ঢাকা, শনিবার, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

ধর্ষণ মামলা দিয়ে দুই যুবককে ফাঁসানোর অভিযোগ  

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২৪৩ ঘণ্টা, অক্টোবর ৬, ২০২২
ধর্ষণ মামলা দিয়ে দুই যুবককে ফাঁসানোর অভিযোগ   ...

চট্টগ্রাম: লোহাগাড়ায় মো. কায়সার ও জালাল উদ্দিন নামের দুই যুবককে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।  

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) সকালে নগরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার জালাল উদ্দিনের স্ত্রী আফিয়া জান্নাত এ অভিযোগ করেন।

এ সময় গ্রেফতার অপর আসামি কায়সারের মা'সহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জালাল উদ্দিনের স্ত্রী আফিয়া জান্নাত বলেন, স্বামী পরিত্যক্ত এক নারীসহ দুই নারী গত ২৯ সেপ্টেম্বর লোহাগাড়া থানায় তাদের ধর্ষণের অভিযোগে আমার স্বামী জালাল উদ্দিন ও তার বন্ধু কায়সারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে ঘটনা দেখানো হয় ২৫ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায়। মামলার এজাহারে বলা হয়, উপজেলার বড়হাতিয়া মনুফকিরহাট এলাকা থেকে তাদের ধরে নিয়ে তৈয়বের পাড়ার আবদুল আজিজের পরিত্যক্ত একটি টিনশেড বাড়িতে ধর্ষণ করে তা ভিডিও করে।

আফিয়া জান্নাত বলেন, প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে তাদের দেখানো ঘটনাস্থলে সকাল ১১টায় মালপুকুরিয়া মিশকাতুল উলুম মাদরাসার হাজারো শিক্ষার্থী ছিলেন। একটা চিৎকার করলে সবাই শুনতো অথচ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কেউ ঘটনার কিছু জানলো না। যে ব্রিজের ওপর থেকে ওই দুই নারীকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, ওই ব্রিজের দুই পাশে ৩টা বাড়ি আছে, একটা চিৎকার করলে ওই বাড়ির লোকজন শুনতো অথচ কেউ কিছুই জানে না।

তিনি বলেন, আমাদের বিয়ে হয়েছে ৫ মাস। স্বামীর কোনো রকম উচ্ছৃঙ্খলতা দেখিনি।  ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় যে রাস্তা দিয়ে ওই দুই নারীকে তুলে নিয়ে গেছে দাবি করছে ওই রাস্তার পাশে দুটি দোকান রয়েছে। সেখানে প্রচুর মানুষজন থাকেন। অথচ দোকানের কেউ বিষয়টি দেখল না, অথবা যাদের জোর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তারা একটু চিৎকারও করল না। এটা সন্দেহজনক।

তিনি বলেন, ওই রাস্তা দিয়ে প্রতি মিনিটে ১০/১৫টা গাড়ি চলাচল করে। লোকজন পায়ে হেঁটে যায়, অথচ অপহরণকারীদের কেউ বাধা দেননি কেন? 

সংবাদ সম্মেলনে কায়সারের মা কুলসুমা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে তার এক বন্ধু খোকন পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়েছেন। যে টিনশেড বাড়িতে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হচ্ছে সেই বাড়ি লাগোয়া সামনে আরো দুটি বসতঘর রয়েছে। সেখানে কয়েকটি পরিবার বাস করেন। তারাও কেন ধর্ষণের বিষয়টি টের পেলেন না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ধর্ষণ মামলার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ ।

তিনি বলেন, ধর্ষণের সময় ভিডিও করার কথা বলা হলেও পুলিশ ভিডিওটি কেন জব্দ করল না। কায়ছার এবং জালাল উদ্দীন কোনো ভিডিও ধারণ করেননি। ধর্ষণের অভিযোগ করা দুই নারীর মধ্যে একজন স্বামী পরিত্যক্তা অপরজনের স্বামী এলাকায় ভারসাম্যহীন হিসেবে পরিচিত। এলাকার একটি সন্ত্রাসীচক্র ওই দুই নারীকে ব্যবহার করে মিথ্যা ধর্ষণের মামলা সাজিয়েছেন।  

সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণ মামলাটি মিথ্যা দাবি করে পুরো ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত করার দাবি জানান প্রশাসনের প্রতি।  

সংবাদ সম্মেলনে জালালের ভাই মাঈনুদ্দিন, কায়সারের ভাই রিয়াজ উদ্দিন, বোন ইসমত আরা বেগম, জালালের ভাবি ইয়াছমিন আকতারসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ২২১০ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৬, ২০২২
বিই/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa