ঢাকার আশুলিয়ায় অপহরণের ১৩ দিন পর জোনায়েদ (৫) নামে এক শিশুর গলিত লাশ উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪)। এ ঘটনায় ঘাতক অপহরণকারী মোরসালিনকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত শিশুর পরিবারের অভিযোগ— জোনায়েদকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ টাকা নিয়েছিল। কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে গ্রেপ্তারকৃত মোরসালিনকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আশুলিয়ার শ্রীপুরের এজিজগেট ফারুকনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একই এলাকার একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুর মরদেহ।
নিহত জোনায়েদ গাইবান্ধা সদর উপজেলার খামার বোয়ালি গ্রামের সাগর মিয়ার ছেলে। পোশাক শ্রমিক বাবা-মায়ের সঙ্গে সে আশুলিয়ার শ্রীপুরের এজিজগেট এলাকায় মিয়াজ উদ্দিন ভান্ডারির বাড়িতে ভাড়া থাকত।
মোরসালিন রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার কাপাসিয়া পাড়ার মামুন আলীর ছেলে। তিনিও একই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। স্থানীয়রা জানান, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন।
র্যাব জানায়, ১৬ আগস্ট খেলাধুলার কথা বলে শিশুকে জঙ্গলে নিয়ে যায় মোরসালিন। পরে জোনায়েদের টি-শার্ট দিয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখে। পরদিন গিয়ে মরদেহ লতাপাতা দিয়ে ঢেকে যায়। ২৮ আগস্ট জোনায়েদের মায়ের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ হাজার টাকা দাবি করে সে। বাকি ৩০ হাজার টাকা পরবর্তীতে নেবে বলেও জানায়।
শিশুর বাবা-মা ২৮ আগস্ট র্যাব-৪ এর কার্যালয়ে অভিযোগ করলে, মুক্তিপণ দাবি করা ফোন নম্বরের সূত্র ধরে ২৯ আগস্ট রাতে মোরসালিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেখানো জায়গা থেকেই লাশ উদ্ধার করে র্যাব।
জোনায়েদের মা জাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে ১৬ আগস্ট হারিয়ে যায়। সেদিনই আমরা আশুলিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করি। কিন্তু পুলিশ কোনো তদন্ত করেনি। উল্টো এসআই মাসুদ রানা আমাদের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা একসাথে দিতে পারিনি। তাই এসআই মাসুদকে ফোন করলে তিনি বিরক্ত হতেন। তিনি কাজ না করে আমাদেরকেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে থানায় আনতে বলেন।
শিশুর বাবা সাগর মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, ডায়েরির ১৬ ঘণ্টা পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। পরে এসআই মাসুদ রানা আমাদের কাছে ১৫০০ টাকা নেন, আবার বলেন—এগুলো খুচরা টাকা। সিসিটিভি ফুটেজের দায়িত্বও আমাদের ওপর চাপিয়ে দেন। পুলিশের কারণে আমরা সন্তানকে জীবিত পাইনি। টাকার জন্য তারা আমাদের অসহযোগিতা করেছে। অবশেষে র্যাবের কাছে গিয়ে আমরা সন্তানের লাশ পাই।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করে ফোন কেটে দেন। পরে আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আশুলিয়া থানার ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ আমিও শুনেছি। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ড ও অপহরণের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
র্যাব-৪ সিপিসি-২ এর স্কোয়াড্রন লিডার মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার মোরসালিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ঋণ শোধের জন্য সে জোনায়েদকে অপহরণ করে। উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিপণ আদায় করা। আমরা তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহ উদ্ধার ও তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। পরবর্তীতে তাকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত শিশুর পরিবার ঘাতক মোরসালিনের ফাঁসি দাবি করেছে।
এমজে