এদিকে টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও হচ্ছে সর্বোচ্চ।
স্থানীয়দের দাবি, কাপ্তাই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন হওয়ার পর থেকে স্থানীয় ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়ার কথা। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন হওয়ার পর থেকে এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত এলাকার বাসিন্দারা।
কাঠালতলী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা গৃহবধূ নাজিয়া নাজনিন বাংলানিউজকে বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ আমাদের সঙ্গে কেন এমন আচরণ করছে? এখনতো লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়।
একই এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী সিরাজ বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ যদি এখন থেকে লোডশেডিং শুরু করে তাহলে গরমের মৌসুমে কি হবে।
ঘনঘন লোডশেডিংয়ের বিষয়ে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী সমর তালুকদার বাংলানিউজকে বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে ৫ নম্বর ইউনিট মেরামতের অভাবে এ ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বাকি চারটি ইউনিট থেকে শনিবার (৭ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ৫ নম্বর ইউনিট ঠিক থাকলে আরও ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতো।
রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, কাপ্তাই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে তা দিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে। কিন্তু চাহিদা অনেক সময় ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াটে চলে যায়। এছাড়া গত কয়েকদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দরা লোডশেডিংয়ের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। লোড ক্যাপাসিটির সমস্যার কারণে পাওয়ার গ্রিড করপোরেশন চট্টগ্রাম অফিস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি ও ফিউস নষ্ট হওয়ার কারণেও অনেক সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।
এছাড়া এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য রাঙামাটিতে ১৩২ কেভির একটি সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। সাবস্টেশনটির কাজ শেষ হলে সমস্যা থেকে রাঙামাটির মানুষ মুক্তি পাবে বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশ সময়: ০৪৩৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৮, ২০১৭
এসজে/জিপি