ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৮ মে ২০২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৪৫

ইসলাম

স্বাগতম হিজরি নববর্ষ ১৪৩৭

মুফতি এনায়েতুল্লাহ, বিভাগীয় সম্পাদক, ইসলাম | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৪, ২০১৫
স্বাগতম হিজরি নববর্ষ ১৪৩৭

আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সে হিসেবে কাল শুরু হচ্ছে নতুন হিজরি বছর ১৪৩৭ সাল।

হিজরি নববর্ষকে জানাই খোশ আমদেদ- স্বাগতম।

বাংলা বছরকে আমরা যেমন সন বা সাল বলে থাকি, তেমনি আরবি বছরকে বলে থাকি হিজরি। গোটা মুসলিম জাতির ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক তথা তাহজিব-তমুদ্দুনিক আদর্শের ঐতিহ্যগত ভিত্তি হিসেবে হিজরি বর্ষের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। ধর্মীয় চেতনা একাত্মবাদের শিক্ষা, জিহাদ এবং অভিযান বিজয় ইত্যাদির প্রেক্ষাপটে হিজরি বর্ষের প্রচলন ও প্রবর্তন।

বিশ্ব মুসলমানের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, মমত্ব ও শ্রদ্ধাবোধের অনুপ্রেরণায় ইসলামি হিজরি বর্ষ প্রচার-প্রসার আজ ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়েছে। হিজরি বর্ষের প্রবর্তন মূলত হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) যে বছর মদিনায় হিজরত করেছিলেন অর্থাৎ ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ২৪ সেপ্টেম্বর মোতাবেক আরবি ১২ রবিউল আউয়াল মাসে এবং এ বছরেই ১ মহররম শুক্রবার থেকে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশক্রমেই হিজরি বর্ষ গণনা শুরু হয়। পরবর্তীকালে হজরত ওমর ফারুক (রা.)-এর খেলাফতকালের চতুর্থ বছর ১০ জমাদিউল আউয়াল ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দ হিজরি বর্ষ পদ্ধতিগত গণনার ভিত্তিতে প্রসার ও প্রচলনের অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সূচিত হয়। এ সময় থেকেই ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং আদর্শগত ঐতিহ্যের প্রেক্ষিতে হজরত আলী (রা.)-এর প্রস্তাবক্রমে মজলিসে শূরা অর্থাৎ পরামর্শ সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং হজরত ওসমান (রা.)-এর পরামর্শক্রমে ঐতিহ্যগত কারণে মহররম মাস থেকেই হিজরি বর্ষ গণনার প্রথম মাস হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

সন, সাল, অব্দ ইত্যাদির মতোই হিজরি বর্ষের বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্যসহ এর নিজস্ব মাস এবং দিন রয়েছে। হিজরি বর্ষের ঘটনাবলির নিরিখে আমরা হিজরি বর্ষের উৎস, তত্ত্ব, তথ্য সম্পর্কে অবহিত হতে পারি। বিশেষত হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় জন্মভূমি পবিত্র মক্কা ত্যাগ করা ছিল ইসলামের ইতিহাসে একটি মহা ঘটনা, যা ইসলামের বিজয়ের ইতিহাসেও বিশেষভাবে উজ্জ্বল এবং অবিস্মরণীয় ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। আর এ কারণেই হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরতের পবিত্রতাকে উপলব্ধি করে দিন, মাস, বর্ষ গণনার উদ্ভব। হিজরি নববর্ষ উদযাপনে গোটা বিশ্বের মুসলমান কম-বেশি উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকেন।

তবে শুধু উদযাপনের মধ্যে এ দিনটিকে সীমাবদ্ধ না রেখে বরং ইসলামি মূল্যবোধের মৌলিক দিকদর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে গোটা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য-সম্প্রীতিতে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্বব্যাপী আজ যে নৈরাজ্য, হানাহানি, সহজাত তা নিরসনে ইসলামের সুমহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা যেন একটি শান্তির বিশ্ব কায়েম করতে পারি। সেই লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের নানা ধরনের সমস্যা এবং নির্যাতনে মুসলিম উম্মাহকে অসহনীয় অবস্থার মধ্যে দারুণভাবে নিপতিত করেছে। এ অবস্থায় আহ্বান জানাই হিজরি নববর্ষ থেকে আমরা যাতে পরস্পর প্রীতির বন্ধন তথা সুনিবিড় আত্মীয়তার সম্পর্কে এগিয়ে আসতে পারি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ ও মঙ্গল কামনায় এবং আমাদের মুক্তি ও শান্তির লক্ষ্যে বৃহত্তর ঐক্য স্থাপনে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তার জীবনব্যাপী কথা ও কর্মের মাঝে মানবের জন্য যে আদর্শ রেখে গেছেন, হিজরি নববর্ষের এই দিনে আমাদের পারিবারিক এবং সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় জীবনে তার প্রতিফলনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। আমাদের সবার আগে মনে রাখতে হবে আমরা যে ভাষায়ই কথা বলি না কেন, ধর্মীয়ভাবে আমাদের প্রধান পরিচয় আমরা মুসলমান। সুতরাং একজন মুসলমানকে অবশ্যই মুসলিম চেতনাসমৃদ্ধ হতে হবে। আর এ কারণেই ইসলামের ঐশ্বর্যে সমুজ্জ্বল হিজরি সালকে মূল্যায়ন করে তা উদযাপনে উদ্যোগী হতে হবে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, আরবি হিজরি সালের প্রতিটি মাসই বিশেষভাবে তাৎপর্যমণ্ডিত। অতএব আমরা হিজরি নববর্ষে পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার দরবারে মোনাজাত করি-  হে মহান রাব্বুল আলামিন! সারাবিশ্বের মুসলমানকে সুখে-শান্তিতে-সমৃদ্ধিতে তাদের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবন মঙ্গল এবং বরকতময় করে তোলো। বিশ্বময় রক্তক্ষয়ী অবস্থা থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমিন।



বাংলাদেশ সময়: ২০০০ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৪, ২০১৫
এমএ

** পবিত্র আশুরা ২৪ অক্টোবর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।