ঢাকা, রবিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

খেলা

আয়ারল্যান্ডের কাছে হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৪০৬ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০১০
আয়ারল্যান্ডের কাছে হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ

বেলফাস্ট: জুনায়েদ সিদ্দিকীর শতকের পরেও আয়ারল্যান্ডের কাছে হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। একদিনের সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে হেরেছে ৭ উইকেটে।



প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে নয় উইকেটে ২৩৪ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে তিন উইকেট হারিয়ে ৪৫ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছায় আইরিশরা।

আয়ারল্যান্ডের কাছে হারটা নতুন নয়। ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে ভারত আর তখনকার র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শেষে হেরে যায় আয়ারল্যান্ডের কাছে।

মজা আরো আছে। একবছর আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে এই আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ করেছিলো বাংলাদেশ।

এবার তো অন্য বাংলাদেশকে দেখার কথা ছিলো আইরিশদের। ইংল্যান্ড থেকে সাফল্য নিয়ে বেলফাস্টে গেছে মাশরাফি বাহিনী। পুরো দলই উজ্জীবিত থাকার কথা। কিন্তু হলো উল্টো। ভয়ে কুপোকাত টাইগাররা।

বেলফাস্টের কন্ডিশন খুব বেশি ভয়ানক হওয়ার কথা নয়। তাছাড়া সদ্যই ইংলিশ কন্ডিশনে খেলেছে। অথচ ব্যাট করতে নেমে ২৮ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেরেন তামিম ইকবালরা।

দলের ১১ রানে ফেরেন ইমরুল কায়েস। এরপর তামিম ইকবাল। তাকে অনুসরণ করেন জহুরুল ইসলাম।

উপায়ান্তর না দেখে নিজের উইকেট বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেন জুনায়েদ সিদ্দিকী। সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পান। দুই জন মিলে ইনিংসটাকে নিয়ে যান ১৩৫ রান। চতুর্থ উইকেট জুটিতে সংগ্রহ হয় ১০৭ রান।

পল স্টারলিংয়ের বলে উইলসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সাকিব আল হাসান। ৭৮ বলে ৫০ রান করেন তিনি।

অন্যরাও উইকেটে এসে খুব একটা সুবিধা করেতে পারেনি। মুশফিকুর রহিম আউট হয়েছেন ব্যক্তিগত ৯ আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১৪ রানে। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ফিরেছেন ১৫ রান নিয়ে। শুধু আশার আলো জ্বালিয়ে একদিনের ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পূরণ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য্য দেখিয়েছেন জুনায়েদ।

এছাড়া বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বল তেমন কিছু নেই। শুধুই ব্যর্থতার গল্প।

৪৩ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন রানকিন। দুটি করে উইকেট নেন ট্রেন্ট জনস্টন ও পল স্টারলিং। এজন্য ট্রেন্ট দেন ২৪। স্টারলিং খরচ করেন ৪০ রান।

বাংলাদেশ যেখানে উইকেট বিলিয়েছে মুড়ি-মুরকির মতো। সেই একই পিচে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের টলাতেই পারছিলেন না সফরকারী বোলাররা।

দলীয় ১১৮ রানে প্রথম দলকে ব্রেক এনে দেন আব্দুর রাজ্জাক। স্টারলিংকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ৫২ রান করেন এ আইরিশ।

এরপরেও বাংলাদেশের বোলাদের ওপর পোর্টারফিল্ডের ব্যাটিং তান্ডব চলতে থাকে। দলকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়ে সাকিবের বলে মাশরাফির হাতে ধরা পড়েন ১০৮ রান করে।
 
দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যেতে চতুর্থ জুটিকে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি। আলেক্স কুসাকের ৪৪ ও কেভিন ওব্রিয়েনের ৫ রানের ওপর ভর করে ৩০ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশর পক্ষে একটি করে উইকেট নেন আব্দুর রাজ্জাক, সাকিব আল হাসান ও সৈয়দ রাসেল।

ম্যাচ সেরা হয়েছেন উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড।

বাংলাদেশ সময়: ২০২৪ ঘন্টা, জুলাই ১৫, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa