ঢাকা, সোমবার, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

জাতীয়

‘সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন নির্ভর করে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫:০৯, আগস্ট ৩১, ২০২৫
‘সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন নির্ভর করে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর’ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও নিরাপদ হওয়া নির্ভর করে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রোববার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আজকের আলোচনার মূল বিষয় ছিল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলোর সাম্প্রতিক কার্যকলাপ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, সেটি ধরে রাখতে হবে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র স্বার্থ ও দলীয় স্বার্থ পরিহার করে এই ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। যদি এই ঐক্যে ফাটল ধরে, তাহলে ফ্যাসিস্ট শক্তি ঢুকে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও নিরাপদ হবে তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার ওপর।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচনে নিরাপত্তা দেওয়া ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আমরা এজন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে জনগণের অবাধ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকেই। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে পারবে বলে আমরা আশাবাদী।

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যদি পুলিশ সক্রিয় হয়, তখন বলা হয় অতিরিক্ত করছে। আবার কিছু না করলে বলা হয় নিষ্ক্রিয়। আমরা চেষ্টা করছি ভারসাম্য বজায় রাখতে। উদাহরণস্বরূপ, গতকাল আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। যদি তার আগেই পুলিশ অ্যাকশনে যেত, তবে বলা হতো শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠান চলাকালে কেন পুলিশ বাধা দিল। কিন্তু আগুন ধরার পর বাধা দেওয়ার সময় সমালোচনা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী আগুন ধরার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত এক হাজার ৪০৬টি অবরোধ হয়েছে, যা করেছে ১২৩টি সংগঠন। এগুলো সড়কে হলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। তাই অনুরোধ করবো, এ ধরনের কর্মসূচি নির্দিষ্ট স্থানে, যেমন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করা হোক।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনের জন্য যতটা প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন আমরা ততটাই প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন বাকিটা নির্ভর করছে জনগণ, আপনাদের সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সবার সহযোগিতা দরকার। যে দল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, তারা অবশ্যই নির্বাচন ভঙ্গের চেষ্টা করবে। এদের প্রতিহত করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি আমাদের সবার।

এসকে/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।