ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

রাজনীতি

বঙ্গমাতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা ছিল অতুলনীয়: শেখ পরশ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২১ ঘণ্টা, আগস্ট ৮, ২০২২
বঙ্গমাতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা ছিল অতুলনীয়: শেখ পরশ

ঢাকা: বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব দৃঢ় চিত্তের অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা ছিল অতুলনীয় বলে মন্তব্য করেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ।

সোমবার (৮ আগস্ট) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী।  

আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী। সভাটি সঞ্চালনা করেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

এ সময় যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, আগস্ট ট্রাজেডির সবচেয়ে বড় ট্র্যাজিক বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তাঁর সমগ্র জীবনটা অনুসরণ করলে দেখা যায়, তাঁর মতো ভুক্তভোগী মানুষ খুব কম আছে। চার বছর বয়সে বাবা-মা দুইজন হারিয়ে তিনি অনাথ হয়েছেন। তারপর বাল্যবিয়ে; প্রিয়তম স্বামী রাজনীতি করে, বেশিরভাগ সময় জেলে থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘শেখ ফজিলাতুন্নেছা আমার মা’ রচনায় লিখেছেন, স্বামীকে তিনি খুব কম সময় কাছে পেতেন, কখনো এক টানা দুটি বছর। আমরা কিন্তু বাবাকে কাছে পাইনি। কাজেই স্ত্রী হিসেবে আমার মা ঠিক এভাবে বঞ্চিত ছিলেন। তিনি দুইবার মন্ত্রীর স্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী, প্রেসিডেন্টের স্ত্রী, কিন্তু তারপরেও তাঁর চালচলনে ছিল-শাশ্বত বাঙালি মধ্যবিত্ত নারীর আটপৌঢ়ে রূপ। ছিল না কোন লোভ-লালসা বা সখ-আহ্লাদ। জীবনে কোনোকিছু আবদার করেনি স্বামীর কাছে বা শ্বশুরের কাছে। জননেত্রীর লেখায় ‘মা কখনও বলেননি যে আমার টাকার অভাব, সংসার চালাতে হচ্ছে। ’ নিভৃতে তিনি সব কষ্ট সহ্য করেছেন। আজন্ম কষ্ট, বঞ্চনা এবং বিয়োগব্যথা তাঁকে এক অসাধারণ মানবিক ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিত করেছিল।

শেখ পরশ বলেন, সর্বক্ষেত্রে তিনি বঙ্গবন্ধুকে সহযোগিতা করেছেন, একাগ্রচিত্তে এবং নিঃশর্তভাবে। জাতির পিতার জীবন সঙ্গিনী হিসেবে তিনি ছিলেন অসাধারণ। শেখ হাসিনা আরও লিখেছেন, এভাবে তিনি নিপীড়িত বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে নেপথ্যে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে। আমদের মুক্তির সংগ্রামে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত করেছে। সংকট মুহূর্তে এ ধৈর্য ধরে, মাথা ঠাণ্ডা রেখে তিনি সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলো নিতে পেরেছেন। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত এসেছে। কিন্তু আমার মাকে আমি কখনও ভেঙে পড়তে দেখিনি। এমনি দৃঢ় চিত্তের অধিকারী ছিলেন বঙ্গমাতা মুজিব। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতাও ছিল অতুলনীয়।

বাংলাদেশ সময়: ২০২০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৮, ২০২২
এসকে/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa