ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৩০ মে ২০২৪, ২১ জিলকদ ১৪৪৫

অর্থনীতি-ব্যবসা

ভবিষ্যতে মোটরসাইকেলও রপ্তানি হবে 

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩২৯ ঘণ্টা, নভেম্বর ১১, ২০১৮
ভবিষ্যতে মোটরসাইকেলও রপ্তানি হবে  হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড ফ্যাক্টরির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমির হোসেন আমু। ছবি: বাংলানিউজ

মুন্সিগঞ্জ: শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, জাপান-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। মুক্তিযুদ্ধের সময় জাপান সহায়ক বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়ে আমাদের সহায়তা করেছে। 

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই জাপানের জাইকা, পেট্রোবাংলার মাধ্যমে আমাদের দেশে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জাপান আমাদের দেশে শিল্প কারখানা বিকাশে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশ থেকে সাইকেল রপ্তানি হয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই বলছি ভবিষ্যতে এদেশ থেকে মোটরসাইকেলও রপ্তানি করা হতে পারে।  

রোববার (১১ নভেম্বর) দুপুরে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার বাউশিয়া এলাকার আব্দুল মোমেন অর্থনৈতিক অঞ্চলে হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড ফ্যাক্টরির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে হোন্ডার মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তারা ব্যবসায়ীক কাজে নিজেদের হোন্ডা ব্যবহার করতে পারছেন। হোন্ডা তৈরি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশেও রপ্তানি করা হবে। শুধু বাংলাদেশের ভেতরেই হোন্ডার কার্যক্রম সীমিত থাকবে না। অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানকার ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিগুলো অত্যন্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠান। সেই দিক থেকে তারা বিদেশে এক্সপোর্ট করতে পারবে।  

আমু বলেন, বাইরের দেশের আগ্রহ দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল সৃষ্টি করছেন। বিদেশিরা আমাদের দেশে বিনিয়োগ করবে। জাপানের চাহিদা অনুযায়ী তাদের একটি আলাদা ইকোনোমিক জোন দেওয়া হয়েছে। জাতির জনকের স্বপ্ন ছিলো একটি সুখী সমৃদ্ধি জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। আজকে সেই দিকে আমরা ধাবিত হচ্ছি। এবং এই ধাবিত হওয়ার পেছনে আজকে সবচেয়ে বেশি যার ইচ্ছাশক্তি কাজ করেছে তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখানে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে।  

জানা যায়, মুন্সিগঞ্জে ২৫ একর জমির ওপর প্রায় ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে যৌথভাবে এই ফ্যাক্টরি গড়ে তুলেছে হোন্ডা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন। ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ১ বছর ধরে নির্মিত এই ফ্যাক্টরি মূল জমির প্রায় এক তৃতীয়াংশ জুড়ে অবস্থান করছে। প্রাথমিকভাবে এই ফ্যাক্টরিতে বছরে এক লাখ মোটরসাইকেল উৎপাদন সম্ভব।  

২০২১ সালের মধ্যে বছরে ২ লাখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমানে ৩৯০ জন কর্মী নিয়ে শুরু হয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটি। হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের ৭০ শতাংশ মালিকানা জাপানি হোন্ডা কোম্পানি লিমিটেডের, আর বাকি ৩০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা বাংলাদেশ স্টিল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের।  

এসময় উপস্থিত ছিলেন- ইন্টার-পার্লামেন্ট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইজুমি প্রমুখ।  

বাংলাদেশ সময়: ১৮২৩ ঘণ্টা, নভেম্বর ১১, ২০১৮
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।