ঢাকা, বুধবার, ২০ আশ্বিন ১৪২৯, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাক্ষাৎকার

বাংলানিউজে প্রকাশিত ড. কাজী ফারুকের সাক্ষাৎকারের প্রতিবাদের প্রতিবাদ

নিউজ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২১৮ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০২২
বাংলানিউজে প্রকাশিত ড. কাজী ফারুকের সাক্ষাৎকারের প্রতিবাদের প্রতিবাদ

“প্রশিকা চেয়ারম্যান ড. কাজী ফারুকের সঙ্গে একটি সন্ধ্যা” শিরোনামে বাংলানিউজে তিন পর্বে একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। সেই সাক্ষাৎকারের প্রতিবাদ জানান প্রশিকার আইন বিভাগের পরিচালক বলে দাবি করা অ্যাডভোকেট মো. সোলায়মান।

 

গত ৪ আগস্ট ওই প্রতিবাদলিপি বাংলানিউজের সম্পাদক বরাবর পাঠানো হয়। অ্যাডভোকেট মো. সোলায়মানের দাবি, গত ২৯ জুলাই, ৩১ জুলাই এবং ০২ আগস্ট তারিখে বাংলানিউজে প্রকাশিত তিন পর্বের সাক্ষাৎকারে যে শিরোনাম ব্যবহার করা হয়েছে, তা আইনগতভাবে বৈধ নয়।  কেননা ড. কাজী ফারুক আহম্মদ প্রশিকার চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারিত। তিনি প্রশিকার সাবেক চেয়ারম্যান।  

তাঁর সে প্রতিবাদলিপি আমরা যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছি ৭ আগস্ট ২০২২।

এবার অ্যাডভোকেট মো. সোলায়মানের সেই প্রতিবাদলিপির যুক্তি খণ্ডন করে প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন জনাব আবু সাঈদ। তিনিও নিজেকে প্রশিকার আইন বিভাগের পরিচালক বলে দাবি করেছেন।

গত ৭ আগস্ট রোববার তিনি বাংলানিউজের সম্পাদক বরাবর ওই প্রতিবাদলিপি পাঠান। এতে তিনি দাবি করেন, “প্রশিকার চেয়ারম্যান ড. কাজী ফারুকের সঙ্গে একটি সন্ধ্যা” শিরোনামে প্রকাশিত ও প্রচারিত সাক্ষাৎকারের প্রতিবাদকারী মো. সোলায়মান ২৯/১০/২০১৪ তারিখে বরখাস্ত হয়েছেন। তাঁর প্রতিবাদলিপিতে এক বর্ণও সত্য নেই, সবটাই মিথ্যা।

জনাব আবু সাঈদ স্বাক্ষরিত সেই প্রতিবাদলিপি এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো:

মহোদয়,
আপনার অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আপনার পত্রিকায় “প্রশিকার চেয়ারম্যান ড. কাজী ফারুকের সঙ্গে একটি সন্ধ্যা” শিরোনামে প্রকাশিত ও প্রচারিত সাক্ষাৎকারের প্রতিবাদকারী মোঃ সোলায়মান প্রশিকা থেকে দুর্নীতি, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, বিশৃঙ্খলা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সিরাজুল ইসলামসহ বরখাস্তকৃত কতিপয় ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করার অপরাধে ২৯/১০/২০১৪ তারিখে বরখাস্ত হয়েছেন (সংযুক্তি)। প্রতিবাদলিপিতে এক বর্ণও সত্য নেই, সবটাই মিথ্যা।

মামলার সই মুহুরি নকল সংগ্রহ না করেই সম্পাদক মহোদয় সাক্ষাৎকারটি ছাপিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। অথচ তিনি তাঁর প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখিত হাইকোর্টের সিআর ২৩২৩/২০০৯, আপিল বিভাগে ১৬৯৭/২০০৯ মামলার সই মুহুরি নকল কপি সংযুক্ত করেননি। যদি তিনি তা সংযুক্ত করতেন তাহলে দেখা যেত তিনি কতবড় মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।  

প্রতিবাদলিপিতে তিনি প্রশিকার প্যাড ব্যবহার করেছেন, অথচ সেই প্যাডে কোনো ঠিকানা ও ফোন নম্বরের উল্লেখ নেই। প্রশিকার প্রধান কার্যালয়ের রেজিস্টার্ড ঠিকানা হলো: প্রশিকা ভবন, আই/১-গ, সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬। অতএব প্যাডে ঠিকানা ও ফোন নম্বর না দেওয়া একটা প্রতারণামূলক কাজ। প্রতিবাদকারী মোঃ সোলায়মান ও সিরাজুল ইসলামদের প্রশিকায় যে আদৌ কোনো অবস্থান নেই, এটা তাঁরা নিজেরাই প্রমাণ করেছেন।

মোঃ সোলায়মান, সিরাজুল ইসলাম গং মিরপুর, বড়বাগ, জনতা হাউজিং-এ একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে প্রশিকার নামে একটি নকল অফিস খুলে যে প্রতারণা ও দুর্নীতিমূলক কাজ করে যাচ্ছেন, সেকথাই ড. কাজী ফারুক আহম্মদ তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেছেন।  

এ-বিষয়ে প্রতিবাদকারীরা কোনো প্রতিবাদ করেননি। অতএব এ থেকেই প্রতীয়মান হয়, ড. কাজী ফারুক আহম্মদ সাক্ষাৎকারে যা বলেছেন তা শতভাগ সত্য। ড. কাজী ফারুক আহম্মদের করা ঘোষণামূলক ৩০২/২০০৯ (পরবর্তীতে ৩৯/২০১০) মামলায় নিম্ন আদালত ওয়াদুদ, মাহাবুবুল করিমের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা না দিলে তিনি এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ২৩২৩/২০০৯ মামলা করেন। নিম্ন আদালতের মাননীয় বিচারক নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার হাইকোর্ট দুটি আদেশ বাতিল (Set aside) করে স্ট্যাটাসকো প্রদান করেন। হাইকোর্টের রায়ের একটি অবজারভেশনে ড. কাজী ফারুক আহম্মদকে “Former Chairman and Former President” উল্লেখ করায় তিনি আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেন। তখন  আপিল বিভাগের মাননীয় বিচারক হাইকোর্টের এই অবজারভেশনটি স্থগিত করে দেন।  

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে লিভ টু আপিল শুনানী শেষে হাইকোর্টের এই অবজারভেশন এক্সপাঞ্জড হয়ে যায় এবং আপিল বিভাগ হাইকোর্টের এই অবজারভেশনকে আমলে না নিয়ে নিম্ন আদালতের বিচারককে স্বাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারকার্য সম্পাদন করতে নির্দেশ দেন। অতএব ২৩২৩/২০০৯ মামলায় হাইকোর্টে ড. কাজী ফারুক আহম্মদের আংশিক বিজয় এবং আপিল বিভাগে ১৬৯৭/২০০৯ মামলায় পূর্ণ বিজয় হয়েছে।

মাহাবুবুল করিম, এম.এ. ওয়াদুদ এই মামলায় পরাজিত হওয়ার পর প্রশিকার প্রধান কার্যালয়, প্রশিকাভবনের চাবি অর্থাৎ দখল চেয়ে ৩৯৩/২০১০ রিট মামলা হাইকোর্টে করেন এবং একটি অস্থায়ী আদেশ পান।

এই আদেশের বিরুদ্ধে ড. কাজী ফারুক আহম্মদ আপিল বিভাগের চেম্বার জজের আদালতে ৩৪/২০১০ মামলা করলে মাননীয় বিচারক হাইকোর্টের উক্ত আদেশ স্থগিত করে লিভ টু আপিল করার নির্দেশ দিলে ড. কাজী ফারুক আহম্মদ লিভ টু আপিল (১৩৭/২০১০) দায়ের করেন। লিভ টু আপিল শুনানী শেষে তিনি সিভিল আপিল করার অনুমোদন পান। সে অনুযায়ী সিএ ১২০/২০১০ আপিল দায়ের করেন। পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানী শেষে আপিল বিভাগ নির্দেশ দেন যে, রিট পিটিশন ফাইল করার দিনে যার দখলে যা যা ছিল তা-ই থাকবে। এই নির্দেশ অনুযায়ী ওয়াদুদ, মাহাবুবুল করিম গংদের কোনো দখলই ছিল না এবং থাকবেও না। বরং ড. কাজী ফারুক আহম্মদের দখল ছিল এবং থাকবে। অতএব আপিল বিভাগের তিনটি মামলাতেই ড. কাজী ফারুক আহম্মদ জয়লাভ করলেন।

এরপর প্রশিকাভবনের দখল না পেয়ে ওয়াদুদ, মাহাবুবুল করিমরা ২৭ মে, ২০১২ তারিখে জোরপূর্বক স্ট্যাটাসকো ভঙ্গের অভিযোগ এবং শাস্তিবিধানের আবেদন করে হাইকোর্টে মাননীয় বিচারক শেখ আব্দুল আউয়ালের বেঞ্চে একটি ভায়োলেশন মামলা করেন। মাননীয় বিচারক ‘‘The application for drawing up proceedings appears to be without any substance and the same is hereby rejected” বলে শুনানী শেষে ১৪/০৮/২০১২ তারিখে আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর তাঁরা ৩/৪/২০১৩ তারিখে মাননীয় বিচারপতি এ.এফ.এম. আলী আজগরের বেঞ্চে একই অভিযোগ করেন। শুনানী শেষে মাননীয় বিচারক “Let this matter go out of list” বলে তাঁদের আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর একই অভিযোগ নিয়ে তাঁরা বিচারপতি মোঃ আব্দুল হাফিজের বেঞ্চে ১৩/০১/২০১৬ তারিখে একটি আবেদন করেন। মাননীয় বিচারক শুনানী শেষে “Accordingly, this application is rejected as not being pressed” বলে খারিজ করে দেন। হাইকোর্টে এই তিনটি মামলাতেই ড. কাজী ফারুক আহম্মদ জয়লাভ করেন।

এম.এ. ওয়াদুদ, মাহাবুবুল করিম একই ভায়োলেশনের অভিযোগ করে বিচারপতি চাকলাদারের কোর্টে রুল পান। এই রুলের শুনানী করেন মাননীয় বিচারপতি মিজানুর রহমান। তিনি ড. কাজী ফারুকের বিরুদ্ধে তিন দিনের জেল, জরিমানা ও প্রধান কার্যালয়ের চাবি হস্তান্তর করতে আদেশ দেন। এই রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে ড. কাজী ফারুক আহম্মদ আপিল বিভাগের চেম্বার জজের কাছে আবেদন করলে বিচারপতি মিজানুর রহমানের দেওয়া রায় ও আদেশ চেম্বার জজ স্থগিত করে দিয়ে তাঁকে লিভ টু আপিল দায়ের করতে বলেন। সেই অনুযায়ী তিনি ৩৩০১/২০১৬ দায়ের করেন। আপিল বিভাগ পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানীর পর বিচারক মিজানুর রহমানের রায় ও আদেশ মাননীয় বিচারপতিগণ বাতিল (Set aside) করে দেন।

অতএব আপিল বিভাগের দুটি রায়ই ড. কাজী ফারুক আহম্মদ নিজের অনুকূলে পেয়েছেন। এরপর ওয়াদুদ গং বিচারপতি মুজিবুর রহমানের কোর্টে পুনঃশুনানী করলে রায় তাঁদের পক্ষে যায়। ওই রায়ে ৬টি অসংগতি ও অসত্যতা রয়েছে মর্মে ড. কাজী ফারুক আহম্মদ চেম্বার জজের আদালতে রায়টি স্থগিত করার আর্জি জানিয়ে ৭৯/২০১৮ আবেদন করেন। মাননীয় বিচারক হাইকোর্টের রায়টি স্থগিত করে দেন এবং লিভ টু আপিল দায়ের করতে বলেন। সে অনুযায়ী ড. কাজী ফারুক আহম্মদ লিভ টু আপিল ১৮৩৯/২০১৮ দায়ের করেন, যা শুনানীর অপেক্ষায় আছে।  

প্রসঙ্গত, অভিযোগকারী আব্দুল ওয়াদুদ (২/৫/২০২০ তারিখে) এবং মাহাবুবুল করিম (৮/৫/২০১৬ তারিখে) মৃত্যুবরণ করায় হাইকোর্টের রুলের কার্যকারিতা আর নেই। অতএব আপিল বিভাগের একটি রায় ড. কাজী ফারুক আহম্মদ পেয়েছেন এবং একটি স্থগিত আছে।

৩০২/২০০৯ মামলায় নিম্ন আদালতে স্বাক্ষী বয়ান করেন যে, ২৪/৫/২০০৯ তারিখে কথিত প্রশিকার গভর্নিং বডির যে মিটিংয়ে ড. কাজী ফারুক আহম্মদকে অপসারণ করা হয়েছে বলে মাহাবুবুল আলম দাবি করেছেন, সেই মিটিং আদৌ অনুষ্ঠিত হয়নি এবং মাহাবুবুল করিম সাক্ষীর কাছ থেকে প্রশিকার কয়েকটি জমির দলিল জোরপূর্বক নিয়ে নেন। নিম্ন আদালতে হেরে গিয়ে মাহাবুবুর করিম স্বাক্ষীর এই বয়ানটি বাতিলের জন্য হাইকোর্টে ৩১৫৪/২০১২ মামলাটি করেন। মাহাবুবুল করিমের মৃত্যুর পর সিরাজুল ইসলাম বাদী হন এবং ড. কাজী ফারুক আহম্মদ প্রশিকার জমি জায়গা ভবন বিক্রয়, হস্তান্তর, লিজ ও ভাড়া যাতে দিতে না পারেন সেই মর্মে ছয় মাসের একটি নিষেধাজ্ঞা পান। হাইকোর্টে এই ৩১৫৪ মামলার শুনানী শেষে মাননীয় বিচারক মেরিট নেই মর্মে আবেদনটি খারিজ করে দেন এবং ড. কাজী ফারুকের বিরুদ্ধে দেওয়া নিষেধাজ্ঞাটি ভ্যাকেট করে দেন।

এই মামলার রায়ে ২৪/০৫/২০০৯ তারিখে ওয়াদুদ, মাহাবুবুল করিমের তথাকথিত গভর্নিং বডির মিটিং মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে প্রমাণিত হয়েছে। সিরাজুল ইসলাম হাইকোর্টের এই রায় স্থগিত চেয়ে এবং ড. কাজী ফারুক আহম্মদ যাতে জমি, জায়গা, ভবন বিক্রয়, হস্তান্তর, লিজ ও ভাড়া দিতে না পারেন এই মর্মে একটি নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করে ৪৮৬/২০২০ আপিল বিভাগে একটি আবেদন পেশ করেন। শুনানী শেষে মাননীয় বিচারপতি সিরাজুল ইসলামের পক্ষে আদেশ না দিয়ে ‘নো-অর্ডার’-এর মাধ্যমে আবেদনটি খারিজ করে দেন।  

উল্লেখ্য, ড. কাজী ফারুক আহম্মদ এম.এ. ওয়াদুদের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে ১৮৩৯/২০১৮ যে লিভ টু আপিল করেছিলেন সেই মামলার উপরে সিরাজুল ইসলাম, রোকেয়া ইসলাম প্রশিকার জমি জায়গা, ভবন হস্তান্তর, বিক্রয়, লিজ ও ভাড়া এবং  ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ যাতে ড. কাজী ফারুক আহম্মদ দিতে না পারেন সেই মর্মে একটি ইনজাংশন আদেশ প্রার্থনা করেন। শুনানী শেষে আপিল বিভাগ ”Let the matter go out of list” বলে তাঁদের আবেদন খারিজ করে দেন। অতএব হাইকোর্টে ৩১৫৪/২০১২, আপিল বিভাগে ৪৮৬/২০২০ এবং ১৮৩৯/২০১৮ মামলায় ড. কাজী ফারুক আহম্মদ জয়লাভ করেছেন।

অতএব উপরোক্ত তথ্য থেকে প্রমাণ হয় যে, ৩০২/২০০৯ থেকে হাইকোর্টে ৮টি মামলা এবং আপীল বিভাগে ১১টি মামলা উদ্ভূত হয়েছে বলে ড. কাজী ফারুক আহম্মদ সাক্ষাৎকারে যা বলেছেন, তা শতভাগ সত্য।  হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের মোট ১৯টি মামলার ১৮টি তে ড. কাজী ফারুক আহম্মদ জয়লাভ করেছেন এবং একটি মামলা স্থগিত আছে----এই বক্তব্যও শতভাগ সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে।

প্রতিবাদকারী মোঃ সোলায়মান দুই নম্বর পয়েন্টে বলেছেন বলেছেন: “কাজী ফারুকের দায়েরকৃত ঘোষণামূলক মামলার নাম্বার কত, কোন আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার ফলাফল/রায় কী হলো তা না বলে তিনি ঐ মামলা থেকে কতটি মামলার উদ্ভব হয়েছে এবং তার মধ্যে ১টি স্থগিত আছে। বাকীগুলিতো তিনি জিতেছেন। তার এসব বক্তব্য সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও তঞ্চকতামূলক বটে”।

উপরে উল্লেখিত হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের রায় ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মোঃ সোলায়মানের বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের রায় ও আদেশ গোপন করা, বিকৃত করা ও মিথ্যাভাবে উপস্থাপন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একথা একজন আইনজীবী হিসাবে প্রতিবাদকারী মোঃ সোলায়মানের নিশ্চয় জানা আছে।

প্রতিবাদকারী মোঃ সোলায়মান হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে কোনো রায়ের কপি, বিশেষ করে উল্লেখিত ২৩২৩/২০০৯, ১৬৯৭/২০০৯ রায় ও আদেশের কপি, সংযুক্ত করেননি। এ-থেকেই প্রতীয়মান হয়, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের কোনো মামলাতেই সোলায়মান গং জয়লাভ করেনি।  

হাস্যকর বিষয় হলো, মিরপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শকের (তদন্ত) রিপোর্টটি মো: সোলায়মান তাঁর প্রতিবাদলিপিতে সংযুক্ত করে দিয়েছেন। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায় ও আদেশ মিথ্যাভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি প্রশিকার প্যাড, ক্যালেন্ডার ও ডায়েরি ছাপিয়ে মিরপুরের বড়বাগে প্রশিকার নামে নকল অফিস ভাড়া নিয়ে, জনগণকে প্রতারিত করে অর্থ-আত্মসাৎ করছেন মর্মে সিরাজুল ইসলামদের বিরুদ্ধে আনীত যে অভিযোগ, সেটির কোনো তদন্ত না করেই সিরাজদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মিথ্যা রিপোর্ট পেশ করেছেন।  

এর বিরুদ্ধে কোর্টে অভিযোগ করা হলে কোর্ট এই অভিযোগে একটি সিআর মামলা করতে বলেন, যাতে মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো রকম পুলিশি তদন্তের প্রয়োজন হবে না, ডকুমেন্টের ভিত্তিতেই মামলা গ্রহণ করা যাবে। সেই অনুযায়ী সিরাজুল ইসলামসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন কোর্টে সিআর ৪৩৭/২০২২ মামলা দায়ের করা হয়। কোর্ট এই মামলা আমলে নিয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন এবং অভিযুক্তরা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে উক্ত মামলায় হাজিরা দিচ্ছেন।  

প্রতিবাদকারী মোঃ সোলায়মান দাবি করেছেন, তাঁরা এম.আর.এ-এর (মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি) কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন দায়ের করছেন। এই দাবিটিও সর্বৈব মিথ্যা। কেননা প্রশিকার প্রধান কার্যালয়ে তাঁদের কোনো অবস্থান বা উপস্থিতি নেই।

ওয়াদুদ, মাহাবুবুল করিম সকল মামলায় পরাজিত হয়েছেন এবং এরইমধ্যে তাঁরা মৃত্যুবরণও করেছেন। সিরাজুল ইসলাম নিজেকে প্রশিকার প্রধান নির্বাহী বলে দাবি করে ৩১৫৪/২০১২ এবং ৪৮৬/২০২০ মামলায় হেরে গেছেন। তাই তাঁর এই দাবিটিও মিথ্যা বলে প্রমাণিত। অতএব, এম.আর.এ-এর (মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি) কাছে প্রতিবাদকারী মোঃ সোলায়মান ও সিরাজুল ইসলামের রিপোর্ট দেওয়ার বৈধতাই নেই।  

এছাড়া সিরাজুল ইসলাম, রোকেয়া ইসলাম ৩০২ /২০০৯ মামলায় পক্ষভূক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করে সফল হতে পারেননি। হাইকোর্টে ড. কাজী ফারুক আহম্মদের দায়ের করা ৩৩৩৪/২০১৫ রিট পিটিশন মামলায় পক্ষভূক্ত হওয়ার জন্য তাঁরা আবেদন করেছিলেন। শুনানী শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ উক্ত আবেদন নথিভূক্ত করে খারিজ করে দেন (রায়ের সার্টিফায়েড কপি আমাদের কাছে রয়েছে)।  

উল্লেখ্য, ৩০২/২০০৯ (বর্তমানে ৩৯/২০১০) এই মামলার তিনজন সাক্ষী তাঁদের বয়ানে উল্লেখ করেন, ২৪/০৫/২০০৯ তারিখের তথাকথিত গভর্নিং বডির কথিত যে মিটিং-এর মাধ্যমে ড. কাজী ফারুক আহম্মদকে প্রশিকার চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করে ওয়াদুদ, মাহাবুবুল করিম ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই মিটিং আদৌ অনুষ্ঠিত হয়নি। তথাকথিত সেই গভর্নিং বডির ওই সময়ের তিনজন সদস্য শাহজাহান হাওলাদার, গোলাপী বেওয়া ও শেখ সুলতান লিখিত জবাব ও হলফানামায় বলেন, ২৪/০৫/২০০৯ তারিখে গভর্নিং বডির কথিত মিটিংটি আদৌ নুষ্ঠিত হয়নি। কোনো নোটিশও তাঁরা পাননি। মাহাবুবুল করিম রিপোর্টার্স ইউনিটিতে তাঁদের ডেকে নিয়ে গিয়ে প্রতারণামূলকভাবে স্বাক্ষর আদায় করেছেন।

অতএব, ৩০২/২০০৯ (বর্তমান ৩৯/২০১০) এই মামলাটি চূড়ান্তভাবে কাজী ফারুকের পক্ষে নিষ্পত্তি হওয়ার সময়কে দীর্ঘায়িত করার জন্যই ওই মামলায় পক্ষভূক্ত হওয়ার আবেদন করেছেন এবং এরই মাঝে দেড় বছর প্রলম্বিত করে ফেলেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংক ও প্রশিকার মধ্যে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জামানতমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল ২০০১ সালে। ওই চুক্তি অনুযায়ী প্রশিকা রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে প্রায় ৪ হাজার কৃষকের মধ্যে ৯৪ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে। প্রশিকা ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৮৪ কোটি টাকা কৃষকদের কাছ থেকে আদায় করে রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংকে প্রদান করে। কিন্তু ২০১৪ সালে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস অবধি জাতীয় নির্বাচন বাতিল করার জন্য বিএনপি-জামায়াতের হরতাল, অবরোধ, অগ্নিসংযোগের ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল ঢাকায় এনে বিক্রি করতে পারেননি। একারণে তাঁরা আর্থিকভাবে ভীষণ ক্ষতির মুখে পড়েন। এ-কারণে তাঁরা ঋণের টাকা ফেরত দিতে পারেননি। এই বিষয়ে রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রশিকাকে জানায় যে, রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংক-কে প্রশিকা কয়েকটি ব্ল্যাংক চেক দিলে কৃষকদের ঋণ রি-শিডিউল করে দেওয়া হবে। অথচ  রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে করা চুক্তিতে কোনো জামানত দেওয়ার কথা ছিল না। এ-সত্ত্বেও চার হাজার কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে আবার ঋণ পাওয়ার দিকটি মাথায় নিয়ে প্রশিকার চেয়ারম্যান ড. কাজী ফারুক আহম্মদ ও প্রধান নির্বাহী কাজী খাজে আলমের স্বাক্ষরে চেক প্রদান করা হয়। রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংক তখন লিখিতভাবে জানায় যে, পরবর্তী সময়ে কোনো ঋণ ডিফল্ট (বকেয়া ঋণ) হলে তাঁরা অর্থঋণ আদালতে মামলা করবেন, এন.আই. অ্যাক্টে মামলা করবেন না।  

দুর্ভাগ্যবশত ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট আবারও জ্বালাও-পোড়াও, ঘেরাও, হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি দেয়। ফলে, এবারও কৃষকরা ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক তখন কৃষকদের ঋণ রি-শিডিউল করার জন্য প্রশিকার জমি বন্ধক দিতে বলেন। এবারও প্রশিকার চেয়ারম্যান হিসেবে ড. কাজী ফারুক আহম্মদ কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনা করে প্রশিকার জমি রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংকে বন্ধক দিতে সম্মত হন। এরপর রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এক অভিনন্দনপত্রে প্রতিশ্রুতি দেন যে, তাঁরা ঋণ রি-শিডিউল করবেন।

এই শর্ত অনুযায়ী প্রায় ৪০ কোটি টাকার অর্থমূল্যের সমপরিমাণ প্রশিকার জমির কাগজপত্র রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংকে জমা করা হয়। তখন তাঁরা জানালেন, জমি-জায়গার মূল্য পুনঃ নির্ধারণ করতে সময় লাগবে এবং এরপর বন্ধক গ্রহণ করে ঋণ রি-শিডিউল করা হবে। এতে আশ্বস্ত হয়ে আমরা অপেক্ষা করতে থাকি। বন্ধক নেওয়া সংক্রান্ত কাজের কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না দেখে ড. কাজী ফারুক আহম্মদ রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংক বরাবর চিঠি লেখেন এবং ফোনে যোগাযোগ করেন। তখন তাঁরা তাঁকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, এটা শিগগিরই হয়ে যাবে। ২০১৯ সালে একটি পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারা যায় যে, রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংকের মামলার রায় ড. কাজী ফারুক আহম্মদ ও কাজী খাজে আলমের বিপক্ষে গেছে।  

রাজশাহীর কোর্টে এই মামলা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংক ড. কাজী ফারুক আহম্মদকে অভিনন্দনপত্র দেওয়ার মাত্র ২২ দিন পরেই গোপনে এই মামলাটি করা হয়। মামলার নথিতে আরো দেখা যায়, ব্যাংক থেকে চেক ডিজঅনারের স্লিপ দেওয়া হয়নি। আরো দেখা যায়, রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংকের নোটিশের পোস্টাল রসিদে ড. কাজী ফারুক আহম্মদ/কাজী খাজে আলমের অফিসের বা বাসস্থানের কোনো ঠিকানা লেখা নেই।

যদি কোনো মামলায় আসামি আদালতে হাজির না হন সেক্ষেত্রে বহুল প্রচারিত দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে তা জনসমক্ষে প্রচারের বিধান রয়েছে। কিন্তু এ-বিষয়ে পত্রিকায় কোনো বিজ্ঞাপনই দেওয়া হয়নি। এইভাবে সকল নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এই মামলায় একতরফা রায় প্রদান করা হয়েছে। এই বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।  

চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের আরবিট্রেশন (Arbitration) বা সালিশি ছাড়াই রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মামলা করে চুক্তিভঙ্গ করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংক এবং প্রশিকার মধ্যে আরবিট্রেশনের চুক্তি অনুযায়ী একটি মীমাংসায় উপনীত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। শিগগিরই ঋণ নিয়মিত করা এবং দীর্ঘ মেয়াদি কিস্তিতে তা পরিশোধের ব্যবস্থা রেখে একটি সমঝোতা চুক্তি হতে যাচ্ছে। চুক্তিটি হওয়ার পর এই চুক্তির ভিত্তিতেই রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংক তাদের দায়ের করা  মামলা তুলে নেবে।  

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৬, তারিখ ১৮ই জুলাই ২০২২ “ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ ও পুর্নগঠন সংক্রান্ত মাস্টার সার্কুলার” জারি করেছেন (সংযুক্তি)। অতএব, রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংক ও প্রশিকার মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা চুক্তি এই সার্কুলারের আলোকে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পড়ুন: বাংলানিউজে প্রকাশিত ড. কাজী ফারুকের সাক্ষাৎকারের প্রতিবাদ

 

ড. কাজী ফারুকের তিন পর্বের সাক্ষাৎকার 
প্রথম পর্ব: প্রশিকা চেয়ারম্যান ড. কাজী ফারুকের সঙ্গে একটি সন্ধ্যা
দ্বিতীয় পর্ব: আগামী ১০ বছরে প্রতিটি গ্রামে অর্গানিক কৃষির প্রচলন করব, সরকারকে পাশে চাই
তৃতীয় পর্ব: প্রশিকা নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে, সরকারের সহযোগিতা চাই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa