ঢাকা, বুধবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৯ মে ২০২৪, ২০ জিলকদ ১৪৪৫

আইন ও আদালত

চাঁদপুরে ব্যবসায়ী নারায়ণ হত্যা মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৫৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ২১, ২০২৪
চাঁদপুরে ব্যবসায়ী নারায়ণ হত্যা মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

চাঁদপুর: চাঁদপুর শহরের ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র ঘোষকে (৬০) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামি রাজীব ওরপে রাজু চন্দ্র শীলকে (৩০) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুরের দিকে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মহসিনুল হক এ রায় দেন।  

দণ্ডপ্রাপ্ত রাজু কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার ফতেহাবাদ গ্রামের সুভাষ চন্দ্র শীলের ছেলে। ঘটনার সময় তিনি চাঁদপুর শহরের বিপনীবাগ বাজারের টিপটপ হেয়ার কার্টি সেলুনে কাজ করতেন।  

হত্যার শিকার নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ জেলা শহরের ঘোষ পাড়ার বাসিন্দা। তিনি শহরের বিপনীবাগসহ বিভিন্ন দোকানে দই ও মিষ্টি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ আসামি রাজুর সেলুনে যান। কারণ নারায়ণ চন্দ্র সুদে টাকা ঋণ দিতেন। রাজু তার কাছ থেকে দৈনিক ২০ টাকা সুদের বিনিময়ে ২ হাজার টাকা ঋণ নেন। নিয়মিত ওই সুদ পরিশোধ করলেও ঘটনার দিন করতে পারেননি। রাজু নারায়ণ চন্দ্রকে চলে যেতে বলেন এবং পরে আসতে বলেন। পরে রাত ১২টার দিকে আবার এলে তার চুল কাটতে এবং সেভ করতে বলেন। ঠিক ওই সময় রাজু ক্ষিপ্ত হয়ে সেভ করার এক পর্যায় ধারালো খুর দিয়ে তার গলা কাটেন এবং তাকে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে তার মরদেহ বিপনীবাগ বাজারের শরীফ স্টিলের কাছে বস্তায় করে রেখে আসেন।  

পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে স্বজনরা স্থানীয়দের মাধ্যমে নারায়ণ চন্দ্র ঘোষের মরদেহের খোঁজ পান। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করেন।  

এ ঘটনায় নারায়ণ চন্দ্রের ছেলে রাজীব ঘোষ ১৭ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর সদর মডেল থানায় রাজীব ওরপে রাজু চন্দ্র শীলকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ২১ সেপ্টেম্বর আসামি রাজুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।  

মামলাটি তদন্ত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদুল ইসলাম। তিনি তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ মার্চ আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।  

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রণজিৎ রায় চৌধুরী বলেন, মামলাটি দুই বছরের অধিক সময় আদালতে চলাকালীন ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামি নিজের অপরাধ স্বীকার, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে রোববার বিচারক এ রায় দেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আসামি কারাগারে থাকা অবস্থায় ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম হন। তার বর্তমান নাম আবদুর রহমান বলে তিনি নিজেই আইনজীবীকে জানান।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন লিগ্যাল এইডের আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৮ ঘণ্টা, এপ্রিল ২১, ২০২৪
এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।