ঢাকা, সোমবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২০ মে ২০২৪, ১১ জিলকদ ১৪৪৫

দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ভোটের আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত  

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০৪৪ ঘণ্টা, জুন ১১, ২০২৩
পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ভোটের আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত  

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ভোটের তফসিল ঘোষণা হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল গ্রাম-বাংলার পরিস্থিতি। একের পর এক জেলা থেকে হিংসা, মৃত্যু ও অশান্তির খবর আসতে শুরু করছে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শুরু হতে না জেলায় জেলায় বাড়ছে অশান্তি। আগামী দিনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে মনে করছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

শুক্রবার (৯ জুন) রাতে মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির খড়গ্রামে ফুলচাঁদ শেখ নামে এক কংগ্রেস কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগ শাসকদলের বিরুদ্ধে।  

নিহতের বাবার অভিযোগ, ছেলে আগে তৃণমূল করত, কংগ্রেস করার কারণেই প্রকাশ্যে তার দু বছরের নাতিকে ফুলচাঁদের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মাটিতে আছাড় মারে এবং ছেলেকে মাথায় গুলি করে।

সেই রেশ কাটার আগেই শনিবার (১০ জুন) সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাওড়া জেলার ডোমকল এলাকা। অভিযোগ, সেই অঞ্চলের বিডিও অফিসে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার পথেই বিরোধীদের বাধা দেয় তৃণমূল।

সিপিএম ও কংগ্রেসের অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মীরা বিডিও অফিস ঘিরে রাখে, যাতে সেখানে কেউ ঢুকতে না পারে। রাস্তায় ধরেই ব্যাপক মারধর করা হয় তাদের।  

ঘটনা ঘিরে বিডিও অফিস চত্বরের সামনে রণক্ষেত্র হয়ে যায়। পরে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয় ওই জেলার সারাংপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সভাপতি বসির মোল্লাকে।

শনিবার একই অবস্থা পশ্চিম বর্ধমান জেলার বারাবনিতে। সেখানেও সিপিএমকে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে।  

বাধা দেওয়ায় সংঘর্ষ বেঁধে যায় দু-দলের। কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পশ্চিম বর্ধমান। অবস্থা সামাল দিতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় পুলিশকে।

একইভাবে এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ের ২ ব্লকে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে তৃণমূলের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বামজোটের শরিক আইএসএফকে।  

প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা নির্বাচনে ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি আইএসএফ নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। তারা সিপিআইয়ের জোটের শরিক। কেন আইএসএফকে মনোনয়নের ফর্ম দেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন তুলে সরকারি অফিসারকে মারধরের নালিশ তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া বিজেপির গাড়িতে ইটবৃষ্টি, বোমাবাজিসহ আরও এ রকম একাধিক ঘটনাও সামনে আসতেই বিরোধীরা সরব হয়েছেন। রাজ্যের অশান্তির বিষয় নিয়ে শনিবার নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে রাজভবনে ডেকে পাঠান পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সেই বৈঠকে রাজ্যপালের প্রশ্নের মুখে পড়েন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন কমিশনার।

রাজ্যে ভোট ঘোষণা হতেই যে অশান্তি শুরু হয়েছে বিভিন্ন জেলায়, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল।

অপরদিকে রাজ্যের নিরিখে এই প্রথম পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে কোনো সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়নি। সেসব নিয়ে আগেই বিরোধীদের প্রশ্নে মুখে পড়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা।

কেন সর্বদলীয় বৈঠক ছাড়া নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে, এই প্রশ্নে রাজীব বলেছিলেন, বৈঠক যে করতেই হবে, তার কোনো নিয়ম নেই।

এরপর শুক্রবার (৯ জুন) থেকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন জমা শুরু হতেই একের পর এক জেলা থেকে হিংসা, অশান্তির খবর আসতে থাকে।

গত বুধবার (৭ জুন) রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন রাজীব সিনহা। আর ঠিক পরেরদিন বৃহস্পতিবার পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঘোষণা করেন।  

আগামী ৮ জুলাই এই নির্বাচন হবে। শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কাজ। তাই নিয়ে চরম হিংসা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে।

বাংলাদেশ সময়: ১০৩৯ ঘণ্টা, ১০ জুন, ২০২৩
ভিএস/আরএইচ 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।