ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ০৭ জুলাই ২০২২, ০৭ জিলহজ ১৪৪৩

জাতীয়

বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে ওয়াকিটকি মজুদ-বিক্রি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫০০ ঘণ্টা, মে ২৩, ২০২২
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে ওয়াকিটকি মজুদ-বিক্রি

ঢাকা: দেশের সাধারণ মানুষ ওয়াকিটকি বহনকারী ব্যক্তিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওয়াকিটকি ব্যবহার করে অপরাধীরা ভুয়া ডিবি, র‌্যাব সদস্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়সহ মারাত্মক অপরাধ সংগঠিত করে আসছে।

এতে একদিকে যেমন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যখন সাদা পোশাকে দায়িত্বপালনের প্রয়োজন হয় তখন জনসাধারণ তাদের ভুয়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ভেবে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটাতে অবৈধ ওয়াকিটকি মজুদ-বিক্রি করে আসছিল একটি চক্র। এছাড়া অবৈধভাবে ওয়াকিটকি বিক্রির মাধ্যমে দেশ কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এসব অপরাধ চক্রের মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

রোববার (২২ মে) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও গুলিস্তানের স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ চক্রের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  

গ্রেফতার দুজন হলেন- অলেফিল ট্রেড কর্পোরেশনের মালিক ও চক্রের  মূলহোতা মো. আব্দুল্লাহ আল সাব্বির (৩৩) ও তার সহযোগী মো. আল মামুন (২৭)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৬৮টি ওয়াকিটকি সেট, ওয়াকিটকির ৩৫টি ব্যাটারি, ৩২টি চার্জার, এন্টেনা ৬৩টি, মাউথ স্পিকার ছয়টি এবং ব্যাক ক্লিপ ছয়টি জব্দ করা হয়।  

সোমবার (২৩ মে) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, র‌্যাব-৩ এবং বিটিআরসির যৌথ অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধ ওয়াকিটকি সেট বিক্রয়কারী চক্রের মূলহোতাসহ দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়।  

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় অবৈধভাবে অপরাধীদের কাছে কালো রঙের ওয়াকিটকি দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করে আসছে। কিন্তু বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক কালো রঙের ওয়াকিটকি সেট ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

গ্রেফতার দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি জানান, আসামিরা তাদের অলেফিল ট্রেড কর্পোরেশনের ওয়েব সাইট এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বেতার যন্ত্র ওয়াকিটকি সেট মজুদ করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে আসছিল। কিন্তু তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা এসব ওয়াকিটকি এবং যন্ত্রাংশ ব্যবহার সংক্রান্ত লাইসেন্স ও কারিগরি গ্রহণযোগ্যতা সংক্রান্ত সনদ বা কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি গ্রেফতার দুজন। তাদের কাছে থেকে উদ্ধার করা ওয়াকিটকি সেটের ফ্রিকোয়েন্সি ২৪৫-২৪৬ মেগাহার্জ। এসব ওয়াকিটকি ব্যবহার করে রিপিটার ছাড়া আধা কিলোমিটার পর্যন্ত যোগাযোগ করা সম্ভব। এছাড়াও বহুতল ভবনের মধ্যে ওপরতলা থেকে নিচতলায় যোগাযোগ করা সম্ভব। এসব ওয়াকিটকির দাম পাঁচ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ব্যাটারির চার্জ ধারণের ক্ষমতা অনুযায়ী ওয়াকিটকির দামের তারতম্য হয়ে থাকে। এছাড়াও আসামিরা অপরাধীদের কাছে ওয়াকিটকি সেট বিক্রি করেছেন কিনা এই বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, আসামি আল সাব্বির অলেফিল ট্রেড কর্পোরেশনের মালিক। তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে অবৈধভাবে ওয়াকিটকি সামগ্রী মজুদ রেখে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে আসছিল। আল মামুন দুই বছর ধরে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। এ পর্যন্ত তারা দুই হাজার ওয়াকিটকি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অবৈধভাবে বিক্রি করেছেন।  

ওয়াকিটকি সেট ব্যবহার সংক্রান্ত লাইসেন্স ও কারিগরি গ্রহণযোগ্যতা সংক্রান্ত সনদ ব্যতিত পরস্পর যোগসাজশে ওয়াকিটকি সেট ব্যবহার করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ (সংশোধনী/২০১০) এর ৫৫(৭)/৫৭(৩)/৭৪ ধারার অপরাধ করায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন।

দেশের নিরাপত্তা হুমকির কথা উল্লেখ করে কর্নেল আরিফ বলেন, দেশের সাধারণ জনগণ ওয়াকিটকি বহনকারী একজন ব্যক্তিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওয়াকিটকি সেট ব্যবহার করে অপরাধীরা ভুয়া ডিবি, র‌্যাব সদস্য, ডিজিএফআই সদস্য, এনএসআই সদস্য এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়সহ মারাত্মক অপরাধ সংগঠিত করে আসছে। এতে একদিকে যেমন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যখন সাদা পোশাকে দায়িত্বপালনের প্রয়োজন হয় তখন জনসাধারণ তাদের ভুয়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ভেবে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এছাড়াও ওয়াকিটকির মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করে অপরাধ সংগঠন করলে পরবর্তীতে অপরাধী শনাক্তকরণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হবে। যা সার্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

বাংলাদেশ সময়: ১৫০০ ঘণ্টা, মে ২৩, ২০২২
এমএমআই/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa