ঢাকা, সোমবার, ১৭ চৈত্র ১৪৩১, ৩১ মার্চ ২০২৫, ০০ শাওয়াল ১৪৪৬

জাতীয়

দুই ব্যবসায়ীকে ‘অপহরণের’ পর মুক্তিপণ নিতে এসে আটক ৪

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২৭ ঘণ্টা, মার্চ ২৮, ২০২৫
দুই ব্যবসায়ীকে ‘অপহরণের’ পর মুক্তিপণ নিতে এসে আটক ৪ মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে আটক চারজন

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা নিতে আসা চার যুবককে ধরে পিটিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। আটকদের মধ্যে তিনজন পুলিশের কনস্টেবল বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) রাত ১টার দিকে ডামুড্যা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।  

এর আগে এদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দারুল আমান বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  

উদ্ধার হওয়া দুই ব্যবসায়ী হলেন- জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইকরকান্দি এলাকার মৃত সোহরাব সরদারের ছেলে জুয়েল সরদার (৩২) ও একই এলাকার মোহাম্মদ কাসেম সরদারের ছেলে ফয়সাল সরদার (২৪)। তারা ডামুড্যা বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেল এসে রাস্তার পাশে দাঁড়ায়। এসময় আটজন যুবকের মধ্যে চারজন নেমে এসে জুয়েল ও ফয়সালকে জোর করে মাইক্রোবাসে ওঠান। রাত ১টার দিকে ডামুড্যা শহরের বাসস্ট্যান্ডের দিকে পৌঁছালে স্থানীয়দের তোপের মুখে তারা মাইক্রোবাস থামান। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তিনজনকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। আর বাকি পাঁচজন পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়াদের মধ্যে একজনকে শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে আটক করেছে পুলিশ।  

আটকরা হলেন- বাগেরহাট জেলার মোল্লার হাট থানার গারফা এলাকার বাচ্চু মিয়া শেখের ছেলে কৌশিক আহমেদ সেতু (৩০), তিনি খুলনা জেলা পুলিশ লাইন্সে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত আছেন; শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার বড় শিধুলকুড়া এলাকার মৃত আব্দুর রহমান তালুকদারের ছেলে কাউসার তালুকদার (২৯), তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত আছেন; মাগুরা জেলার বাসিন্দা রুবায়েত মীর (২৭), তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত আছেন; কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানার আমৌদা এলাকার মৃত আনা মিয়ার ছেলে শরীফ হোসেন (৩৫)।  

অপহরণকারী রুবায়েত মীর বলেন, ‘কাউসার তালুকদার আমাদের বস। অপহরণের সময় যে টাকা পেয়েছিলাম তা কাউসারের কাছে। আমি আর কিছু জানি না। ’ 

প্রত্যক্ষদর্শী ফাহিম আব্বাস বলেন, এলাকায় ডাকাত পড়েছে শুনে আমি বাড়ি থেকে বের হই। পরে জানতে পারি, ডামুড্যা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পরে এলাকাবাসী তাদের পিটিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এছাড়াও কয়েকজন পালিয়ে যান।

ওই দুই ব্যবসায়ীর চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান বলেন, আমার চাচাতো ভাই জুয়েল ও ফয়সালের ডামুড্যা ও ভেদরগঞ্জে তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অপহরণের পর ফয়সালকে দিয়ে অপহরণকারীরা তার আপন ভাই স্বাধীন সরদারকে মোবাইলফোনে কল করে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। তখন ব্যাংক, বিকাশ ও নগদ থেকে ৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা পাঠানো হয় তাদের। পরে আরও টাকা দাবি করলে অপহরণকারীদের লোভ দেখিয়ে ডামুড্যা শহরের বাসস্ট্যান্ডে আনা হয়। বাসস্ট্যান্ডে এলে জুয়েল ও ফয়সালকে উদ্ধার করে এবং অপহরণকারীদের মধ্যে তিনজনকে আটক করে পুলিশে দেন। আর পাঁচজন পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়াদের মধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ফয়সাল ও জুয়েল বলেন, আমরা কাপড় ব্যবসায়ী। দোকান থেকে রাতে কদরের নামাজ পড়ার জন্য বাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম। দারুল আমান বাজারের কাছে মদন বেপারীর বাড়ির সামনে পৌঁছালে হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেল আমাদের গতিরোধ করে। এসময় তারা মাইক্রোবাসে আমাদের তুলে নিয়ে যায়। হাতে হাতকড়া পরিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে তারা ২০ লাখ টাকা দাবি করে। সে সময় তারা বলে- ‘আমরা পুলিশের লোক’। পরে সেখান থেকে আমাকে দিয়ে আমার ভাই স্বাধীনকে কল করায় তারা। আমি ফোনে টাকা পাঠাতে বললে ৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে বাকি ৬ লাখ ৯ হাজার টাকার জন্য অপহরণকারীরা ডামুড্যা শহরের বাসস্ট্যান্ডে আসেন। সেখানে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা মুক্তি পাই।

এ ব্যাপারে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, অপহরণের ঘটনায় পুলিশ ও জনগণ চারজনকে আটক করেছে। এর মধ্যে পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০২৫ ঘণ্টা, মার্চ ২৮, ২০২৫
এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।