ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২১ মে ২০২৪, ১২ জিলকদ ১৪৪৫

ইসলাম

চোখের সংযত ব্যবহারের সুফল

মাওলানা আবদুল জাব্বার, অতিথি লেখক, ইসলাম | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২১ ঘণ্টা, অক্টোবর ১১, ২০১৫
চোখের সংযত ব্যবহারের সুফল

চোখকে বলা হয় মনের আয়না। যে কোনো কাজ করার আগে চোখ প্রথমে তা দেখে এবং পরে মনকে প্রলুব্ধ করে।

তাই চোখের হেফাজত করা মানেই মনের হেফাজত করা। যাবতীয় অশ্লীল, হারাম ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে চোখের দৃষ্টিকে ফিরিয়ে রাখা এবং ভালো কাজের প্রতি চোখ খুলে রাখা ও দেখাই হচ্ছে চোখের কাজ।

আল্লাহতায়ালা সুন্দর অবয়ব দিয়ে মানুষকে পরম যত্নে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাঝে কুশলী স্রষ্টার অসাধারণ নৈপুণ্য পরিলক্ষিত হয়। আল্লাহর সৃষ্ট মানুষের প্রতিটি অঙ্গই অতীব প্রয়োজনীয়। কিন্তু চোখের গুরুত্ব একটু বেশি। মানুষের বোধ ও উপলব্ধির মাপকাঠি বলা হয় এ অঙ্গকে। অন্ধরাই কেবল এ নেয়ামতের যথার্থ মূল্য বুঝে। আল্লাহতায়ালা মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গুণের মধ্যে চোখের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। কারণ ঈমান ও বিশ্বাস স্থাপনের ক্ষেত্রে এ অঙ্গের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে।

আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে কারিমে সর্বোচ্চ পর্যায়ের অলঙ্কারসমৃদ্ধ ভাষায় বারবার চোখের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। এর উপকারিতার কথা বিভিন্নভাবে ব্যক্ত করেছেন। সেই উপকারিতা হচ্ছে, হেদায়েত ও ঈমান গ্রহণ করা, উপদেশ ও শিক্ষা হাসিল করা।

চোখের গুরুত্ব, ব্যবহারবিধি, প্রয়োগস্থল এবং সৃষ্টিগত তাৎপর্য অনেক বেশি। আমাদের এই বস্তুগত জীবনে চোখ যে কত জরুরি অঙ্গ এবং মহামূল্যবান নেয়ামত তা শুধু টের পাই তাদের দেখে যারা এ অঙ্গের অভাবে অন্ধ।

সৃষ্টির রূপ-রস ও সৌরভ উপভোগ করার অন্যতম উপকরণ চোখ। মূল্যায়ন বিচারে এর কোনো বিকল্প কিংবা অনুরূপ কোনো বস্তু হতে পারে না। এজন্য আমরা যারা সুস্থ ও নিখুঁত দেহের অধিকারী তাদের উচিত মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে বিনম্রভাবে কৃতজ্ঞতা আদায় করা। চোখের প্রয়োগে সতর্কতা অবলম্বন করা। গোনাহের সম্ভাবনা থেকে পর্যন্ত যথাসম্ভব হেফাজত থাকা।

আমাদের জীবন চলায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গোনাহের মধ্যে চোখের একটি বিশাল অংশ রয়েছে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) হাদিসে বার বার এ অঙ্গের গোনাহ সম্পর্কে উম্মতকে সতর্ক করেছেন। হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা চোখ ও কানের গোনাহ থেকে বেঁচে থাক। ’

বর্তমান সমাজে সংঘটিত গোনাহসমূহের মূল হিসেবে চোখকে দায়ী করা যায়। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দৃষ্টি হলো শয়তানের তীরগুলোর একটি। যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে, আল্লাহ তার অন্তরে এমন ঈমানের জ্যোতি সৃষ্টি করে দেন যে, সে তার মজা উপভোগ করে তাকে। ’
 
আমাদের সমাজে দুই ধরণের প্রতিবন্ধী রয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী ও মানসিক প্রতিবন্ধী। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। তারা দুনিয়ার আলো-বাতাস থেকে বঞ্চিত। ক্ষেত্রবিশেষ দৃষ্টিহীনতার কারণে তারা অন্যের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। সমাজে তাদেরকে ভালো চোখে দেখা হয় না। ফলে তাদের দুঃখের সীমা থাকে না। তবে সমাজে অনেকেই আছেন যারা দৃষ্টিহীনদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ান। তাদের অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন এবং তা দূর করতে এগিয়ে আসেন।

দৃষ্টিহীন ও কম দৃষ্টিসম্পন্নদের প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা অক্ষুন্ন থাকুক- এই প্রত্যাশা রইল।



বাংলাদেশ সময়: ২০২০ ঘণ্টা, অক্টোবর ১১, ২০১৫
এমএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।