ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৮ মে ২০২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৪৫

ফুটবল

অর্থ চুরিতে ক্ষুব্ধ, মেয়েদের জেলে পুরতে চান ম্যারাডোনা

স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৩৭ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৬, ২০১৭
অর্থ চুরিতে ক্ষুব্ধ, মেয়েদের জেলে পুরতে চান ম্যারাডোনা ছবি: স্বপরিবারে ম্যারাডোনা

আর্জেন্টিনার ফুটবল গ্রেট দিয়েগো ম্যারাডোনার খেলোয়াড়ি জীবন কম বিতর্কিত ছিল না। ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি, মাদকাসক্তির কারণে সমালোচিত হয়েছিলেন। তবে, দেশকে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দিয়ে রাজার আসনে বসলেও তার আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ হয় মাদকাসক্তির কারণেই।

বার্সেলোনায় থাকাকালীন মাদকের ভয়াবহ থাবায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ম্যারাডোনা। পরবর্তীতে অনেকবারই তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘আমার জীবনে নেওয়া সবচেয়ে বাজে সিদ্ধান্ত ছিল ওটা।

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণের অনুভূতি আমি খুব কাছ থেকে পেয়েছি। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ তিনি আমাকে ফিরিয়ে এনেছেন। মাদকের ভয়াবহ থাবায় যখন আমি কোমায় ছিলাম তখন আমার মেয়েরা প্রার্থণা করেছিল যেন তাদের জন্য বেঁচে থাকি। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ কারণ তিনি তাদের কথা শুনেছেন এবং আমাকে জাগিয়ে তুলেছিলেন। ’

নিজের সেই মেয়েদের বিরুদ্ধেই গত অক্টোবরে মারাত্মক অভিযোগ তুলে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ফুটবলের রাজপুত্র ম্যারাডোনা। ১৯৮৬-এর বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের অভিযোগ তার দুই মেয়ে চোর। তার অভিযোগে জানানো হয়, তাকে অন্ধকারে রেখে মেয়ে ডালমা এবং জিয়ানিনা তার প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন পাউন্ড উরুগুয়ের একটি ব্যাংকে ট্রান্সফার করে নিয়েছেন। ২০০০ সাল থেকে ২০১৫ সালের ভেতরে এই অর্থ মেয়েরা সরিয়েছে বলে জানান আর্জেন্টাইন ফুটবলের কিংবদন্তি। মেয়েদের সাথে তার সাবেক স্ত্রী ক্লদিয়া ভিল্লাফান জড়িত ছিলেন বলে জানান ম্যারাডোনা। মাদকসেবী ম্যারাডোনাকে ২০০৩ সালে ছেড়ে চলে যান ক্লদিয়া।

দুই মেয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ম্যারাডোনা। এর আগে বান্ধবি রকিও অলিভিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার প্রতারনার অভিযোগ তুলেছিলেন ৫৭ বছর বয়সী ম্যারাডোনা।

এত টাকা তার মেয়েরা কি করেছেন এমন প্রশ্নে ম্যারাডোনার আইনজীবী সংবাদমাধ্যমে জানান, ‘ম্যারাডোনা জানিয়েছে তার অজান্তে মেয়েরা এই অর্থ সরিয়ে আমেরিকায় অনেক সম্পত্তি করেছে। তিনি চাইছেন মেয়েদের জেলে ঢুকাতে। তার মেয়ে ২৮ বছর বয়সী জিয়ানিনা উরুগুয়েতে থাকাকালীন এই চুরির কাজে জড়িত ছিল বলে আমাদের কাছে প্রমাণ আছে। ম্যারাডোনা জানে তার মেয়ের একটি উরুগুইয়ান ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে আর সেটা থেকেই চুরি যাওয়া অর্থ অন্যত্র সরিয়েছে তার আরেক মেয়ে ডালমা। আর দুই মেয়ের সঙ্গেই পুরো কাজে জড়িত ছিল ম্যারাডোনার সাবেক স্ত্রী ক্লদিয়া। ’

ম্যারাডোনার আইনজীবী আরও যোগ করেন, ‘আমাদের কাছে একাধিক প্রমাণাদি রয়েছে। মামলার অবস্থা এমন যে আমরা খুব দ্রুতই ম্যারাডোনার ইচ্ছেতেই তার মেয়েদের জেলে ঢুকাতে চাই। তবে, মেয়েরা চুরির টাকা ফেরত দিলে ম্যারাডোনা তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন। ’

ম্যারাডোনার মেয়ে জিয়ানিনা এই চুরির কথা অস্বীকার করে জানান, ‘তারা বেশ ভালো করেই জানে আমি কোথায় থাকি। তারা যেকোনো সময় আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে আমি তাদের আমন্ত্রণ জানাবো। আমি ভালো আছি। আগেও বাবার সব দোষ আমি ভুলে গেছি। এবারো তাই হবে। ’

ম্যারাডোনা তার বান্ধবী অলিভিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের যে মামলা করেছিলেন সেটারও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৬ ঘণ্টা, ২৬ নভেম্বর ২০১৭
এমআরপি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।