ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৮ মে ২০২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৪৫

দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা

কলকাতায় ভবন ভেঙে নিহত বেড়ে ১০ জন, আরও বাড়ার আশঙ্কা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০৩০ ঘণ্টা, মার্চ ২০, ২০২৪
কলকাতায় ভবন ভেঙে নিহত বেড়ে ১০ জন, আরও বাড়ার আশঙ্কা

কলকাতা: গত ২৬ ঘণ্টায় কলকাতার গার্ডেন রিচ এলাকায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ভেঙে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০ জনে।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

রমজানের মধ্যে এতগুলো প্রাণ গেল, এর দায় কার? অবিলম্বে মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে বহিষ্কার করার দাবি তুলেছে বাম ও কংগ্রেস। আসন্ন ভোটের ময়দানে বিক্ষোভে সামিল হয়েছে বিজেপিও।

যদিও স্থানীয় কাউন্সিলরের পাশে দাঁড়িয়েছে কলকাতার মেয়র। তিনি জানিয়েছেন, কাউন্সিলর নয়, এর দায় সরকারি কর্তাদের। যে কারণে নিচু তলার তিন ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রোমোটারকেও।

অপরদিকে, ডেপুটি মেয়র সরাসরি সোচ্চার হয়েছেন মেয়রের বিরুদ্ধেই। তিনি জানিয়েছেন, কখনওই মেয়র এর দায় এড়াতে পারেন না। কাউন্সিলর সবটাই জানত।

স্থানীয়রা বলছেন, সবাই সবটা জানতো এমনকি পুলিশও। প্রতিবাদ করলে দুষ্কৃতরা গুলি করে মেরে দেওয়ার হুমকি দিত। ফলে সব জেনেও চুপ থাকতে হতো স্থানীয়দের।

তাদের দাবি, শুধু একটা বা দু’টো নয়, বেআইনি এরকম বহু বহুতল ভবন তোলা হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে আসন্ন লোকসভা ভোটের আগে বিপাকে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল।

সোমবার (১৮ মার্চ) রাতে কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত গার্ডেনরিচ এলাকায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ভেঙে পড়ে এক টালির বাড়ির ওপর। এতে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। মৃত্যের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য মতে, গার্ডেনরিচ থানার অন্তর্গত ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। ওই দিন মধ্যরাতে বিকট শব্দ করে ভবনটি পাশের একটি টালির বাড়ির ওপর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। তাতেই চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে একাধিক মুসলিম পরিবারের।

এদিকে, কয়েকদিন আগে কপালে চোট পেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বাসায় বিশ্রামে ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, বেশ কিছুদিন তাকে বিশ্রামে থাকতে হবে। কিন্তু অসুস্থ শরীরে মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তিনি। পাঁচলাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছেন।

ভোটের ভারতে এই নিয়েও রাজনীতি শুরু হয়েছে। মেয়র বলেছেন, এগুলো সব বাম আমলের কাজ। তাই এই দুর্দশা।

অভিযোগ অস্বীকার করে বামদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবনটি নির্মাণ হচ্ছিল বর্তমান শাসকের আমলে। দশ বছরের ওপরে তারা রাজ্যের ক্ষমতায় আছে। বাম আমলে যদি বেআইনি অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে এতদিন তারা কি করছিলেন? এছাড়া বেআইনি কাজ করেছে প্রমোটার। তাহলে কেন সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে? নিজেদের দোষ ঢাকতে এখন পরিস্থিতি থেকে নজর ঘোরাতে চাইছেন মেয়র।

বাংলাদেশ সময়: ০০২৭ ঘণ্টা, মার্চ ২০, ২০২৪
ভিএস/এসআইএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।