ঢাকা, বুধবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৯ মে ২০২৪, ২০ জিলকদ ১৪৪৫

অর্থনীতি-ব্যবসা

৩২ টাকা কেজি দরে ধান কিনবে সরকার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৫২ ঘণ্টা, এপ্রিল ২১, ২০২৪
৩২ টাকা কেজি দরে ধান কিনবে সরকার

ঢাকা: ঢাকা: আসন্ন বোরো মৌসুমে ১৭ লাখ ৫০ হাজার টন ধান, চাল ও গম সংগ্রহ করবে সরকার। এরমধ্যে ৩২ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন ধান, ৪৫ টাকা কেজি দরে ১১ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ৪৪ টাকায় আতপ চাল ১ লাখ  টন এবং ৩৪ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

রোববার (২১ এপ্রিল) মন্ত্রীপরিষদ সভাকক্ষে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।  

সভায় জানানো হয়, আসন্ন বোরো সংগ্রহ ২০২৪ মৌসুমে ৫ লাখ টন ধান, ১১ লাখ টন সিদ্ধ চাল,আতপ চাল ১ লাখ টন এবং ৫০ হাজার টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতি কেজি বোরো ধানের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৫ টাকা, আতপ চাল ৪৪ টাকা এবং গম ৩৪ টাকা। ২০২৩ সালে ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য ছিল যথাক্রমে ধান ৩০ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৪ টাকা এবং গম ৩৫ টাকা।
প্রসঙ্গত, গত বছর ধানের সংগ্রহমূল্য ছিল ৩০ টাকা ও চালের সংগ্রহ মূল্য ছিল ৪৪ টাকা।  

ধান কেনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ধান যদি ৫ লাখ টনের বেশি কেনা যায় সেটা কেনা হবে। কৃষকের সুবিধার্থে আরও ধান আমরা কিনব। এক্ষেত্রে ওপেন রাখা হয়েছে। কমিটিতে সেটাই সিদ্ধান্ত হয়েছে। হাওরসহ যেখানে যেখানে ধান কাটা শুরু হয়েছে, সেখানে ৭ মে থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হবে। সংগ্রহ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

বোরো ধান ও চালের উৎপাদন খরচ গত বছরের থেকে বেশি হওয়ায় এবার সংগ্রহ মূল্য কিছুটা বেড়েছে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দামের কারণে কৃষক একটু উৎসাহিত হোক। না হয় কৃষক অন্য শস্যে চলে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের চালের প্রয়োজন।

পহেলা বৈশাখ থেকে চালের বস্তায় ধানের জাতের নাম ও মিলগেট মূল্য লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা- জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, অলরেডি সেটি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। আপনারা মিলগুলোতে খোঁজ নেন। তবে মার্কেট থেকে পুরোনো চাল যেতে সময় লাগবে। নতুন চাল ঢোকা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে তো চালকল মালিকরা সময় চেয়েছিল- এ বিষয়ে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, সময় দিলে সময় চাইতেই থাকবে। এখানে সময়ের ব্যাপার নাই।  তাদের ৫৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল, এটা যথেষ্ট।

তিনি বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মিটিং করেছি, জেলা প্রশাসকরা মিলাদের সঙ্গে মিটিং করেছেন। তারপরও যদি বাস্তবায়ন না হয়, আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ঘিরে প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা- জানতে চাইলে খাদ্য মন্ত্রী বলেন, আমরা সবসময় সজাগ আছি। খাদ্যের ঘাটতি হয়েছে, এমন কথা বাংলাদেশে বলা যায় না। এবার উৎপাদন ভালো হয়েছে।

চালের দাম এখন সহনীয় কিনা- জানতে চাইলে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, আমি তো মনে করি সহনীয় আছে। আপনারা সারা বিশ্বের চালের বাজার একটু রেকি করেন। তাহলে আপনাদের ভুল ভেঙে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

বর্তমানে সরকারি গুদামে চাল ও গম মিলিয়ে মোট খাদ্যশস্যের মজুত ১২ লাখ টন। বন্দরে এক লাখ ২০ হাজার টন গম এসে পৌঁছেছে। আরো তিন লাখ গম কেনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।  

এ সময় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুস শহীদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম (টিটু) এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বেগম রোকেয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।  

এছাড়াও সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৫২ ঘণ্টা, এপ্রিল ২১, ২০২৪
জিসিজি/এসআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।