ঢাকা, শুক্রবার, ৬ বৈশাখ ১৪৩১, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯ শাওয়াল ১৪৪৫

জাতীয়

উন্মুক্ত স্থানে থার্টি ফার্স্টের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮
উন্মুক্ত স্থানে থার্টি ফার্স্টের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ

ঢাকা: দিনে দিনে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের ব্যপ্তি ক্রমেই বাড়ছে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে শহরগুলোতে  তরুণদের কাছে এখন রীতিমতো অবিচ্ছেদ্য সংস্কৃতির অংশই হয়ে উঠেছে ‘থার্টি ফার্স্ট’। তবে, এবারের থার্টি ফার্স্ট উদযাপনে পেয়েছে বাড়তি মাত্রা। দেশজুড়ে ভোট উৎসবের মাত্র একদিন পরেই এ উৎসবে সামিল হবেন সবাই।

তাই নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ‘থার্টি ফার্স্ট’ উদযাপনে বেশকিছু বিধি নিষেধ রয়েছে রাজধানীবাসীর জন্য। উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান না করাসহ নির্ধারিত এলাকায় বহিরাগতের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি জানায়, ইংরেজি নববর্ষ পালনে ৩১ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় নগরবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন আনন্দ-উৎসবে অংশ নেবে। তাই, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেশকিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এছাড়া নগরবাসীর নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হবে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ডিএমপি সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানানো হয়েছে।

সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে রাস্তার মোড়, ফ্লাইওভার, রাস্তায়, ভবনের ছাদে ও প্রকাশ্যে কোনো ধরনের জমায়েত, সমাবেশ ও উৎসব করা যাবে না। তবে, পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে অভ্যন্তরীণ স্থান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে।

জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিসহ অগ্নিসংযোগের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সব ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ থাকবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পরে বহিরাগত কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় বসবাসরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাড়ি নির্ধারিত সময়ের পর পরিচয় দেওয়া সাপেক্ষে নীলক্ষেত এবং শাহবাগ ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে।

গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বসবাসরত সম্মানিত নাগরিকদের সোমবার রাত ৮ টার মধ্যে স্ব-স্ব এলাকায় ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি জানায়, নির্ধারিত সময়ের গুলশান এলাকায় প্রবেশের জন্য পরিচয় দেওয়া সাপেক্ষে কাকলী ও আমতলী ক্রসিং ব্যবহার করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর বহিরাগতদের এসব এলাকায় প্রবেশে নিরুৎসাহিত করেছে ডিএমপি। এছাড়া সন্ধ্যা ৬ টার পর হাতিরঝিল এলাকায় কাউকে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা দেওয়া হবে। সন্ধ্যা ৬ টার পর ঢাকা মহানগরীর কোনো বার খোলা রাখা যাবে না।

সোমবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) ভোর ৬ টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেঁস্তোরা জনসমাবেশ ও উৎসবস্থলে সব প্রকার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহনেও থাকছে নিষেধাজ্ঞা।

সম্প্রতি ডিএমপি সদর দফতরে ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, থার্টি ফার্স্টে নগরীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এজন্য যার যার অবস্থান থেকে সবদিকে সজাগ দৃষ্টি রেখে দায়িত্ব পালন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৫০৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮
পিএম/ওএইচ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।