ঢাকা, শনিবার, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আইন ও আদালত

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের প্রত্যাশা

শরিফুল ইসলাম সেলিম | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১২৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৭, ২০১৪
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের প্রত্যাশা

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস রোববার। সরকারি আইনি সেবা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা, দরিদ্র ও অসহায় জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই এই দিনের প্রত্যাশা।



জনগণকে আইনগত অধিকার বিষয়ে সচেতন করা, সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রম আরো কার্য্যকর, বিস্তৃত ও শক্তিশালী করা, সরকারি ও বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আইন সহায়তা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করাই এ দিবস উদযাপনের মুল প্রতিপাদ্য।

দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণকে সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৩ সালে প্রথবারের মতো সরকার ‘আইন সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০’ কার্যকরের তারিখ ২৮ এপ্রিলকে 'জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস' ঘোষণা করা হয়।

আইনের ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী, মানবাধিকার সংগঠন ও কর্মীরা দীর্ঘ দিন ধরে এ রকম একটি দাবী জানিয়ে আসছিল। যার প্রেক্ষিতে এখন থেকে প্রতিবছর দিবসটি সারা দেশে উদ্যাপিত হবে। ফলে সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষ আরো সচেতন হবে।

১৯৪৮ সালের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় অধিকার সম্পর্কিত যে ২৫টি অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়েছে তার অন্তত ৬টি অনুচ্ছেদে বিচারের অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ২৭ অনুচ্ছদে বলা হয়েছে সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান ও আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। বঞ্চনার শিকার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ন্যায় বিচার প্রাপ্তির লক্ষ্যে বিচ্ছিন্ন ভাবে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের এসব সমস্যা দূর করতেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক  ২০০০ সালে প্রণয়ন করা হয় ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০’।

এ আইনের আওতায়  প্রণয়ন করা হয়েছে বিধিমালা।   প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা। প্রতিটি জেলায় রয়েছে এর  জেলা কমিটি। বর্তমানে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও রয়েছে আইনি সহায়তা কমিটি।   যার লক্ষ্য হলো আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, সহায় সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ সামাজিক কারনে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ ব্যক্তিগনের আইনী অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।  

আইনগত সহায়তা প্রদান বলতে “আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০” এর ২(ক) উপ-ধারা অনুযায়ী আইনগত সহায়তা অর্থ-আর্থিক অসচ্ছল অথবা নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচার প্রার্থীকে আইনী সহায়তা প্রদান করা।

যেমন- কোনো আদালতে দায়েরযোগ্য, দায়েরকৃত বা বিচারাধীন মামলায় আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান কিংবা মামলার প্রাসঙ্গিক খরচ প্রদানসহ অন্য যে কোনো সহায়তা প্রদান।  

যেকোনো অসচ্ছল ব্যক্তি, যাঁর বার্ষিক গড় আয় ৫০ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে নয়, কর্মক্ষম নন, আংশিক কর্মক্ষম বা কর্মহীন মুক্তিযোদ্ধা, যাঁর বার্ষিক গড় আয় ৭৫ হাজার টাকার বেশি নয়, বয়স্কভাতা পাচ্ছেন এমন ব্যক্তি, ভিজিডি কার্ডধারী দুস্থ মা, অসচ্ছল, পাচারের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত নারী বা শিশু, দুর্বৃত্ত দ্বারা অ্যাসিডদগ্ধ নারী বা শিশু,  উপার্জনে অক্ষম ও অসহায় বিধবা, স্বামী-পরিত্যক্তা ও দুস্থ নারী আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আদালতে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অক্ষম ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী  বিনা বিচারে আটক ব্যক্তি, যিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করতে  জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুপারিশকৃত ‘অস্বচ্ছল’ আদালত কর্তৃক ঘোষিত ‘অস্বচ্ছল’ ব্যক্তি এই আইনের আওতায় আইনী সহায়তা পাবেন।

দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলাতেই আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়। সাধারণত স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে, স্বামী শারীরিক নির্যাতন করলে, যৌতুক দাবি বা যৌতুকের জন্য নির্যাতন, অ্যাসিড নিক্ষেপ, পাচার, অপহরণ, ধর্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক আটক বা গ্রেপ্তার সংক্রান্ত যেকোনো ফৌজদারি মামলায় আইনি সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া দেওয়ানি মামলার মধ্যে সন্তানের অভিভাবকত্ব, ভরণপোষণ, দেনমোহর আদায়, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার, দলিল বাতিল, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, সম্পত্তি বণ্টন বা বাঁটোয়ারা, ঘোষণামূলক মামলা ও চুক্তিসংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়।

প্রতিটি জেলা আদালতে আইনগত সহায়তা কার্যালয় রয়েছে। সেখান থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে সরাসরি আবেদন করা যাবে। জেলখানায় অবস্থিত কারা কর্মকর্তা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়েও আবেদনপত্র পাওয়া যাবে।

এছাড়া প্রতিটি জেলা আদালতের বেঞ্চ সহকারি (পেশকার) অথবা জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা ও উপজেলা কার্যালয়েও আবেদন ফরম পাওয়া যায়। এই আবেদন ফরম পূরণ করে জেলা আইনগত সহায়তা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। এ আবেদন যাচাইয়ের পর আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি আইনি সহায়তা দেওয়া হয়।
 
“আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০” একটি জনগুরুত্বপূর্ণ আইন হলেও এতে বেশ কিছু সমস্যা পাওয়া যায়। যেমন- প্রতি মাসে একবার করে জেলা কমিটির সভা/বৈঠক হয়ে থাকে।

যে সকল আবেদনকারী আইনগত সহায়তা পাবার জন্য জেলা কমিটির কাছে আবেদন করেন তাদের আবেদনগুলো এই মাসিক বৈঠকে অনুমোদন করা হয়। কিন্তু কোনো দরিদ্র বিচার প্রার্থী যদি একটি বৈঠক সমাপ্তির পর আবেদন বা দরখাস্ত করেন তাহলে সেটা অনুমোদনের জন্য পরবর্তী বৈঠক পর্যন্ত অর্থাৎ ১ মাস অপেক্ষা করতে হয়। যেটি দ্রুত ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে বিলম্ব ঘটায়।

এই আইনটিতে জাতীয় পরিচালনা বোর্ডের সদস্য এবং জেলা কমিটি সমূহের সদস্যের দায়বদ্ধতা এবং স্বচ্চতা নিশ্চিত করা হয়নি। প্রতিটি কমিটির  চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সদস্য পর্যন্ত সবাই ঠিক মতো তাদের দায়িত্ব পালন করছেন কিনা কিংবা দায়িত্বে অবহেলা করছেন তা কিনা তদারকির কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি ।

এই আইনে যদি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না করা হয় তাহলে আইনটি অন্যান্য আইনের মতো নামে মাত্র  আইনে পরিণত হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কমিটির সদস্যরা সবাই অভিজাত কিংবা উচু শ্রেণীর। যার কারণে তারা দরিদ্র শ্রেণীর সমস্যাগুলোর গভীরতা বুঝতে ব্যর্থ হন বলে প্রতীয়মান হয়। সমাজের অন্যান্য শ্রেণীর প্রতিনিধিদেরকেও কমিটিতে স্থান দেয়া উচিত। মাঝে মাঝে বিচার  প্রার্থীদের কাছ থেকে আইনজীবীদের আর্থিক লেনদেন এর অভিযোগ পাওয়া যায়। কোনো কোনো  প্যানেল আইনজীবী তাদের নির্ধারিত মামলার মাসিক প্রতিবেন দাখিল করেন না।

আমরা তৃণমূল পর্যায়ে আইনটি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি প্রতিনিয়ত এ আইনটি ব্যবহারিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হচ্ছে। এ আইনে আবেদনকারীর আবেদনের ভিত্তিতে নিয়মিত মাসিক সভায় আবেদন গ্রহণ ও আইনজীবী নিয়োগ করা হলেও, মামলা ফাইল করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় মামলায় দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়।

জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার জেলা কমিটি আইনী সহায়তার জন্য প্রাপ্ত আবেদন পত্র যাচাই-বাছাই ও গ্রহণ এবং আইনজীবী নিয়োগ করে থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে মামলা নিয়মিতভাবে ফলো-আপের কোন ব্যবস্থা নেই।

জাতীয় আইন সহায়তা আইন-২০০০ এর ২(ক) ধারায় ‘আইনগত সহায়তা’ অর্থ আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, সহায়- সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচার প্রার্থীকে আইনগত পরামর্শ প্রদান, আইনজীবীর ফিস প্রদান ও মামলার খরচ প্রদান সহ অন্য যে কোনো সহায়তা প্রদানকে বুঝায়।

কিন্তু মামলার খরচ প্রদানসহ অন্য যে কোনো সহায়তা বলতে কী বোঝানো হচ্ছে তার কোন সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। জেলা পর্যায়ে সরকারি আইন সহায়তা তহবিলের মাধ্যমে দায়েরকৃত মামলা সমুহের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য কোনো মনিটরিং সেল নেই।

এ আইনের মাধ্যমে বিচার প্রার্থীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া সত্বেও, আর্থিক অসামর্থ্যতার কারণে একজন দরিদ্র ব্যক্তির পক্ষে মামলার তারিখে তারিখে হাজিরা প্রদান, স্বাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিতি করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না বিধায়, একটা সময়ে এসে মামলাগুলো স্থবির হয়ে যায় এবং দরিদ্র মানুষের বিচার প্রাপ্তি অর্থাৎ আইনটির মূল উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্থ হয়।

জেলা পর্যায়ে জেলা কমিটি এবং আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার অফিস কক্ষ আছে। কিন্তু সুর্নিদিষ্ঠ স্টাফ না থাকায় মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থার তথ্য জানা যায় না।

এছাড়াও মামলা চলাকালীন বিচার প্রার্থীর সাথে আইনজীবীর মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে; যেমনঃ মামলার তারিখ, স্বাক্ষী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ ইত্যাদি বিষয়ে যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা  নেই। এ কারণে মামলা পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটে এবং নিঃস্ব মানুষটি আরো নিঃস্ব হয়ে যায়। ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি এখনও তেমন সক্রিয় নয় এবং তারা মামলার আবেদন পাঠায় না।

আইনটি এখনও সাধারণ মানুষের মাঝে তেমন পরিচিতি লাভ করেনি। এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে আইনটি পরিপূর্ণতা লাভ করবে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল সহজে লাভ করতে সক্ষম হবে।

আর যদি এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে না পারা যায় তাহলে আইনটি অন্যান্য আইনের মতো নামে মাত্র আইনে পরিণত হবে।

 মাঠ পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা ও জেলা পর্যায়ে প্রতিবছর প্রকাশিত মানবাধিকার পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এই আইনটি কীভাবে আরও বেশি কার্যকর করা যায় সে লক্ষে কিছু সুপারিশ পেশ করা হয়। সেগুলোর আলোকে সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেয়া যেতে পারে-
১. উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আইনটির ব্যাপারে প্রচারনা চালানো। এ ক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে প্রচারনার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম  গ্রহণ করা যেতে পারে।

৩.  যে সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দরিদ্র মানুষের আইনী সহায়তা নিয়ে কাজ করছে, তাদের আরো বেশি মাত্রায় কমিটির কাজের সাথে জড়িত করা  যেতে পারে।
৪. আইনজীবী নিয়োগের পর মামলা ফাইল করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সময় সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

৫. কমিটির মাসিক সভায়, আগের মামলার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট উপস্থাপন এবং এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানকে মামলার ফলোআপ করার জন্য দায়িত্ব প্রদান।

৬. জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত মামলাগুলোর মনিটরিং ও ফলোআপের জন্য জেলা বারের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং ও ফলোআপ কমিটি গঠন এবং জেলা বারের পক্ষ থেকে বার ভবনে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার সেবা সম্পর্কে একটি তথ্য কেন্দ্র চালু করা যেতে পারে।

৭. বিশেষত্ব অনুযায়ী প্যানেল আইনজীবীদের তালিকা বোর্ডে উপস্থাপন।

৮. কাগজপত্র-দলিলাদি সংগ্রহ, বিচার প্রার্থীর কোর্টে আসা-যাওয়া, সাক্ষীর যাতায়াত ইত্যাদির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। এ রকম বরাদ্দ বিচারে দরিদ্র মানুষের প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে একটা বিরাট সুযোগের সৃষ্টি করবে। যা জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক ভাবে প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ হতে পারে।

৯. ইউনিয়ন পর্যায়ে ফরম পূরণে সহযোগিতা ও মামলার সত্যতা যাচাইয়ের একটা প্রক্রিয়া তৈরী করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আইনে বর্ণিত আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি সক্রিয় করা যেতে পারে। সেখান থেকে যেন সহজে তৃণমূলে থাকা দরিদ্র বিচার প্রার্থী তাদের দায়েরকৃত মামলার তারিখ, নিয়োগকৃত আইনজীবীর নাম, সমন ও মামলার বর্তমান অবস্থা তথা লিগ্যাল এইড সংক্রান্ত তথ্যাদি  পেতে পারে।

১০. আইনজীবীদের এ ফান্ড ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য কমিটির উদ্যোগে আইনজীবীদের সাথে কর্মশালা, সেমিনার, মতবিনিময় সভার আয়োজন করা। এছাড়া ও এ আইনের কার্যকারীতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় সরকার, প্রশাসন, সুশীল সমাজ,  সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময় করা যেতে পারে।

১১. মামলা চলাকালীন বিচার প্রার্থীর সাথে আইনজীবীর মামলা সংক্রান্ত; যেমন: মামলার তারিখ, স্বাক্ষী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ ইত্যাদি বিষয়ে যোগাযোগের একটি প্রক্রিয়া চালু করা প্রয়োজন।

১২.প্যানেল আইনজীবীর সীমাবদ্ধতা উত্তরণে দ্বি-মাসিকভাবে সভা করাব ব্যবস্থা করা এবং গেজেটে সমন্বয়কারীর দায়িত্ব সুনির্দিষ্ঠ করা।  

১৩. প্যানেল আইনজীবীদের সাথে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির নিয়মিত বৈঠকের ব্যবস্থা করা।

১৪. সরকারি আইনগত সহায়তা তহবিলের (লিগ্যাল এইড) মামলা পরিচালনায় আইনজীবী সম্মানী বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের প্রতিটি গরিব সহায়-সম্বলহীন মানুষ সরকারের এই ইতিবাচক কর্মসূচির আওতার মধ্যে এসে তাদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে সে ব্যাপারে আমারা আশাবাদী। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ন্যায়বিচারকে আরও অধিকতর তরান্বিত করা সম্ভব এবং সমাজিক ন্যায়বিচার পুনঃ প্রতিষ্ঠা করে একটি উদার গণতান্ত্রিক এবং কল্যনমূলক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাড়াতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।

লেখক প্রগ্রাম অর্গানাইজার, মিডিয়া এন্ড ইন্টারন্যাশনাল এডভোকেসি, আইন ও সালিশ কেন্দ্র।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa