ঢাকা, সোমবার, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

মালয়েশিয়া

ট্যানারির পানি খাওয়াবেন, ময়লাকে বানাবেন বিদ্যুৎ

জাকারিয়া মন্ডল, সিনিয়র আউটপুট এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮৫২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৯, ২০১৬
ট্যানারির পানি খাওয়াবেন, ময়লাকে বানাবেন বিদ্যুৎ অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম। ছবি: শান্ত

ট্যানারির পানি সুপেয় করে মানুষকে খাওয়াবেন তিনি। টেক্সটাইলের বর্জ্যও বিশুদ্ধ করে চালান করবেন মানুষের পেটে। বর্জ্য রিসাইকেল করে ইন্ডাস্ট্রিকে ফিরিয়ে দেবেন লবণ।

কুয়ালালামপুর (মালয়েশিয়া) থেকে: ট্যানারির পানি সুপেয় করে মানুষকে খাওয়াবেন তিনি। টেক্সটাইলের বর্জ্যও বিশুদ্ধ করে চালান করবেন মানুষের পেটে।

বর্জ্য রিসাইকেল করে ইন্ডাস্ট্রিকে ফিরিয়ে দেবেন লবণ। রান্নাঘরের দূষিত পানি ও বর্জ্য পরিশোধন করে পানি তো ফেরত দেবেনেই, সঙ্গে দেবেন শিল্পকারখানায় ব্যবহার উপযোগী মিথেন গ্যাস আর হাই কোয়ালিটির অর্গানিক সার।  

প্রতিদিন ঢাকা শহরে যতো বর্জ্য ফেলা হয় তা দিয়েই তিনি মিটিয়ে দেবেন গোটা ঢাকার বিদ্যুতের চাহিদা। তার কাছে কোনো কিছুই ফেলনা নয়। মানুষ ফেলে দেওয়া আর কলকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য নিয়েই তার যতো তেলেসমাতি কাজকারবার।

নাম তার অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম। বাংলাদেশি এই বিজ্ঞানী বোর্নিও দ্বীপের ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সারাওয়াকের একজন স্কলার। ১৯৯৪ সালে ঢাকায় ট্যানারি প্রসেস শুরু হয় তার তত্ত্বাবধানেই। এছাড়া তিনি ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের রিসার্চ ডাইরেক্টর। বিশ্বের বিভিন্ন জার্নাল আর পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে তার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। আরো প্রকাশিত হয়েছে বেশ ক’টি যুগান্তকারী পুস্তক।

ট্যানারি ও টেক্সটাইল মিলের বর্জ্য, রান্না ঘরের দূষিত পানি ও সলিড ওয়েস্ট, কাঁঠাল আর আনারসের উচ্ছিষ্ট, এমনকি ইউরিনও তার কাছে বোঝা নয়, সম্পদ। দিনের পর দিন গবেষণায় ডুবে থেকে তিনি আবিষ্কার করেছেন বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার অভাবনীয় কৌশল।

বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ট্যানারির পানিতে সবচেয়ে বেশি থাকে ক্রম সালফেট। এক কিউবিক মিটারে এর মাত্রা ৮০ শতাংশ। এ পানি মেশে বুড়িগঙ্গায়। সেই পানি মাছ খায়। সেই মাছ আমরা খাই। এর কারণে হার্ট নষ্ট হয়। ব্লাড প্রেসার বাড়ে। ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হয়। কিন্তু যতো ট্যানারি আছে সবগুলোর সব পানিই বিশুদ্ধ করা সম্ভব। রিসাইকেল করে ফিরে পাওয়া সম্ভব ৮০ শতাংশ পানি।

অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, চামড়ার পানিতে যে বর্জ্য থাকে সেটাকে শতভাগ মিথেন গ্যাসে পরিণত করা যাবে। ১ লিটার পানিতে গ্যাস পাওয়া যাবে .৩১ ঘণফুট। এই পানি বিশুদ্ধ করলে ডাবল লাভ। ১ টাকা খরচ করলে ৩ টাকা ফেরত আসবে।

তিনি বলেন, টেক্সটাইলের পানিও রিসাইকেল হবে। কোনো পানি নদীতে যাবে না।

ড. শহীদুল বলেন, টেক্সটাইলের পানিতে ২০ ভাগ লবণ থাকে। ট্যানারির পানিতে থাকে ৮০ ভাগ। এই লবণ পুরোটাই টেক্সটাইল ফেরত পাবে। প্রতিদিন বাড়তি লবণ প্রয়োজন পড়বে না। একই লবণ ঘুরেফিরে ব্যবহার করা যাবে টেক্সটাইলে।
 
তিনি বলেন, একটা টেক্সটাইল ঘণ্টায় ১শ’ ঘণমিটার পানি নদীতে ফেলে। এই ১শ’ ঘণমিটার পানি থেকে ঘণ্টায় ৫২ ঘণমিটার মিথেন গ্যাস তৈরি সম্ভব। একই সঙ্গে ৯০ ঘণমিটার পানিও ফেরত আসবে। এটাকে বলা হয়, জিরো ওয়েস্ট ইকোনমি। ২০১৪ সালে এ ল্যাবে এ গবেষণায় সাকসেসফুল হয়েছি। আগামী ৬ জানুয়ারি ঢাকায় পাইলট প্রকল্প শুরু করবো।

রান্নাঘরের বর্জ্য, গোছলের পানি আর ইউরিনও রিসাইকেল করে বিশুদ্ধ পানি, গ্যাস আর সার পাওয়া সম্ভব বলেও জানান বাংলার এই কৃতি বিজ্ঞানী।

তিনি বলেন, মাছের কাঁটা আর মুরগির হাড়ও শতভাগ সার্কুলেট করা সম্ভব। ১ কেজি ময়লায় .২ ঘণফুট মিথেন গ্যাস পাওয়া যাবে। ইউরিনের পানি শতভাগ রিসাইকেল করা যাবে। এতে আছে পটাসিয়াম, নাইট্রোজেন। প্রতিটি পরিবার গড়ে প্রতিদিন ৩ কেজি ওয়েস্ট ত্যাগ করে। এগুলো সলিড ওয়েস্ট। এই ওয়েস্টকে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব।

ড. শহীদুল বলেন, প্রতিদিন রান্নাঘরের যে ময়লা ফেলা হয় তার পানি সবচেয়ে দূষিত। ওই পানি রিসাইকেল করা যাবে। পাওয়া যাবে গ্যাস। আর পাওয়া যাবে হাই কোয়ালিটির অর্গানিক সার।
 
তিনি বলেন, প্রতিদিন আমরা হাজার হাজার কেজি ময়লা ফেলে দিই। ঢাকা শহরে যে পরিমাণ ময়লা ফেলে দেওয়া হয় তা থেকে ঢাকা শহরেরই প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।  

কাঁঠাল আর আনারসের বর্জ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা একটা ৫ কেজি ওজনের কাঁঠাল কিনলে বড়জোর তার ২ কেজি খাই। বাকিটা ওয়েস্ট হিসেবে ফেলে দিই। কিন্তু ওই ওয়েস্ট পুরোটাই এনার্জি। আনারসের যে বর্জ্য ফেলে দিই তার ৪০ শতাংশই বায়োগ্যাস। জ্ঞানের অভাবে এই সম্পদ জাতি হারাচ্ছে।

আরও পড়ুন....

** মনের কষ্টে মালয়েশিয়ায় কোপা শামসু
** মালয় বধূতে বুঁদ বাংলাদেশি জামাই
** মসজিদ ঘিরে বিশ্বনগর
** জোহর সুলতানের সুন্দর মসজিদে
** সিঙ্গাপুরের কজওয়েতে মরে আছে জোহর প্রণালী
** বাংলাদেশিদের হাতেই জোহর বাহরুর পাইকারি বাজার
** ‘ভালো আছে জোহর বাহরুর বাংলাদেশ’
** লাখ টাকায় কোটিপতি হোন আপনিও
** বিনা ভাড়ায় ঘুরুন কুয়ালালামপুরে
** শিকারি কুমিরের সঙ্গে কোলাকুলি
** আকাশের হেলান দিয়ে মসজিদ ভাসে ওই​
** প্রলয় নৃত্যে হতবাক দর্শক
** নরমুণ্ডু শিকারী মুরুত গাঁওয়ে​
** মুসলিম বাজাউরাই বিত্তশালী বোর্নিওতে
** কলসির ভেতর লুনদায়েহ কবর
** লঙহাউজের রুঙ্গুস রাণী​
** বনের ভেতর দুসুন গাঁও
** এক বাজারেই পুরো বোর্নিও
** বোর্নিওতে কী পেতে পারে বাংলাদেশ
** সুলু সাগর তীরের হেরিটেজ ট্রেইলে
** সূর্য ভাল্লুকের সঙ্গে লুকোচুরি
** ওরাংওটাং এর সঙ্গে দোস্তি
** অচেনা শহরের আলোকিত মানুষ
** সাড়ে ৫ হাজার ফুট উঁচু রাস্তা পেরিয়ে
** সাত ঘণ্টাতেই শেষ রাজধানী চক্কর
** সিগনাল হিলে আকাশ ভাঙা বৃষ্টি
** চীন সাগরে মেঘ-সুরুযের যুদ্ধ
** মালয় তরুণীর বিষাদমাখা রাতে
** জিভে জল আনা বাহারি সি-ফুড
** চীন সাগর পেরিয়ে ওরাংওটাংদের দেশে


বাংলাদেশ সময়: ১৪৪৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৬
জেডএস/জেডএম/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa