ঢাকা, সোমবার, ৯ কার্তিক ১৪২৮, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

উপন্যাস

নীল উড়াল: ত্রয়োবিংশ পর্ব

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৪১০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭
নীল উড়াল: ত্রয়োবিংশ পর্ব নীল উড়াল

নায়ক ম্যাকগিল ভার্সিটির অধ্যাপক-লেখক-অভিবাসী বাংলাদেশি। ফরাসি সুন্দরী মার্গারেট সিমোনের প্রণোদনায় দেশে মাদকচক্র নিয়ে গবেষণাকালে ঘটনা মোড় নেয় রোমাঞ্চকর বাঁকে। আসে ধুরন্ধর বন্ধু-অসৎ ব্যবসায়ী এনামুল, সুন্দরী স্টাফ রোকসানা, মধুচক্রের জেনিফার-মলি-পরী, ক্লিনিকের অন্তরালের মিসেস খোন্দকার, রমনার শফি মামা ও ফুলি, ‘উড়াল যাত্রা’র সাইফুল, বিড়ালের কুতকুতে চোখের তরুণ সাংবাদিক ফরমানউল্লাহ এবং ছোটখালার রহস্যময় মেয়ে অন্তরা। প্রেম ও বেঁচে থাকার যুগল উড়ালে কাহিনী আবর্তিত হতে থাকে।

২৩.
ড. ইমদাদের পর ড. মনোয়ারের সঙ্গে আলোচনা সেরে ফেলা দরকার। মাঠের তথ্য আর বিশেষজ্ঞদের মতামত মিলিয়ে পুরো ব্যাপারে একটি স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরতে হবে।

শামীমের রেফারেন্সে ফোন করেছিলাম তাকে। ড. ইমদাদ দেশের বাইরে থাকলেও ড. মনোয়ার দেশেই আছেন। তিনি খুবই আন্তরিকভাবে আমার কথা শুনে বললেন:
-ফোনে তো আর সব কথা আলোচনা করা যাবে না। আপনি না হয় চট্টগ্রামে চলে আসুন।
আমি উত্তর দিলাম:
-সেটাই ভাবছি।
ড. মনোয়ার জানালেন:
-দশটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত আমি চেম্বারে থাকি। এ সময়ে মধ্যে চলে আসুন।

নীল উড়াল: দ্বাবিংশ পর্ব

আমি তার সঙ্গে দেখা করার জন্য আসছি, ড. ভূইয়া মনোয়ার কবিরকে সেটা জানালাম।
ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতাযাত এখন যথেষ্ট সহজ। বাস-ট্রেনের কথা বাদ দিলেও প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি এয়ারলাইনসের কমপক্ষে দশটি ফ্লাইট যাওয়া-আসা করে। আমি ঢাকা থেকে সকাল আটটার ফ্লাইটে রওয়ানা হয়ে অল্পক্ষণেই চট্টগ্রাম পৌঁছে গেলাম। নগরের দক্ষিণের সমুদ্র-ঘেরা বিমানবন্দর থেকে উত্তরের পাহাড়-ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে ঘড়ি দেখলাম। নয়টা বাজে । দশটায় ড. মনোয়ারের সঙ্গে এপয়নমেন্ট। হাতে ঘণ্টা খানেক সময় পাওয়া গেল। ক্যাম্পাসটা ঘুরে দেখা যেতে পারে। স্মৃতির ক্যাম্পাস। একদা এই মৈনাক পাহাড়, বনানী আর নিসর্গে মিশে কিছুদিন ছিলাম। বাংলাদেশের যে কোনও ক্যাম্পাসই এখনও প্রকৃতিময়। মাঝে জাহাঙ্গীরনগরে গিয়েছিলাম। সেই আগের মতো গেরুয়া মাটি, লেক আর প্রাগৈতিহাসিক লাল ইমারতের ছোপ ছোপ ভালো লাগার অমলিন রূপ প্রগাঢ়ভাবে জমে আছে। রাজশাহী গিয়ে পেয়েছি প্রাকৃতিক শ্যামলিম সবুজ। বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলো একেকটি একেক দিক থেকে আকর্ষণীয় ও মুগ্ধকর। আমার প্রকৃতি দেখার ফুসরত নেই। আমি খুঁজছি অন্ধকার। আলোর নীচের না-দেখা আঁধার জগত। রমনার সবুজ শরীরের অন্ধকার এসব ক্যাম্পাসেও বিন্দু বিন্দু আঁধার ঘনিয়ে আনছে। সে সব তথ্য, তারুণ্যে আলো-অন্ধকার আমার গবেষণায় ভীষণ কাজে লাগবে। মাদকের কালোচক্রের যে কালোবৃত্তগুলো দেশব্যাপী ছড়িয়ে আছে, সেগুলোকে এক জায়গায় করতে পারলে আমার কাজ সহজ হয়ে যাবে। বের হয়ে আসবে দুষ্টচক্রের পূর্ণ অবয়ব। ড. মনোয়ারের ওখানে যাওয়ার আগে আমি ক্যাম্পাসের মধ্যে নিজেকে ছড়িয়ে দিয়ে প্রবেশ করতে চাই এর গভীর মর্মমূলে।  

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন-পাহাড়ের মাথায় এসে বসেছে নিকট-সমুদ্র থেকে উড়ে আসা পরিযায়ী মেঘের দল। দমকা হাওয়ার বৃষ্টির সঙ্গে অঙ্গ দুলিয়ে টুপটাপ ঝরছে জারুল আর কৃষ্ণচূড়ার রঙিন ফুল। পাহাড়ের নিটোল শরীরের ভাঁজে ভাঁজে ফুটেছে অসংখ্য কদম। মেঘের ছায়ায় ফুলের মেলায় কনে দেখার আলোয় জেগে আছে চারপাশ। হঠাৎ কোত্থেকে যেন ভেসে এলো একটি কান্নাভেজা উদাসী সুর। উৎসের দিকে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম ক্যাম্পাসের এখানে-সেখানে বিক্ষিপ্ত ঝুপড়ির একটিতে। বাঁশি বাজছে করুণ সুরে। এখানে সবটুকু দাপটই তারুণ্যের আনন্দ ও বেদনার দখলে। অকস্মাৎ বৃষ্টি নেমেছে। বৃষ্টি উপলক্ষ্যে উপচে পড়ল তারুণ্যের আনন্দধ্বনি। উচ্ছ্বল গান শোনা গেল ঝুপড়ির নানা প্রান্তে। যেন শুরু হয়েছে বৃষ্টির আবাহন; বর্ষাবরণ। কেউ একজন গেয়ে উঠল, ‘সারা দিন বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টিধারা...’। শোনা গেল বৃষ্টিমথিত রবীন্দ্রনাথ, তার বিখ্যাত বর্ষার গানগুলো। গাইছে মূলত এক বা দুইজন। বাকীরা বেঞ্চ চাপড়ে তুলছে তবলার তাল; ধরছে কোরাস। শত-শত তরুণ-তরুণী ব্যস্ত নানা আয়োজনে। গান, আলোচনা, রাজনীতি, শিল্প, সমাজ, সংস্কৃতির তীব্র স্রোত বয়ে যাচ্ছে। বিচিত্র পৃথিবীর খণ্ড খণ্ড অংশ এখানে একাকার। এক পাশে আনন্দের হুল্লোড়, অন্য পাশে বিষণ্ন ভাবুক। আমি ওদের সঙ্গে মিশে গেলাম। কথা জমাতে সময় লাগল না। গায়ক, কবি, শিল্পী, সমঝদার-সবাই আছে এখানে। আমি ওদের মনের মধ্যে ঢুকতে চাচ্ছি। ঘণ্টা খানেক পর অনবদ্য সব তথ্য নিয়ে আমি চলি ড. মনোয়ারের উদ্দেশ্যে।

ড. মনোয়ার সাদরে গ্রহণ করলেন:
-আসুন, আসুন। আপনার জন্যই অপেক্ষা করছি।
একদল ছাত্র-ছাত্রী আর তরুণ সহকর্মীদের নিয়ে জমাট তার অ্যাকাডেমিক সার্কেল। সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে তিনি বললেন:
-আমি এখন দক্ষিণ এশিয়া, ভারত, চীন নিয়ে কাজ করছি। সবে মাত্র কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ ভ্রমণ করে এসেছি। সে ব্যাপারেই ব্যস্ততা চলছে। চলুন আমরা পাশের লাউঞ্জে গিয়ে বসি।
একান্ত আলোচনায় আমার সব কথা শুনে তিনি বললেন:
-আমি বাংলাদেশের সীমান্ত নিয়ে একটি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি। টেকনাফ পয়েন্ট থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত প্রায়-সব বর্ডারেই গিয়েছি। ফেনী, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহীও বাদ পড়ে নি। সে সব এলাকায় আমার রিসার্স টিমের সঙ্গে সরেজমিনে গিয়ে কথা বলেছি নানা পেশা, শ্রেণী ও বয়সের মানুষের সঙ্গে। জেনেছি বিপুল তথ্য। সংগ্রহ করেছি বিশাল উপাত্ত।
ড. মনোয়ার কিছুক্ষণ থেমে বললেন:

-তবে আমার গবেষণা শুধু মাদকের বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয়। আমি সীমান্তের জীবন, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতিসহ একটি সামগ্রিক চিত্র নিয়ে কাজ করছি। তবে সেখানে চোরাকারবার একটি প্রধান বিষয়। যাতে মাদক, অস্ত্র ইত্যাদিও জড়িত। আপনি বরং একটি কাজ করুন। আমার গবেষণা ও তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে আপনার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নোট বা ফটোকপি করে নিন।

আমি সানন্দে সম্মতি জানালাম। তিনি অতি সমৃদ্ধ একটি রেফারেন্স সেল গঠন করেছেন। বই, জার্নাল, রিপোর্টে ঠাঁসা। আমি ভাবতেও পারি নি বাংলাদেশের উপান্তে নীরবে এতো তথ্যময় গবেষণার আয়োজন থাকতে পারে। বাংলাদেশের তীব্র হতাশ ও অসহযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে নিবিষ্টভাবে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার কঠিন কাজটি এক ধরনের নিঃশব্দে করছেন ড. মনোয়ার। অপেক্ষা করতে না পেরে আমি এক সময় তাকে জিজ্ঞেসই করে ফেলি:
-কি করে এতো নিবিড় ভাবে গবেষণার কাজ নিবির্ঘ্নে চালিয়ে যেতে পারছেন?
মৃদু হেসে তিনি উত্তর দিলেন:
-ইচ্ছে থাকলে সবই করা যায়। পরিবেশ ও পরিস্থিতিও তৈরি করে নেওয়া যায় নিজের কাজের উপযোগী করে।  

ড. মনোয়ার আমেরিকার বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেছেন। তার স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় হলো। তিনিও আমেরিকার পিএইচডি এবং অধ্যাপক-গবেষক। সন্তানরাও জন্ম নিয়েছে সে দেশে। তবু সবাই মিলে এদেশে চলে এসেছেন কিছু করবেন বলে।
আমি জানতে চাইলাম:
-রাজধানী ঢাকার বাইরে থেকে কাজ করতে অসুবিধা হয় না? সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় সব সময়?
ম্লান হাসলেন ড. মনোয়ার:
-আপনি ঠিকই বলেছেন। যোগাযোগের কেন্দ্রে না থাকলে কিছু সমস্যা হয় বটে। কিন্তু  প্রকৃতই যারা মননশীল-সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং আত্মপ্রচার ও আত্মপ্রাসাদের মোহ থেকে বিযুক্ত, তাদের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা কোনও বিষয়ই নয়। তারা বরং রাজধানীর অহেতুক কোলাহল থেকে দূরে থাকলেই ভালো কাজ করতে পারবেন।     
এ পর্যন্ত বলে তিনি আমার চোখে চোখ রাখলেন। তারপর আবার বললেন:
-আপনাকে একটি স্বপ্নের কথা বলি। আমার ব্যক্তিগত স্বপ্ন। নিজের পরিকল্পনা। আমি আমার শিক্ষয়েত্রী মায়ের ছায়ায় বেড়ে উঠেছি। তিনি অবসর জীবনে এখন আমাদের সঙ্গেই থাকেন। আমার স্বপ্নের বীজটি তিনিই বুনে দিয়েছেন। যে কারণে আমি আমেরিকায় না থেকে এদেশে চলে এসেছি। আমি স্বপ্ন দেখি, আমার শৈশব-কৈশোরের যমুনা নদী তীর ও পাবনাকে। পরিকল্পনা করি সেখানে সমাজ ও মানব বিদ্যার একটি গবেষণাগার তৈরি করার। যেখানে শুধু বাংলাদেশই নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ গবেষণার জন্য, তথ্য, উপাত্ত, রেফারেন্সের জন্য আসবেন।

আমি স্বপ্নবান মানুষটির দিকে তাকিয়ে অভিভূত হয়ে গেলাম। সব কিছুর পর মানুষের মহৎ স্বপ্নই তো বেঁচে থাকে। স্বপ্নই কাউকে আলোর সারথী করে। কাউকে করে অন্ধকারের যাত্রী।
বিকেল পর্যন্ত ড. মনোয়ারের সঙ্গে কাজ করলাম। দুপুরে আনন্দময় লাঞ্চও হলো এক সাথে। অনেক খুঁটি-নাটি তথ্য, ঠিকানা, পরিসংখ্যান পেয়েছি। অর্থনীতিতে সীমান্ত চোরাচালানের একটি বড় ভূমিকা আছে। সেখানে আবার প্রধান আইটেম হয়ে আছে বিভিন্ন ধরনের মাদক, অস্ত্র, অবৈধ দ্রব্য। সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার আগে ড. মনোয়ারের সঙ্গে আলোচনায় প্রভূত উপকৃত হয়েছি। মাদকচক্রের কেন্দ্রবিন্দু থেকে প্রান্ত পর্যন্ত কাঠামোটি আমার সামনে ক্রমশ স্পষ্ট রূপ পাচ্ছে। আরও সময় তার সঙ্গে থাকতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু আমাকে শেষ ফ্লাইটে ঢাকা চলে আসতে হবে। স্বজনের সঙ্গে বিচ্ছেদের ব্যথা নিয়ে এয়ারপোর্টে চলে এলাম।

যথাসময়ে প্লেন চট্টগ্রামে বিখ্যাত পতেঙ্গা উপকূলের উপর দিয়ে আকাশে ডানা মেলল। নীচে চির বহতা কর্ণফুলী। নদীতে ছোট-বড় জলযানের ঝলমল আলো। দূরে আবছা হয়ে আসা বঙ্গোপসাগরের অতলান্ত জলরাশি। প্লেনে বসে আমার বার বার মনে পড়ল ড. মনোয়ারের স্বপ্নের কথা। তার স্বপ্নের মধ্যে উপ্ত আছে সকলের জন্য সুযোগ খুলে দেওয়ার এবং পৃথিবীকে সবার জন্য সম্প্রীতিময় করে তোলার কনসেপ্ট। এই কনসেপ্টটা আসলে কি? এক কথায় ব্যাখ্যা করে বলা কঠিন।

আমার মনে পড়ল পুরোনো বন্ধু পল ফার্মার কথা, যার সঙ্গে ড. মনোয়ারের স্বপ্নের দারুণ মিল। ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করা মেডিসিনের চিকিৎসক পল ফার্মার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় আফ্রিকার হাইতিতে। যেখানে তিনি একটি ক্লিনিক পরিচালনা করতেন। ক্লিনিকটা পল তৈরি করেছিলেন অতিদরিদ্র মানুষদের জন্য। যাদের চিকিৎসা গ্রহণের ন্যূনতম সুযোগ ছিল না। তার ক্লিনিকে যাওয়ার সময় আমাকে প্রায় ৫০০ গজ বিশ্রী পথ হাঁটতে হয়েছিল গাড়ি থেকে নেমে। এই পুরো রাস্তায় দেখা হওয়া প্রতিটি মানুষের সঙ্গে পল তাদের নাম ধরে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। আর যখন আমি ক্লিনিকে রোগিদের অপেক্ষা করার জায়গায় পৌঁছাই, সেখানে আমি একটি সুন্দর ছায়াঘেরা বাগান আবিষ্কার করি। অথচ অব্যবস্থার দেশ হাইতিতেই আমি একই রকম একটি ক্লিনিকে গিয়েছি, যেখানে গরিব মানুষদের প্রচণ্ড রোদ মাথায় নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অতি কষ্ট করে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। পল নিজের মধ্যে ছোট্ট একটু পরিবর্তন এনেছিলেন। তিনি মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্ক তৈরি করার নীতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সময় বের করে নিয়েছিলেন সেই বাগানটা তৈরি করার জন্য। মানুষের নাম ও ব্যথা মনে রাখার জন্য। আর সবার সঙ্গে চোখে চোখ রেখে হৃদয়ের ভাষায় কথা বলার জন্য। আমি হলফ করে বলতে পারি, সম্প্রীতির বন্ধন জাগাতে পারলে অনেক সমস্যাই সহজ হয়ে যায়; চরম বিরূপতাতেও কাজ করা যায়। পল যেমন করেছেন। ড. মনোয়ার যেভাবে করার চেষ্টা করছেন। আমরা সবাই যদি এই চেষ্টাটা আন্তরিকভাবে করতে থাকি তবে মানুষের কষ্টগুলো আস্তে আস্তে কমে যাবে। কালো জায়গাগুলো ভরাট করে ফেলবে আলোর বন্যা।

রাতের আকাশের জমাট কালো চাদর ছিন্ন করে প্লেন ঢাকার আলোর দিকে নেমে আসছে। কালো উড়াল শেষে এখন সম্পন্ন হবে আলোকিত অবতরণ। কিন্তু যারা মনের গভীর অন্ধকারে নেশার নীল উড়ালে উদভ্রান্ত তাদের কি হবে? কবে, কখন থামবে তাদের এই দিকচিহ্নহীন উড্ডয়ন? (চলবে)

বাংলাদেশ সময়: ১০০৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭
জেডএম/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa