এদিকে সবজির বাজারের দিকে গিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে তাদের। কেননা রমজানের এ সময়টায় অন্য বছরের ন্যায় সবজির দাম এবার কিছুটা সহনীয়।
বৃহস্পতিবার (০৮ জুন) বিকেলে ফেনী শহরের বড় বাজার, রেলওয়ে ষ্টেশন বাজার, মুক্ত বাজার ও মহিপাল কাচা বাজারে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতারা বেশ স্বস্তির সঙ্গেই সবজির কেনাকাটা করছেন। অভিযোগ শুধু মাছ মাংসের দামের ব্যাপারে।
শহরের রেলওয়ে ষ্টেশন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ইন্ডিয়ান পেয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮ ,রসুন ৮০, আদা ৭০, পটল ২৫, শসা ২৫, কাচা মরিচ ৪০, কচুর মুখী ৪০, গাজর ৭০, বেগুন ৪০/৪৫, দুন্দল ২৫, ঝিঙ্গা ৩০, পেঁপে ৩০, টমেটো ৩০, করলা ৩০, ঢেঁড়স ৪০, বরবটি ৪০, কাকরল ৪০, কচুর লতি ৩০, চাল কুমড়া ২৫, চিচিংগা ৩৫, মুলা ২৫, মিষ্টি কুমড়া ৩০,শীকালীন সবজি পাতা কপি ৪০, পুই শাক প্রতি আঠি ১৫, কলমি শাক ১২, মাঝারি লাউ প্রতি পিস ৪০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতা আবুল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে- তাই দাম কম। ফেনী শহরে উত্তরবঙ্গ, চট্টগ্রামের শীতাকুন্ড ও রামগড় থেকেই বেশি সবজি আসে।
শেখ সলিম নামের এক ক্রেতা জানান, সবজির নাম অন্যবারের তুলনায় এ রোজায় কমই আছে। আর সে কারণেই বাজারে আসলে পছন্দসই সবজি কিনে ঘরে ফেরা যায়। তারও অভিযোগ মাছ মাংসের দাম নিয়ে।
শহরের বড় বাজারে দেখা যায়, ছোট চিংড়ি ৫৫০, তেলাপিয়া ১৫০-২২০, রুই মাছ ২'শ ৫০, কাতল মাছ ৩'শ, ইলিশ ৬'শ। এছাড়া বাজারে ১'শ থেকে ১’শ পঞ্চাশ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে পাঙ্গাস ও সামুদ্রিক বিভিন্ন জাতের মাছ।
সে বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, মাছের সরবরাহ যদি আরো বেশি থাকতো তাহলে দাম আরো কম হতো। চাহিদার তুলনায় মাছ কম থাকায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মোরগ বিক্রেতারে সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রয়লার সাদা মোরগ প্রতি কেজি ১৫০ টাকা, লাল ১৮০ টাকা, পাকিস্থানী কক ২২০ টাকা এবং দেশিয় জাতের মোরগ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়।
বাজার পরিস্থিতির ব্যাপারে কথা হয় ফেনী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট সোহেল রানার সঙ্গে, তিনি জানান-ভোক্তা অধিকার আইনের আওতায় জেলা প্রশাসন থেকে প্রতিদিনই শহরের বাজারগুলো মনিটরিং করা হচ্ছে। বেশি দাম নিলে ভোক্তা খবর দিলেই প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে।
এদিকে গরুর মাংসের বেশি দাম নিয়ে কথা হয় শহরের মহিপাল বাজারের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০ রমজানের পর গরুর মাংসের দাম আরো বাড়তে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছু ওই ব্যবসায়ী বাংলানিউজকে জানান,সাধারণ বিক্রেতাদের এখানে কিছু করার থাকেনা। গুরু ব্যাবসায়ীরা যদি গরুর দাম বাড়িয়ে দেয়, তাহলে তাদেরকেও মাংসের দাম বাড়িয়ে দিতে হয়।
বাংলাদেশ সময়: ০৯৪৮ ঘণ্টা, জুন ০৯, ২০১৭
এসএইচডি/বিএস