ঢাকা, বুধবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২২ মে ২০২৪, ১৩ জিলকদ ১৪৪৫

দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা

আমের প্রেমে আকণ্ঠ নিমজ্জিত পশ্চিমবঙ্গবাসী

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫১৯ ঘণ্টা, জুন ১২, ২০১৭
আমের প্রেমে আকণ্ঠ নিমজ্জিত পশ্চিমবঙ্গবাসী আমের বাহার

কলকাতা: ভারতে ‘আম আদমি’ কথাটি খুবই প্রচলিত কথা। বাসে, ট্রেনে, চলার পথে কিংবা রাজনীতির অঙ্গনে ‘আম আদমি’ শব্দটি বারেবারে উচ্চারিত হয়। হিন্দি শব্দ ‘আম আদমি’-এর বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘আম জনতা’ বা সাধারণ মানুষ। আর ভারতের  ‘আম আদমি’-এর প্রিয় ফলে এক কথায় আম।

যতদূর জানা যায় ‘আম’ শব্দটি মৈথলি ভাষা থেকে এসেছে। সংস্কৃতে ‘আম’ শব্দের মানে ‘খাস’ বা ‘বিশেষ’।

মহাকবি কালিদাস তাঁর লেখনিতে আমকে ‘আম্র’ বলেছেন। অর্থাৎ সংস্কৃতে আমকে ‘আম্র’ বলা হতো। মাইকেল মধুসূদন দাস আমাকে অভিহিত করেছেন ‘রসাল’ নামে। তবে নাম যাই হোক না কেন, ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে আম মিলেমিশে আছে সে কথা সহজেই অনুভব করা যায়।

কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বাজারে আম এসে গেছে বেশ কিছুদিন। কাঁচা আমের ডাল, আম পোড়া শরবৎ আর চাটনির পর পাকা আমের প্রেমে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি প্রায় আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়েছে।

এই প্রেমের এমন প্রভাব যে আম কেনার হিড়িকে কমে যাচ্ছে অন্যান্য ফল কেনা। শুধু ফলই নয়, বাজার ঘুরে দেখা গেল, সবজি এমনকি মাছের জন্য বাজেট বরাদ্দ কমিয়ে আম কিছু ফেলছেন অনেকেই। অনেকক্ষেত্রেই প্রয়োজনের তুলনায় সেটা অনেকটাই বেশি।

পশ্চিমবঙ্গে আমের ব্যাপক ফলন হওয়ায় কলকাতার খুচরো এবং পাইকারি বাজারগুলোতে আমের ছড়াছড়ি।

কলকাতার সবথেকে বড় পাইকারি বাজার কোলে মার্কেট-এ খবর নিয়ে জানা গেল পাইকারি দরে ৮ রুপি প্রতি কিলো থেকে শুরু করে ১৮ রুপি প্রতি কিলো দামে আম বিক্রি হচ্ছে।

খুচরো বাজারে সেই আম বিক্রি হচ্ছে ২০ রুপি থেকে শুরু করে ৩০ রুপি কিলো দরে। কলকাতার বাজারে আমের খুচরো দাম ২০ রুপি হলেও আম চাষের জন্য বিখ্যাত মালদা জেলায় আমের খুচরো দর ১০ রুপি-তে নেমে এসেছে বলে জানা গেছে।

কলকাতার বিভিন্ন মধ্যবিত্ত এলাকার বাজারে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, শুধু ফল হিসেবেই নয় অনেকেই রাতে রুটির সঙ্গে তরকারি বা মাছ বাদ দিয়ে আম  খাচ্ছেন।

আমের প্রেমের সঙ্গে কলকাতার বাজারে আক্ষেপও শোনা গেল। বাংলাদেশের আম যদি পাওয়া যেতো। চাঁপাইগঞ্জের আমের কথা শোনেনি এমন কলকাতাবাসী মেলা ভার। তারা সকলেই জানেন, বাংলাদেশের আমই স্বাদের দিক থেকে সেরা। যদিও সারা বছর ধরে কলকাতায় বিভিন্ন দেশের আম পাওয়া যায়। তবুও মরসুমের ফলের স্বাদ ভিন্ন সময়ের স্বাদের থেকে আলাদাই থাকে বলে মত ক্রেতাদের।

শুধু একটি নয়, আম বেশি কেনার জন্য বাজারগুলিতে ঘুরে একাধিক যুক্তি কানে এলো। মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, গরমে অনেকেই নিরামিষ খাওয়ার দিকে ঝুঁকেছেন।

তারা জানালেন, জামাই ষষ্ঠীর পর বর্তমানে মাছের চাহিদা অনেকটাই কম।

ক্রেতারা অনেকেই জানালেন, গরমের জন্য আলু ভাজা, ডাল এ ধরনের হালকা খাবার তারা খেতে পছন্দ করছেন। তার সঙ্গে অবশ্যই আছে ল্যাংড়া, হিম সাগর কিংবা ফজলি আমের থালা।

বাংলাদেশ সময়: ২১০০ ঘণ্টা, জুন ১২, ২০১৭
ভিএস/জেডএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।