ঢাকা, রবিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

রাজনীতি

মান্নান ভূঁইয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হচ্ছে

মান্নান মারুফ | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১২৫ ঘণ্টা, জুলাই ৯, ২০১০
মান্নান ভূঁইয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হচ্ছে

ঢাকা: বিএনপির সাবেক মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার বহিষ্কারাদেশ শুক্রবার প্রত্যাহার হচ্ছে। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর ‘সংস্কারপন্থী’ হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালদো জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার আগ মুর্হূতে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেন।

বিএনপির একটি বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পরই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্কয়ার হাসপাতালে মান্নান ভূঁইয়াকে দেখতে যাবেন। এরপর স্ত্রী অধ্যাপক মরিয়ম বেগম ও ছেলের উপস্থিতিতে তার লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহার করা হবে বলে সূত্রটি উল্লেখ করেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গুরুতর অসুস্থ মান্নান ভূঁইয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। গুলশানস্থ চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির এ বৈঠকে ১১ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। একজন ছাড়া প্রত্যেকেই তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পক্ষে মত দেন। তারা বিএনপিতে মান্নান ভূঁইয়ার দীর্ঘ ১১ বছরের অবদানের কথা তুলে ধরেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বক্তব্যের সঙ্গে খালেদা জিয়াও একমত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় মান্নান ভূঁইয়ার পক্ষে তার পরিবারের অথবা দলের একজন সদস্য আবেদন করলেই তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে। এ সময় সদস্যরা কেউ মান্নান ভূঁইয়ার ওয়ান ইলেভেনের ভূমিকা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে অনেকেই বলেছেন মান্নান ভূঁইয়ার মত একজন সৎ রাজনীতিবিদ বহিষ্কার হওয়ায় তার শাস্তি তখনই হয়ে গেছে। মান্নান ভূঁইয়ার দীঘদিনের সহকর্মীদের কেউ কেউ বলেছেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে যে কোনো অপরাধ ক্ষমা করা মহত্বের লক্ষণ।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এখন পর্যন্ত যেহেতু মান্নান ভূঁইয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ আবেদন করেননি, এ কারণে বৈঠকেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি। চেয়ারপারসনের কাছে কেউ আবেদন করলে তা গৃহীত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গুরুতর অসুস্থ বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়াকে সিঙ্গাপুর থেকে বুধবার দেশে ফিরিয়ে এনে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মান্নান ভূঁইয়া গত ৩১ মে ফুসফুসের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান। সর্বশেষ তিনি সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর দেহে মোট আটটি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে না পারায় এক সপ্তাহ ধরে তাঁকে কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে দেশে নিয়ে আসা হয়।

বাংলাদেশের স্থানীয় সময়: 00:৫৭ ঘন্টা/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa