ঢাকা: পাহাড়ি গরিলা পৃথিবীর বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে অন্যতম। তবে সেদিক থেকে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ভিরুনগা পর্বতের ভিরুনগা ন্যাশন্যাল পার্কের গরিলারা বেশ ভালোই রয়েছে।
এ অঞ্চলে গোটা কতক গরিলা হত্যাও হয়েছে গত কয়েক বছরে। তাছাড়া অাশপাশের অঞ্চলের অধিবাসীদের রান্নার লাকড়ির জোগাড় দিতে বননিধন তো রয়েছেই। তবে এতোকিছুর পরেও পার্কের বনরক্ষকরা নিজের পরিবারের মতোই অাগলে রেখেছেন এখানকার গরিলাদের।
১৯৮৯ সালে সারা বিশ্বে পাহাড়ি গরিলার সংখ্যা ছিলো মাত্র ছয়শো ২০টি। বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এরা ছিলো প্রায় বিলুপ্তির পথে। কিন্তু আনন্দের খবর এই, এদের সংখ্যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে আটশো ৮০।
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক কঙ্গোর পাহাড়ি সীমানা, রুয়ান্ডা ও উগান্ডার চারটি ন্যাশন্যাল পার্কে রয়েছে গরিলাদের শেষ আশ্রয়স্থল। ভিরুনগা ন্যাশন্যাল পার্কের মাইকেনো পাহাড়ের চূড়ায় বর্তমানে বিচরণ করছে একশো ১৩টি গরিলা।
বিশ্বে পাহাড়ি গরিলার প্রথম দেখা মেলে এখন থেকে একশো বছর আগে। ১৯০২ সালে পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা তাদের আবিষ্কার করেন। তাদের দেহ লম্বা লোমে আবৃত, সমতলের গরিলাদের চেয়ে এদের দাঁত ও চোয়াল ছোট। বয়স্ক গরিলাদের পিঠ ও হিপে রূপালি লোম দেখা যায়। এরা সাধারণত পাহাড়ের আট হাজার ফুট থেকে ১৩ হাজার ফুট উঁচুতে থাকে।
পার্কের বনরক্ষক জন জানান, পাহাড়ি গরিলারা অনেক শক্তিশালী। মানুষের মতোই তারা নিয়ম মেনে চলে। সকালের প্রথম আলো ছড়িয়ে পড়ার পরপরই অর্থাৎ, স্থানীয় সময় সাড়ে পাঁচটার দিকেই ঘুম ভাঙে তাদের। ছয়টার দিকে তারা বের হয় খাবারের সন্ধানে। আশপাশ থেকে পাতা কুড়িয়ে খাওয়া শুরু করে গরিলারা।
গরিলারা বনের প্রতিটি গাছই চেনে। তারা মিষ্টি স্বাদের পাতা খেতে পছন্দ করে। বিশেষ করে বাঁশপাতা গরিলাদের প্রিয়। এছাড়াও তাদের খাবার তালিকায় রয়েছে পিঁপড়া। জানান জন।
মানুষের সঙ্গে গরিলাদের প্রধান মিলগুলো হলো- এরা দলবদ্ধ হয়ে থাকতে ভালোবাসে, ভদ্র ও একে অপরের প্রতি সহানভূতিশীল।
পাহাড়ি গরিলাদের বাঁচিয়ে রাখতে দেশটির বনরক্ষকদের ভূমিকা অনেক। একবার এক মা গরিলাকে মেরে ফেলা হয়। এতে তার বাচ্চারা এতিম হয়ে পড়ে। তখন আন্দ্রে বাউমা নামের এক বনরক্ষক গরিলা শিশুদের মায়ের স্থান পূরণ করেন।
আন্দ্রে জানান, শিশু গরিলাদের মা থাকলে যা যা করতো আমিও তাদের জন্য তা করি। তাদের খাবার দেওয়া, সঙ্গ দেওয়া ও তাদের সঙ্গে খেলি।
শুধু আন্দ্রে বা জনই নন, এখানকার বনরক্ষকরা গরিলাসহ অন্য বন্যপ্রাণিদের স্বাভাবিক জীবন-যাপনে সহায়তা করে আসছেন। তাদের কথা- গরিলা হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী আমরা। মা ছাড়া এতিম গরিলাদের দায়িত্ব এখন আমাদের। আমরা তাদের বনে একা ছেড়ে দিতে পারি না।
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।
বাংলাদেশ সময়: ০০৫৪ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৯, ২০১৫
এসএমএন/এএ