ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

শেয়ারবাজার

বিগত সরকারের সময় পুঁজিবাজারকে কেউ কখনো ধারণ করেনি: আমীর খসরু

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩২০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫
বিগত সরকারের সময় পুঁজিবাজারকে কেউ কখনো ধারণ করেনি: আমীর খসরু

ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পুঁজিবাজার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। অথচ, বিগত সরকারের সময় আমরা দেখেছি পুঁজিবাজারকে কেউ কখনো ধারণ করেনি।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে ডিএসই ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পথ’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খসরু বলেন, আমরা দেখেছি, গত ১৫ বছর কীভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে পুঁজিবাজারকে ব্যবহার করা হয়েছে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আগামীতে যদি নির্বাচিত সরকার আসে আর আমরা সেই সুযোগ পাই, তাহলে পুঁজিবাজারকে ধারণ করবো। অর্থনীতি চালাতে পুঁজিবাজার অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পুঁজিবাজার যদি স্বচ্ছভাবে চলে তাহলে সাধারণ মানুষও মনে করবে এখানে বিনিয়োগ করা যায়। সবাই তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের জন্য বিনিয়োগ করবে।

তিনি বলেন, আমাদের দলে অভ্যন্তরীণ আলাপ হয়েছে আমরা পুঁজিবাজারে নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণে সিরিয়াসভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি। নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ ছাড়া পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করবে। যারা পুঁজিবাজারে লুটপাট করেছে তাদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে তারাই ঘুরেফিরে আবারও পুঁজিবাজারে এসব কর্মকাণ্ড চালাবে। কারণ দিন শেষে টাকা কথা বলে। তাদের লুটপাটের কারণে অনেকে আত্মহত্যা করেছে অনেকে নিঃস্ব হয়েছে। তাই তাদের আইনের আওতায় আনতে ডিবিএকেও ভূমিকা রাখতে হবে।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থার মানি মার্কেটের সংকট এসে পড়েছে পুঁজিবাজারে। অর্থনীতি যদি সুস্থ না হয় তাহলে পুঁজিবাজারও সুস্থ হবে না। উচ্চ মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়েছে। একটি কম আলোচিত বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের রাজস্ব আয় অনেক কম। আমাদের বাজেট বড় করা যায় না। আমাদের ট্যাক্স জিডিপি রেশিও ৮ শতাংশের কম যা দক্ষিণ এশিয়ায় নিম্ন ট্যাক্স আয়ের দেশ এবং বিশ্বে সর্বনিম্ন। গত ১৫ বছরে পুঁজিবাজারের গভর্নেন্স অনেক প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের বিরুদ্ধে অনেক কথা শোনা যায়। অনেক কোম্পানিকে আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে যেগুলো এখন জেড ক্যাটাগরিতে চলে গেছে। ডিএসইর কথা না শুনে তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও নেমেছে তলানিতে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরউদ্দিন স্বপন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, সিএমজেএফ সভাপতি গোলাম সামদানি, ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা, ডিবিএ সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

বাংলাদেশ সময়: ২৩১৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫
এসএমএকে/এমজে

 
 

 

 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।