ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৯, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

পণ্য মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করলে ব্যবস্থা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭১৭ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৩
পণ্য মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করলে ব্যবস্থা ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: পণ্য মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ব্যবসায়ীদের হুশিয়ার করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান।   

পেঁয়াজসহ নিত্য পণ্যের মূল্যে স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে পুলিশী পাহারায় কাঁচা পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা হবে।

রোববার সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কাঁচা পণ্য ব্যবসায়ী ও আমদানীকারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সভায় জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। কয়েকটি পণ্যের দাম আকাশচুম্বি। পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে যায়।

গত বছর এই সময়ে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৩৬-৪৬ টাকায়। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৫০ টাকা। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। এর সুরাহা হওয়া দরকার।

যেসব দেশে পেঁয়াজের দাম কম সেখান থেকে কাঁচা পণ্য আমদানির পরামর্শ দিয়ে জেলা প্রশাসক আমদানিকারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মায়ানমার থেকে আমদানি করলে টেকনাফ স্থল বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে আসার জন্য সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, এছাড়া ব্যবসায়ী নেতা সহযোগিতা করলে দেশের বিভিন্ন বন্দর থেকে পুলিশী প্রহরায় পণ্য পরিবহন করে নিয়ে আসা হবে। তবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষন করা হবে বলেও জানান তিনি।

টানা হরতাল-অবরোধের কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী ও আমদানীকারকেরা।

মো. শামছুদ্দোহা খোকন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থল বন্দর থেকে চট্টগ্রামে পণ্য পরিবহনে রাজি হচ্ছেন না পরিবহন মালিকেরা। আর রাজি হলেও পরিবহন ভাড়া নিচ্ছেন স্বাভাবিকের তুলনায় দুই-তিন গুণ বেশি। যেখানে ২৮ থেকে ৩২ হাজার টাকা ভাড়া ছিল। এখন দাবি করা হচ্ছে দেড় থেকে ২লাখ টাকা। ফলে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। পণ্য পরিবহন নিরাপদ করা গেলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে। সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে।

মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সানাউল হক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ ইমতিয়াজ, স্টাফ অফিসার রাকিব হাসান, ব্যবসায়ী সোলায়মান বাদশা, মোহাম্মদ ইউনুস, আনোয়ার হোসেন, নুরুল আলম ও ক্যাব সভাপতি এসএম নাজের হোসাইনসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান ও চীন থেকে আমদানি হওয়া প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পড়ছে সর্বনিম্ন ৩২ টাকা থেকে ৪৮ টাকা পর্যন্ত। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস হওয়া এ পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারেই বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৯০ থেকে ১০০ টাকা। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫২ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৩

সম্পাদনা: তপন চক্রবর্তী, ব্যুারো এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa