ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

জাতীয়

শিউলীদের কেন এত কষ্ট!

শারমীনা ইসলাম, নিউজরুম কো-অর্ডিনেটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৫৭ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৫, ২০২১
শিউলীদের কেন এত কষ্ট!

ঠোঁটে টকটকে লাল লিপস্টিক, গায়ে সুন্দর জামা। তারপরও কেন এত কষ্ট তাদের? বলছিলাম শিউলীর কথা।

কোন শিউলী? হেমন্তের সকালে ঝড়ে পড়া ফুলের মতোই জীবন তার। তার কেন বলছি? তাদের সবার। তারাও যে পরিবার-সমাজ থেকে ঝড়ে পড়া, অনাদরে বেড়ে ওঠা কিশোরী।  

তাদের অবহেলার কারণ তারা হিজড়া(ট্রান্সজেন্ডার)। জন্ম থেকে পরিবারে আদরে বেড়ে ওঠা সন্তানটি যখন ধীরে সেই পরিবারেরই লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কক্সবাজারের উখিয়ায় এমনই এক গরীবের ঘরে জন্ম নেয় ফুটফুটে শিউলী। জন্মের পর বাবা-মা আর দুই ভাই-বোনের সঙ্গে ভালোই কাটছিল তার দিন।  

কিন্তু একটা সময় এসে তার পরিবার এক রকম ঘরবন্দি করে রাখে। এর কিছুদিন পর বাবা-ভাই-বোন বাড়ি থেকে বের করে দেয় তাকে।  

রাস্তায় ঘুরে ঘুরে কোথাও জায়গা হয় না তার। বরং মানুষের খারাপ ব্যবহার আর শারীরিক-মানসিক-যৌন নির্যাতনের শীকার হতে থাকে প্রতিনিয়ত।  
বড় হতে হতে আরও অনেক ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় শিউলীর। জানতে চাইলাম কী এত সমস্যা, বলেন তো...
 

শিউলী বলে চলে একটার পর একটা 

কদিন আগে করোনার মধ্যেই তার মা মারা গেছেন। তার বাকি দুই ভাই-বোন আর বাবা মারা গেছেন অনেক আগে। মায়ের সৎকারের ব্যবস্থা করার মতো কেউ ছিল না পাশে। শিউলী হিজড়া বলে তাকে সাহায্য করতেও কেউ এগিয়ে আসেনি।  

তার অসুখ হলে ডাক্তার দেখে না, এজন্য ‘স্বাভাবিক’ কাউকে অনুরোধ করে ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে ওষুধ এনে খেতে হয়েছে অনেক বার।  
একবার এইচআইভি পরীক্ষার জন্য গিয়ে করতে পারেনি। কারণ ফরমে নারী আর পুরুষ ছাড়া অন্য কোনো ঘর নেই। এজন্য তাকে ফিরে আসতে হয়।  
এছাড়া এলাকার বখাটেদের অত্যাচারে নিজের বাড়িতেও থাকতে পারেন না শিউলীর মতো অনেকেই।  

এত কষ্টের মধ্যেও আশা হারাননি শিউলী। বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি তাকে কাজ দিয়েছে, দিয়েছে প্রশিক্ষণ। শিউলী এখন সচেতন করে তার মতো অন্য হিজড়াদের। আজ সে জানে সরকার তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দিয়েছে। এখন প্রয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে তারা যেতে পারেন। এমনকি ইউএনও অফিস থেকেও তাদের কথার গুরুত্ব দেওয়া হয়। অল্প হলেও সরকারি ভাতা পান হিজড়ারা।  

আর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হচ্ছে আমাদের মানসিকতায়, এখন অনেক পরিবারই সব সন্তানদের একইভাবে গড়ে তোলে। হিজড়ারাও শিক্ষার সুযোগ পায়। বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তোলার চেষ্টা করতে পারেন।  

তারাও করোনার টিকা পাবে, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে ডাক্তার হাসিমুখে চিকিৎসা দেবেন। স্কুলে  পাশের বন্ধুটি তাদের টিফিনের ভাগ দেবে। এমন লাখো স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষা করছে এমন হাজারো শিউলী।  

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫২ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৫, ২০২১ 
এসআইএস 
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa