ঢাকা, শুক্রবার, ২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বিশ্ব নেতাদের 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮২৮ ঘণ্টা, এপ্রিল ৩, ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বিশ্ব নেতাদের 

যুক্তরাষ্ট্রের সব পণ্যতে নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে চীন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, কানাডসহ ইতালি, ফ্রান্স, স্পেনের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক আরোপে ‘হতবাক’ মার্কিনমিত্র ইসরায়েলও।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্য, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট ‘দয়া’ দেখিয়েছেন।

শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ‘বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেইন।  

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকালে এক বিবৃতিতে ভন ডার লেইন বলেন, আমদানির ওপর নতুন শুল্ক আরোপের কারণে ‘অনিশ্চয়তা বাড়বে’, যা ‘বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের জন্য মারাত্মক’ পরিণতি ডেকে আনবে। এতে সবচেয়ে দুর্বল দেশগুলোর ওপর নেতিবাচব প্রভাব পড়বে। কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপরই যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারে দেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের একজনের বিরুদ্ধে যাওয়া মানে আমাদের সবার বিরুদ্ধেই যাওয়া’।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে চীন রীতিমতো ‘পাল্টা দৃঢ় পদক্ষেপ’ নেবে বলে হুমকি দিয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ শুল্কের ওপরে আরও ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার ফলে মোট শুল্ক গিয়ে দাঁড়ায় কমপক্ষে ৫৪ শতাংশ।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিলম্বে শুল্ক বাতিল’ করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে যে, চীন ‘নিজস্ব অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা দৃঢ়ভাবে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ’

যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ৩২ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তাইওয়ান। তারা ট্রাম্প সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘একেবারে অযৌক্তিক’ অভিহিত করে তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জং তাই বলেছেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাব।

জাপানের ওপর ২৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। বিষয়টি ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ অভিহিত করেছে দেশটি। জাপান শঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং মার্কিন-জাপান চুক্তিগুলো লঙ্ঘন করতে পারে।  

২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় ‘বাণিজ্য সংকট কাটানোর’ উপায় খুঁজবে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধ একটি বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হান ডাক-সু। অন্যদিকে থাইল্যান্ড বলেছে, তারা তাদের ওপর ৩৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে আলোচনা করবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্প আরোপের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপের দেশগুলোও। ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে ‘ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তবে তিনি ‘বাণিজ্য যুদ্ধ প্রতিরোধ করতে’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়ে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্পেন একটি উন্মুক্ত বিশ্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। আয়ারল্যান্ডে টাওইসেক মিচেল মার্টিন বলেছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ভীষণ দুঃখজনক এবং কারো জন্যই লাভজনক নয়।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার এলিসি প্রাসাদে নতুন শুল্ক আরোপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িক খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে ১৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ হওয়ায় ‘সম্পূর্ণভাবে হতবাক’ হয়ে পড়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় গণমাধ্যমকে ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি শুল্ক পুরোপুরি বাতিল করার সিদ্ধান্ত এই পদক্ষেপকে প্রতিরোধ করবে। ’ 

যে দেশগুলো সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ বা তার কম শুল্কের আওতায় পড়েছে, সেসব দেশের নেতারাও ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ বলেছেন, এই ‘অন্যায় শুল্ক আরোপের’ জন্য আমেরিকানদের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে। আমরা এমন একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেব না, যার কারণে জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যাবে এবং প্রবৃদ্ধি ধীর করে দেবে।

দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ ব্রাজিল বুধবার কংগ্রেসে একটি আইন অনুমোদন করেছে যা ট্রাম্পের আরোপ করা ১০ শতাংশ শুল্কের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।

এদিকে সীমান্ত সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার দেশ দুটির নাম উল্লেখ না করা হলেও এই ২৫ শতাংশই থাকছে দেশ দুটির জন্য।

এ বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি বলেছেন, শুল্ক আরোপের কারণে কানাডার ওপর এখনো প্রভাব পড়বে। এই শুল্কগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের মাধ্যমে লড়াই করার কথা জানান তিনি।

শুল্ক আরোপের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার দেখা গেলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধির কথাই এসেছে। বুধবার তিনি বলেছেন, এই শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশীলতা বাড়বে। এই পদক্ষেপ আমেরিকাকে আবারও ধনী করে তুলবে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের শুল্ক আরোপ চীনের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপ ছিল। কারণ চীন, মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে। মার্কিন বাণিজ্যে ‘শুল্ক বহির্ভূত’ বাধা আরোপ করেছে। সেইসঙ্গে চীন এমনভাবে কাজ করেছে, যা আমেরিকান অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলোকে দুর্বল করে।

সূত্র: বিবিসি

বাংলাদেশ সময়: ১৮২১ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৩, ২০২৫
এসএএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।