইতিহাসবিদ হয়ে যান, তখন সেটা আর ইতিহাস থাকে না, সেটা প্রোপাগান্ডা হয়ে যায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, সেই প্রোপাগান্ডাকে ইতিহাসে পরিণত করার জন্য আমাদের ইতিহাসে রিভিজিট করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এখন বাংলাদেশে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বলতে আর কিছু নেই। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশে মানুষের ভয়ের কিন্তু কিছু নেই। তারা তো দেশের মালিক, মালিক কি ভয় পেতে পারে?  কিন্তু আজকে তো বাংলাদেশ সেই অবস্থায় নেই। যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার একমাত্র অস্ত্র হচ্ছে ভয়-ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করা।  

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, যে দেশে অন্যায়-জুলুমের প্রতিবাদ করতে পারবো না,  সে দেশে থাকবোও না। জন্মগ্রহণ করেছি মানুষের জন্য কথা বলার জন্য। এখন মানুষের জন্য যদি কথা বলতে না পারি তাহলে আমার জন্মগ্রহণ বৃথা। ২০৪১ সাল পর্যন্ত নাকি এই সরকার ক্ষমতায় থাকবে। এদের নাকি মৃত্যু নেই।  

এসময় সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্ববান জানান তিনি।  

জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডির সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রব প্রমুখ।  

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৭, ২০২৪
এমএমআই/এইচএ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।