ঢাকা : ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বা ক্রয় চুক্তি (জেভিএ) এ মাসেই হচ্ছে।
আর আগামী জুন মাসে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বিদ্যুৎ কোম্পানি গঠনে চুক্তি করা হবে।
বিদ্যুৎ ভবনে সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) ৩য় বৈঠক শেষে উভয় দেশের সচিবরা প্রায় ৩ ঘন্টা আলোচনা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, গত শনিবার ভারতীয় বিদ্যুৎ খাতের ১৪ সদস্যের একটি দল বাংলাদেশে আসেন।
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির ৩য় বৈঠক গতকাল রোববার থেকে শুরু হয়েছে। আজ (সোমবার) আবার প্রায় ৩ ঘন্টা আলোচনা হয়।
স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি ও যৌথ কোম্পানি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, প্রথমে ভারত থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে।
পরে আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেওয়া হবে। এই বিদ্যুৎ কিভাবে আনতে হবে সে বিষয়ে স্টিয়ারিং কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।
এছাড়া বাংলাদেশের খুলনা ও চট্টগ্রামে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের জন্য একটি যৌথ কোম্পানি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান আবুল কালাম আজাদ।
তিনি বলেন, আগামী জুন মাসে এই কোম্পানি গঠনে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করার বিষয়ে জেএসসির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চুক্তির পরেই আমরা কোম্পানির অন্যান্য বিষয়দি নিয়ে কাজ শুরু করবো।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ভারতের বিদ্যুৎ সচিব পি. উমা শংকর বলেন, আমদানি করা কয়লার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা কি হবে এমন প্রশ্ন করা হলে ভারতের বিদ্যুৎ সচিব এড়িয়ে যান।
এদিকে যেখানে ভারতেরই বিদ্যুতের জন্য কয়লার ঘাটতি রয়েছে সেখানে বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা কি ভারত সরবরাহ করবে এমন প্রশ্নের জবাবে উমা শঙ্কর জানান, আমাদের বর্তমানে ১০ শতাংশ জ্বালানি ঘাটতি রয়েছে।
আমরা এখন কয়লা আমদানির চিন্তা করছি। আর যৌথ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্যও একই রকম চিন্তা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা প্রসঙ্গে ভারতের বিদ্যুৎ সচিব বলেন, ৪শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। এজন্য এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে।
বিদ্যুতের দাম বিষয়ে ভারতের বিদ্যুৎ সচিব কিছু না বললেও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সচিব বলেন, আমদানিকৃত বিদ্যুতের ট্যারিফ ভারতের কেন্দ্রীয় রেগুলেটরি কমিশন নির্ধারণ করবে।
ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে কেন্দ্রীয় সরকার যে পাইকারি দামে বিদ্যুৎ দেয় - সেই দামেই বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলে ভারতের বিদ্যুৎ সচিব জানান।
তবে এটা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন হবে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সচিব জানান, গত বছর ভারতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য ছিল ইউনিট প্রতি ২ রুপির মত।
বাংলাদেশ সময় : ১৭২২, মার্চ ৭, ২০১১