ঢাকা, সোমবার, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আইন ও আদালত

চার বছর পর জনবল পাচ্ছে ট্রাইব্যুনাল

মেহেদী হাসান পিয়াস, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮৪৫ ঘণ্টা, জুন ১৫, ২০১৪
চার বছর পর জনবল পাচ্ছে ট্রাইব্যুনাল

ঢাকা: অবশেষে স্থায়ী জনবল পাচ্ছেন মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রতিষ্ঠার চার বছর পর সরকার ট্রাইব্যুনালে স্থায়ী জনবল নিয়োগ দিতে যাচ্ছে।

নিয়োগ বিধি সংক্রান্ত জটিলতায় এতোদিন আটকে ছিল এর নিয়োগ প্রক্রিয়া। ফলে প্রেষণে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চুক্তিভিত্তিক লোকবল দিয়েই চলছিল গুরুত্বপূর্ণ এ আদালতের কার্যক্রম।
 
সূত্র জানিয়েছে, নিয়োগ বিধি চূড়ান্ত করে গত ২৩ মে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে। বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার একেএম নাসিরুদ্দিন মাহমুদ।
 
তবে ট্রাইব্যুনালের সহায়ক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে কর্তৃপক্ষ কে হবেন প্রকাশিত গেজেটে বিষয়টি অস্পষ্ট থাকায় তা জানিয়ে আইন, বিচার বিভাগের সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার দফতর থেকে।
 
গত ৮ জুন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার একে এম নাসিরুদ্দিন স্বাক্ষরিত সচিব বরাবর দেওয়া চিঠিতে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নিয়োগেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে।
 
রেজিস্ট্রার একেএম নাসিরুদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, নিয়োগকারী নিযুক্ত করা নিয়োগ প্রক্রিয়ারই অংশ। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত হলে তিনি একজনকে চেয়ারম্যান করে তিন অথবা চার সদস্য বিশিষ্ট নিয়োগকারী  কমিটি করে দেবেন।
 
এ নিয়োগ কমিটিই নিয়োগ চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দেবেন। পরবর্তীতে আবেদনকারীদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ চূড়ান্ত করবেন। তবে ঠিক কবে নাগাদ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত হতে পারেন সে বিষয়ে সময় উল্লেখ করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
 
বিধিমালায় বলা হয়েছে, সরাসরি, পদোন্নতি এবং প্রেষণে বদলির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে তফসিলে উল্লেখিত বয়সসীমার মধ্যে তাদের নিয়োগ হতে হবে।
 
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের দফতর সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গঠন করা হয়। এ সময় দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে জজকোর্ট, সিএমএম আদালত এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল থেকে ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়।
 
এ লোকবলের মধ্যে ৮ জনকে সরাসরি আদালতে এবং বাকিদের ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দৈনিক ১২০ টাকা মজুরির ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালে ২১ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ট্রাইব্যুনালে স্থায়ী লোকবল না থাকায় অফিস সহকারীকে দিয়ে করানো হচ্ছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ক্যাশিয়ার এবং অন্যান্য কাজ। স্থায়ী ড্রাইভার না থাকায় রেজিস্ট্রারের গাড়িচালকের দায়িত্ব পালন করছেন একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মচারী। দৈনিক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হওয়ায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা শুক্রবারের মজুরি পান না।
 
রেজিস্ট্রারের দফতর সূত্র থেকে আরো জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠিত হওয়ার পরই মূলত ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে ব্যস্ততা যোগ হয়। এরপর জুলাই মাসে রেজিস্ট্রার প্রয়োজনীয় ১১৩ পদে লোকবল চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান। একই বছরের ডিসেম্বরে মন্ত্রণালয় থেকে ৮৩টি পদের অনুমোদন দেওয়া হয়।
 
অনুমোদনকৃত এসব পদের মধ্যে রেজিস্ট্রারের দফতরে ৪১ জন এবং দুই ট্রাইব্যুনালের জন্য ৪২ জনের নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। পদগুলোর মধ্যে রেজিস্ট্রার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার, সিনিয়র আইন গবেষণা কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্টেনোগ্রাফার কাম কম্পিউটার অপারেটর, বেঞ্চ অফিসার, সহকারী বেঞ্চ অফিসার, অফিস সহকারী, ক্যাশিয়ার, কোর্টকিপার, গ্রন্থাগারিক, হার্ডওয়ার টেকনিশিয়ান, এমএলএসএস, ড্রাইভার, ডেসপাচ রাইটার, ফরাশ, জমাদার, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, নাইটগার্ড এবং সুইপার।
 
আদালত থেকে প্রেষণে নিয়োগকৃত এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, এখানে দায়িত্বের বাইরে অনেক কাজ করতে হয় আমাদের। অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের ওপর কাজের চাপ বেশি থাকে।

দ্রুত লোকবল নিয়োগ হলে তারা আবার আগের দফতরে ফিরে যাবেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ সময়: ০৮৪৫ ঘণ্টা,  জুন ১৩, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa