ঢাকা: সিরিজ খেলতে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার আগের দিন বিসিবি’তে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন বলেছিলেন, স্বাগতিকদের বিপক্ষে জয়ের জন্যই খেলবে তার দল। সফরকারী দলপতি তার দেয়া কথায় কতটুকু অটল থাকবেন তা দেখতে ভক্তদের অপেক্ষার প্রহর প্রায় শেষ।
কারণ, দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। করাচির সাউথ এন্ড ক্রিকেট ক্লাব মাঠে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায়।
সফরকারীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সিরিজের দুটি টি-টোয়েন্টি ও দুটি ওয়ানডেসহ মোট চারটি ম্যাচই হবে এই মাঠে।
২০০৯ এ শ্রীলঙ্কার টিম বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর এটিই বাংলাদেশের প্রথম পাকিস্তান সফর। পাকিস্তানে চলমান অস্থির রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আলিঙ্গন করেই সোমাবার (২৮ সেপ্টেম্বর) লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা পা রেখেছে পাকিস্তানে। সঙ্গত কারণেই সফরটি দু’দলের জন্য ঐতিহাসিকের তকমা পেয়ে গেছে। আর এমন ঐতিহাসিক সিরিজ জিততে দল দুটি যে মরিয়া হয়ে খেলবে সেকথা বলার আর অপেক্ষা থাকছে কই?
জয়ের জন্য দু’দল মরিয়া হলেও সার্বিক পরিসংখ্যানে এগিয়ে স্বাগতিকরা। ২০১১ সালে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল আইসিসি’র ওয়ানডে মর্যাদা পাবার পর পাকিস্তানের বিপক্ষে এ পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছে ৪টি, যেখানে কোনটিতেই জয় নেই সালমাদের।
পাকিস্তানের বিপক্ষে কোন জয় না থাকলেও এই সিরিজে সালমাদের জয়ের রসদ হিসেবে কাজ করতে পারে সবশেষ ২০১৪ এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয়ের স্মৃতি। বিশ্বকাপের ওই আসরে ‘বি’ গ্রুপে থাকা দলটি গ্রুপপর্বে ৫ ম্যাচের দু’টিতে জয় পেয়েছিল। যেখানে প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ড। তবে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও ভারতের কাছে হেরে খেলা হয়নি নকআউট পর্বে।
একথা অনস্বীকার্য যে, স্বাগতিক হওয়ায় নিজেদের মাঠে ফেভারিট পাকিস্তান। তাতে কী এসে যায়? ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। দুই বা তিনটি ভাল ডেলিভারি যে কোন সময়ই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তাই যদি হয় তাহলে পাকিস্তানকে এত ভয় পাবার কোন সঙ্গত কারণ কী আছে?
সালমা খাতুনের যাদুকরী স্পিন আর পান্না ঘোষের গুড লেংথের বল যে কোন মুহূর্তেই পাকিস্তান বধের হাতিয়ার হয়ে উঠতেই পারে।
বাংলাদেশ সময় : ২০৩৫ ঘণ্টা, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫
এইচএল/এমআর