ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ বৈশাখ ১৪৩১, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৮ শাওয়াল ১৪৪৫

আইন ও আদালত

`জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অপরিসীম ক্ষমতাবান নন’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৪০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২, ২০১৭
`জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অপরিসীম ক্ষমতাবান নন’

ঢাকা: বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’ নামে পরিচালিত অভিযানের কার্যক্রমকে দায়মুক্তি দিয়ে করা আইনটিকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

৫২ পৃষ্ঠার এ রায় সোমবার (০২ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
 
২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ।


 
৫২ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে একমত পোষণ করে কিছু নিজস্ব মতামত দিয়েছেন বিচারপতি মো.আশরাফুল কামাল।
 
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’ নামে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলে। ওই অভিযানের কার্যক্রমকে দায়মুক্তি দিয়ে ২০০৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন, ২০০৩’ জারি করা হয়।
 
এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না ২০১২ সালের ১৪ জুন হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন।
 
এরপর আদালত রুল জারি করেন। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা করা হয়।  
 
রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ যথা-নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা ও বিচার বিভাগ। এই তিনটি অঙ্গই সংবিধান দ্বারা সৃষ্ট। অর্থাৎ তিনটি অঙ্গের কেউ সার্বভৌম নয়। প্রত্যোকটি অঙ্গ সংবিধানের বিধি বিধান সাপেক্ষে স্বাধীন। শ্রেষ্ঠত্ব শুধুমাত্র এই সংবিধানের। সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব মানে জনগণের শ্রেষ্ঠত্ব। জনগণের অভিপ্রায় বা ইচ্ছার প্রতিফলন এই সংবিধান।
 
আদালত বলেছেন, জাতীয় সংসদ কোনোভাবেই সংবিধধানের বিধানবলীর পরিপন্থী কোনো  আইন প্রণয়ন করিবেন না। জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অপরিসীম ক্ষমতাবান নন। সংসদকে কখনই ভুল করা কিংবা ভুলিলে চলবে না যে, তাদের ক্ষমতা সংবিধানের অন্যান্য বিধি বিধান দ্বারা সীমাবদ্ধ।
 
রায়ে বলা হয়, মামলার নথিপত্র এবং পেপার ক্লিপিং থেকে এটা স্পষ্ট যে যৌথ দায়মুক্তি আইন যেই সময়ের জন্য করা হয়েছে ওই সময়ে দেশে এমন কোন ভয়াবহ আইন শৃঙ্খলার অবনতি হয়নি বা দেশে ব্যাপক কোন নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়নি। কিংবা সে সময় দেশ গৃহযুদ্ধে বা অন্য কোন দেশের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি। সুতরাং যেখানে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হয়নি সেখানে আইন পুর্নবহালের প্রশ্নই আসেনা।  
 
যেহেতু যৌথ দায়মুক্তি আইন’ ২০০৩ এর মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে প্রাণহানির কার্যকে দায়মুক্তি প্রদান করা হয়েছে সেহেতু উক্ত দায়মুক্তি সংবিধানের ৩১, ৩২, ৪৬, ৪৭(৩) এবং ৪৭(ক) এর বিধান মোতাবেক অসামঞ্জস্যপূর্ণ। যেহেতু দায়মুক্তি আইনটি সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে প্রণয়ন হয়নি সেহেতু আইনটি বাতিল ও অসাংবিধানিক ঘোষনা করা যথার্থ।
 
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহদীন মালিক। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এম মনজুর আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
 
রায় ঘোষণার দিন শাহদীন মালিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘রায়ে দু’টি কথা বলা হয়েছে। ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত অপারেশন ক্লিনহার্ট নামে যৌথবাহিনীর অভিযানে হত্যাকাণ্ডের বৈধতা দিয়ে যে আইনটি তা অসাংবিধানিক ও বাতিল। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা প্রতিকার চাইতে পারবেন। এর মধ্য দিয়ে আজ একটি নতুন দ্বার উন্মোচন হলো।
 
বাংলাদেশ সময়: ০১৩৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৩, ২০১৭
ইএস/বিএস

 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।