ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ মাঘ ১৪৩১, ২১ জানুয়ারি ২০২৫, ২০ রজব ১৪৪৬

রাজনীতি

নির্বাচন বর্জনের হয়তো খারাপ উদ্দেশ্য ছিলো : প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৫৫ ঘণ্টা, মে ২, ২০১৫
নির্বাচন বর্জনের হয়তো খারাপ উদ্দেশ্য ছিলো : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচন বর্জনের পিছনে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (০২ মে) গণভবনে বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরু ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।



প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা) নির্বাচন শুরুর তিন ঘণ্টা পর হঠাৎ করে নির্বাচন বর্জন করলো। হয়তো কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিলো। কিন্তু সে সুযোগ তারা পায়নি। কারণ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষ এ ব্যাপারে সজাগ ছিলো।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত চমৎকার কাজ করেছে, নিরাপত্তা দিয়েছে। তাই তারা (বিএনপি) মানুষের ওপর আঘাত করতে পারেনি। নইলে তারা আরও কিছু মানুষ খুন করে, লাশ ফেলে তারপর নির্বাচন প্রত্যাহার করতো।

বিএনপির প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, তারা আন্দোলন ডেকে ঘরে বসে ছিল। চোরাগোপ্তা হামলা করলো। তারা মাঠে নামেনি। আন্দোলনে যা করলো, তারা নির্বাচন করতে এসেও তাই করলো। ওনারা নির্বাচনে নামার ঘোষণা দিয়ে সব কিছু করলো। কিন্তু ওনারা মাঠে নাই, তাদের প্রতিনিধি নাই, এজেন্ট নাই। কিছুই নাই।

হিংসা ও প্রতিহিংসাপরায়ণতা মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দেশকে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে। আমরা একটা স্লোগান দিই, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। ’ বাংলাদেশে এমন একটা পরিবেশ রয়েছে।

২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দুঃখও রয়েছে। ২০০১ সালের পরে প্রতিটি ধর্মের লোকই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই তারা বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা চাই প্রত্যেক ধর্মের মানুষ তার ধর্মের স্বাধীনতা নিয়ে বাস করুক।

গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকালীন সহিংসতা ও গত জানুয়ারি থেকে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনে নামে চালানো সহিংসতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানসিক বিকৃতি না হলে মানুষ এভাবে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা ও যানমালের ক্ষতি করতে পারে না।

২০ দলীয় জোটের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ধর্ম-বর্ণ দেখে নয়, আমরা সব ধর্মের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। কিন্তু কেন জানি না, বিএনপি-জামায়াত দেশের উন্নতি সহ্য করতে পারে না। যখনই দেশ এগিয়ে যায়, তখনই তারা দেশের ক্ষতি করতে চায়।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তৃতা রাখেন- ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহদুর উ শৈ সিং, বৌদ্ধভিক্ষু সংঘের প্রেসিডেন্ট শ্রীমত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃস্টি প্রচার সংঘের চেয়ারম্যান শ্রীমত শুদ্ধনন্দা মহাথেরো।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সজল কুমার তালুকদার।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪২ ঘণ্টা, মে ০২, ২০১৫
এমইউএম/আরএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।