ঢাকা, রবিবার, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২১ শাবান ১৪৪৫

কর্পোরেট কর্নার

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেস্টের সম্মাননা পেলো ৪৯ উদ্ভাবন

নিউজ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯১৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৩
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেস্টের সম্মাননা পেলো ৪৯ উদ্ভাবন

ঢাকা: দেশের ৪৯টি উদ্ভাবনকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে জিপিএইচ ইস্পাতের সৌজন্যে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডের ৫ম আসর।

এসপায়ার টু ইনোভেট-এটুআইর যৌথ উদ্যোগে অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানটির আয়োজনে ছিল বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভ।

 

শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে একটি জাঁকালো আয়োজনের মাধ্যমে ২৬টি বিজয়ী এবং ২৩টি অনারেবল মেনশন সম্মাননায় এ বছরের সেরা উদ্ভাবনগুলোর নাম ঘোষণা করা হয়। }

এর আগে শনিবার সকালে বাংলাদেশ বিজনেস ইনোভেশন সামিটর ৪র্থ আসরটি অনুষ্ঠিত হয়। একটি স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ে আয়োজিত তৃতীয় বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেস্টের মূল আয়োজন ছিল এ সামিট এবং অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানটি।

এবার পুরস্কার বিতরণী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক।  
প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন, এই বছর ফেস্টটি প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১ এর রূপকল্প অনুসরণ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। আমি খুবই আনন্দিত যে, আজকের এ আয়োজনে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে উদ্ভাবনের শীর্ষস্থানীয় কিছু বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞ একাধিক বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আমি নিশ্চিত যে, এই আলোচনা এবং মতবিনিময়গুলো আমাদের সামগ্রিকভাবে উদ্ভাবনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রায় ৫ শতাধিক পেশাদার ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সমাগমে ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডের এবারের আয়োজনটি ছিল পরিপূর্ণ। এবারের সংস্করণে পুরস্কারের জন্য প্রায় ১শ’টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৩শ’র অধিক নমিনেশন জমা পড়ে। তার মধ্যে নয়টি জুরি সেশনের মাধ্যমে ২১টি ক্যাটেগরিতে ৪৯টি ইনোভেশনকে পুরস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়। জুরি প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করেন দেশের সম্মানিত একাধিক ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞরা।

দেশের প্রয়োজনীয় প্রতিটি সেক্টরে পরিচালিত এবং উদ্ভাবিত ইনোভেশনগুলোকে জনসমুক্ষে তুলে ধরার মাধ্যমে স্বীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি উপলক্ষ বাংলাদেশ ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড আয়োজনটি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের প্রতিষ্ঠাতা শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রই ইনোভেশন বা উদ্ভাবনের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত। আজকের এ সম্মাননাটি সেই বাস্তবতাকেই আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। আমাদের দেশের প্রতিটি সেক্টরে একটি উদ্ভাবনী মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে এবং নতুন নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে যেখানে আমরা উদ্ভাবনকে লালন করতে পারি। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং আমরা দীর্ঘ সময় নিয়ে এই প্রচেষ্টাকে বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

সামিটের স্বাগত বক্তৃতায় জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমগীর কবির বলেন, আমরা জিপিএইচ ইস্পাতে কর্মরত সকলে বিশ্বাস করি উদ্ভাবন হচ্ছে দেশ এবং দেশের বিভিন্ন শিল্পের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমাদের এ যাবৎ অর্জিত সব প্রবৃদ্ধি এবং ব্যবহৃত সব কার্যকর পন্থাকে নিয়ে আমাদের পুনরায় ভাবতে হবে। আজকে উপস্থিত আমাদের সবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রিক দায়িত্ব হচ্ছে একটি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে একটি কার্যকর উদ্ভাবনী অবকাঠামো গড়ে তোলা।

বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে উদ্ভাবন প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের একটি রূপরেখা নির্মাণে এই বছরের সামিটটি অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সামিটের মূল আয়োজনে ছিল তিনটি কি-নোট সেশন, চারটি প্যানেল ডিসকাশন, তিনটি ইনসাইট সেশন এবং একটি কেস স্টাডি।  

এবারের সামিটে কিনোট বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর কুন-পিয়ো লি, ডিন, স্কুল অব ডিজাইন; সোয়াইর চেয়ার প্রফেসর, ডিজাইন; অ্যালেক্স ওং সিউ ওয়াহ গিগি ওং ফুক চি প্রফেসর, প্রোডাক্ট ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্য হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি; প্রফেসর ইশতিয়াক পাশা মাহমুদ, হেড অব ডিপার্টমেন্ট, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি, এনইউএস বিজনেস স্কুল, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর; ড. ইউসরে বদির, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, ফ্যাকাল্টি ডিরেক্টর, পিএইচডি অ্যান্ড ডিবিএ প্রোগ্রামস, এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।

এছাড়াও সামিটের বিভিন্ন আলোচনায় বক্তা হিসেবে ছিলেন আনির চৌধুরী, পলিসি অ্যাডভাইজার, এসপায়ার টু ইনোভেট-এটুআই; ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, প্রজেক্ট ডিরেক্টর, এসপায়ার টু ইনোভেট-এটুআই; ড. রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত, বিজনেস মেন্টর, এক্সপ্রেনিউরস ইনকিউবেটর; ফাউন্ডার ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মুলিটিক ল্যাবস, জিএমবিএইচ; ফাউন্ডার ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মুলিটিক এনার্জি সলিউশন লিমিটেড, বাংলাদেশ; ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন, চিফ ইনোভেশন অফিসার প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।  

এছাড়াও সামিটটির উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ ছিল দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত মেধাবী শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক আলোচনায় অনুষ্ঠিত এমপাওয়ারিং ইয়ুথ থ্রু ইনোভেশন শীর্ষক প্যানেল ডিসকাশনটি।

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেস্ট ২০২৩ হচ্ছে বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের একটি উদ্যোগ। ইভেন্টটি আয়োজন এবং পরিচালনায় যুক্ত ছিল বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম।

সাপোর্টেড বাই-গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড; মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড; ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি; স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার-জেনারেশন আনলিমিটেড; হসপিটালিটি পার্টনার-লা মেরিডিয়ান, ঢাকা; টেকনোলজি পার্টনার-আমরা টেকনোলজিস লিমিটেড; পিআর পার্টনার-ব্যাকপেজ পিআর।

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৩
এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।