ঢাকা, বুধবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৯ মে ২০২৪, ২০ জিলকদ ১৪৪৫

রাজনীতি

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সেবার মান বাড়ানোর পরামর্শ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৫৬ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২১, ২০২০
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সেবার মান বাড়ানোর পরামর্শ

ঢাকা: ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সেবা না বাড়িয়ে সেবার মান বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসফেরত কর্মীদের সরাসরি কল্যাণমূলক সেবা দেওয়ার জন্য গুলশানের ভাটারায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি হাসপাতাল স্থাপনসহ বিমানবন্দরের আশেপাশে ডরমেটরি, প্রবাসীদের ঋণ সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

একইসঙ্গে প্রবাসী কলসেন্টারকে আরও আপগ্রেডসহ বোর্ডের সেবাগুলো সম্পর্কে সবাইকে জানাতে হবে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে সোমবার (২১ ডিসেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ ভবনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে সেবা কার্যক্রমের ওপর উপস্থাপনা বিষয়ে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও জনশক্তি প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক শামসুল আলম, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক মুশারাত জেবিন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, বিমানবন্দরের আশেপাশে ডরমেটরি ও গুলশানের ভাটারায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের জমিতে একটি হাসপাতাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। বর্তমানে হাসপাতাল নির্মানের জন্য ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি ও কনসালট্যান্ট নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে। এছাড়া প্রবাসীকর্মীদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে একটি সঞ্চয় স্কিমসহ শিক্ষা ঋণ কিভাবে দেওয়া যায় সে বিষয়ে খুব তারাতারি আমরা চিন্তা করবো।

তদবির না হলে সেবা পাবো না এ নীতি থেকে সবাইকে বেড়িয়ে আসতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তিগত এজেন্ড নিয়ে কাজ করছি না। আমরা জানি আমাদের সমস্যা কোথায়। তাই আশা করছি, ওয়েজ আর্নার্স বোর্ড সেগুলো নিয়ে কাজ করবে। আমাদের প্রবাসীদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে সেবা করতে হবে। নিজেদের মধ্যে ইনোভেশন কিছু করতে হবে৷ আমরা আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ভালো রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। তাহলেই আমাদের অভিবাসন সত্যিকার অর্থে টেকসই হবে।

বিএমইটির মহাপরিচালক শামসুল আলম বলেন, যাদের টাকা তাদের কল্যাণ করবেন আগে। তারপর যদি কিছু থাকে তাহলে অন্যদের জন্য কিছু করবেন। এখানে একটা গবেষণা থাকা দরকার কোন ইমোশনের প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে সার্ভিস না বাড়িয়ে সেবার মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।  

বক্তারা বলেন, আমরা কাকে সেবা দেবো, কীভাবে দেবো এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বাজেট থেকে ২০ কোটি টাকা দিয়ে বিদেশে স্কুল কলেজ করা হচ্ছে সেটা বন্ধ করে প্রবাসীদের জন্য খরচ করতে হবে। কারণ সেখানে কোনো প্রবাসী শ্রমিক পড়াশোনা করে না। এছাড়া প্রবাসী শ্রমিক মারা গেলে, অসুস্থ হলে আমরা টাকা দেই। কেন সুস্থ প্রবাসীদের টাকা দিতে পারি না? এক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সঙ্গে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড মিলে কাজ করতে পারে।

এজন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের মতো শুধু প্রবাসী কর্মীদের জন্য ডিপিএইচ চালু করতে পারে। এছাড়া প্রবাসীকর্মী বা সন্তান যদি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে ঋণ সুবিধা চায়, তাহলে তাদের দেওয়ার বিধান রাখতে হবে।

তারা আরও বলেন, বিমানবন্দরে যদি সাত থেকে আটি প্রবাসী কল্যাণ ডেক্স করে দেওয়া হয়, তাহলে কিন্তু তাদের ডাটা রাখা যায়। পরবর্তিতে তাদের উদ্যোক্তা হতে সহায়তা করতে পারে৷ এছাড়া প্রবাসীকর্মীদের জন্য বিমানবন্দরের আশেপাশে ডরমেটরির ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে করে প্রবাসীরা কিছু সময়ের জন্য সেখানে নিদিষ্ট একটি ফি দিয়ে থাকতে পারে। তাদের জন্য একটি হাসপাতাল করতে হবে। প্রবাসী কল সেন্টারকে আরও আপগ্রেড করতে হবে। একইসঙ্গে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সেবাগুলো সম্পর্কে সবাইকে জানাতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২০৫০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২১, ২০২০
জিসিজি/ওএইচ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।