ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মাঘ ১৪২৯, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮ রজব ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

শিশু আয়াত হত্যা: মরদেহের খণ্ডিত অংশের খোঁজে আবারও তল্লাশি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৩৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২, ২০২২
শিশু আয়াত হত্যা: মরদেহের খণ্ডিত অংশের খোঁজে আবারও তল্লাশি বন্দরটিলার স্লুইচগেট এলাকায় আয়াতের মরদেহের খণ্ডিত অংশের খোঁজ করছেন পিবিআইয়ের সদস্যরা। ছবি: সোহেল সরওয়ার

চট্টগ্রাম: নগরের ইপিজেডে হত্যার শিকার ৫ বছরের শিশু আলীনা ইসলাম আয়াতের মরদেহের বাকি খণ্ডিত অংশের খোঁজে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।  

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে নগরের বন্দরটিলা আকমল আলী রোডের স্লুইচগেট এলাকায় তল্লাশি শুরু করে সংস্থাটির সদস্যরা।

 

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর দুপুরে নগরের আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে একটি নালায় স্লুইচগেটের কাছে থেকে শিশু আলীনা ইসলাম আয়াতের খণ্ডিত দেহের বিচ্ছিন্ন দুই পায়ের অংশ এবং সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার শিশু আয়াতের খণ্ডিত মাথার অংশ উদ্ধার করা করা হয়।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্টোর পরিদর্শক ইলিয়াস খান বাংলানিউজকে বলেন, পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর ইনচার্জ পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা স্যারের নেতৃত্বে পিবিআই মেট্রোর ৫৫ জনের একটি দল সকাল সাড়ে নয়টা থেকে সকার সাড়ে বারোটা পর্যন্ত বিভিন্নভাবে ভাগ হয়ে শিশু আয়াতের মরদেহের খণ্ডিত আরও অংশ কোঁজে তল্লাশি অভিযান চালায়।

এ সময় কোনও ধরণের মরদেহের খণ্ডিত অংশ ও কিছুই উদ্ধার হয়নি।  

খুনি আবির আলীর (১৯) দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে গত তিন দিন যাবত পিবিআইয়ের ২৫ জনের দুটি টিম আয়াতের দেহের খণ্ডাংশগুলো ফেলার স্থান দুটিতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

আবির আলী স্বীকার করেছে, মুক্তিপণের জন্য সে বাড়িওয়ালার নাতনিকে অপহরণ করেছিল। চিৎকার করায় শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ১৬ নভেম্বর সকালে মরদেহ তিন টুকরো করে আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে বেড়িবাঁধের পর আউটার রিং রোড সংলগ্ন বে–টার্মিনাল এলাকায় সাগরে ভাসিয়ে দেয়। ওইদিন রাতে বাকি তিন টুকরো আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে একটি নালায় স্লুইচ গেইটের প্রবেশমুখে ফেলে দেয় আবির। আগের অভিযানে আয়াতের রক্তমাখা কাপড় ও স্যান্ডেল, মরদেহ টুকরো করার কাজে ব্যবহৃত বটি ও কাটার উদ্ধার করা হয়।

শিশু আয়াতকে খুনের মামলায় ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা আজহারুল ইসলামের ছেলে আবিরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পর ২৪ নভেম্বর রাতে তাকে গ্রেফতার করে পিবিআই। ২৬ নভেম্বর বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেনের আদালতে তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুল হালিমের আদালত ফের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে আবির আলীর মা-বাবা ও এক বোনকে আটকের পর ২৯ নভেম্বর দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অলি উল্লাহ’র আদালত মা ও বাবার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮২৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২, ২০২২
এমআই/পিডি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa