শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার কামিন্দু মেন্ডিসকে ‘সব্যসাচী ক্রিকেটার’ বললে মোটেও বাড়িয়ে বলা হবে না। বাঁ ও ডান—দুই হাতেই সমান দক্ষতায় বোলিং করতে পারেন তিনি।
২৬ বছর বয়সী কামিন্দু মেন্ডিস আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে দুই হাতে বোলিং করার নজির গড়েছেন। তাও আবার নিজের অভিষেক ম্যাচেই! শুধু বোলিং করেই ক্ষান্ত হননি, একটি উইকেটও তুলে নিয়েছেন। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলা এই অলরাউন্ডার।
ম্যাচটিতে মাত্র একটি ওভার বল করেন কামিন্দু। ১৩তম ওভারে তিনি তিনটি বল করেন বাঁ হাতে এবং বাকি তিনটি ডান হাতে। ওই ওভারের চতুর্থ বলেই তার শিকার হন কলকাতার তরুণ ব্যাটার অঙ্কৃশ রঘুবংশী, যাকে দুর্দান্ত এক ক্যাচে ফিরিয়ে দেন হার্শাল প্যাটেল।
তবে এমন ঐতিহাসিক কীর্তির দিনে জয় ধরা দেয়নি কামিন্দুর দলের হাতে। কলকাতার কাছে ৮০ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ব্যাট হাতেও কামিন্দু রেখেছেন অবদান—দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন তিনি।
শৈশব থেকেই দুই হাতে বোলিংয়ের অভ্যাস
শৈশব থেকেই দুই হাতে বোলিংয়ের অভ্যাস গড়ে তোলেন কামিন্দু মেন্ডিস। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে এই বিশেষ দক্ষতা দেখিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর জাতীয় দলেও তা অব্যাহত রাখেন। ২০২3 সালে ভারতের দুই তারকা ব্যাটার সূর্যকুমার যাদব ও ঋষভ পন্তের বিপক্ষেও দুই হাতে বোলিং করেন তিনি।
কামিন্দুই প্রথম নন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কামিন্দু প্রথম নন যিনি দুই হাতে বল করেছেন। এমন কীর্তির প্রথম নজির পাওয়া যায় ১৯৫৮ সালে, কিংস্টনে অনুষ্ঠিত টেস্টে। পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটার মোহাম্মদ হানিফ দুই হাতে বল করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ওই ম্যাচেই ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্স খেলেছিলেন ঐতিহাসিক ৩৬৫ রানের ইনিংসটি, যা ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিল।
এছাড়া ১৯৯৬ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে দুই হাতে বল করে নজর কাড়েন শ্রীলঙ্কার হাশান তিলকরত্নে, যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের নারী দলের প্রধান কোচের দায়িত্বও পালন করেন।
দুই হাতে বোলিং করা এমন বিরল প্রতিভার আধিকারী কামিন্দু মেন্ডিস এখন শুধুই নজর কাড়ছেন না, বরং ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের আলাদা জায়গাও করে নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১২৪৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৪, ২০২৫
এমএইচএম