ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৮ মে ২০২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৪৫

বিনোদন

প্রেম চরিত্রে সালমানের ১৫ ছবি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯২৯ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৭
প্রেম চরিত্রে সালমানের ১৫ ছবি সংগৃহীত ছবি

প্রেম নামটি নিতান্তই সালমান খানের সঙ্গে মানায় পুরোপুরিভাবে। হৃতিক রোশন ও অভিষেক বচ্চন ‘ম্যায় প্রেম কি দিওয়ানি হু’ আর শহিদ কাপুর ‘বিবাহ’ ছবিতে প্রেম চরিত্রে কাজ করেছেন ঠিকই, কিন্তু সালমান প্রেম ছিলেন, থাকবেন সবসময়। ১৯৮৯ সালে ব্লকবাস্টার ছবি ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’র মাধ্যমে প্রথম বড় সাফল্য পাওয়ার ২৮ বছর পেরিয়েছে, আজও প্রেম হিসেবে সালমান অতুলনীয়। 

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) তার ৫২তম জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক, ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া থেকে শুরু করে ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ ছাড়া সালমান কোন ১৫টি ছবিতে প্রেম চরিত্রে অভিনয় করেছেন।  

* ম্যায়নে পেয়ার কিয়া (১৯৮৯)
এটি প্রেম চৌধুরী (সালমান) ও সুমানের (ভাগ্যাশ্রী) তুমুল জনপ্রিয় ভালোবাসার গল্প।

এর মাধ্যমে প্রথমবার প্রেম চরিত্রে বড় পর্দায় এসেছিলেন সল্লু। সবদিক দিয়েই নিজেকে যথাযথ রোমিও হিসেবে উপস্থাপন করেন তিনি।  

* হাম আপকে হ্যায় কৌন..! (১৯৯৪)
‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’র পর আবার সুরজ বরজাতিয়ার পরিচালনায় এ ছবির মাধ্যমে প্রেম হয়েছেন সালমান। ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ সবদিক দিয়েই রেকর্ড গড়েছে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। তিনি হয়ে ওঠেন বলিউডের সুপারস্টার। প্রেম ও নিশার (মাধুরী দীক্ষিত) জাদুময় রসায়ন, সংলাপ, পোশাক, গান ও নাচের মুদ্রা- সবই দর্শক মাতিয়েছে।  ছবিটি মুক্তির ২১ বছর পেরিয়েও এই জনপ্রিয়তা কমেনি কিঞ্চিৎ।  

* আন্দাজ আপনা আপনা (১৯৯৪)
সালমান অভিনীত অন্যান্য প্রেম থেকে ‘আন্দাজ আপনা আপনা’র প্রেম একটু আলাদা। ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ও ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন..!’ তাকে লাভার-বয় ভাবমূর্তি এনে দিলেও এ যাত্রায় তার কৌতুকাভিনয় মুগ্ধ করেছে সবাইকে। বক্স অফিসে হিট না হলেও আমির ও সালমানের দুর্দান্ত অভিনয় আজও দর্শকদের আনন্দ দেয়। ছবিটিতে অতিসরল প্রেম ভোপালিকে সহজে ধোঁকা দিতে পারে আমির অভিনীত অমর চরিত্রটি।  

* জড়ুয়া (১৯৯৭)
এ ছবিতে একসঙ্গে দুই সালমানকে পাওয়া গেছে! এর মধ্যে রাজা হলো ছিঁচকে চোর, আর তার যমজ ভাই গায়ক প্রেম মালহোত্রা ধনী। জন্মের সময় দু’জন আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু দেখতে একই রকম হওয়ায় দু’জনের দেখা হয়ে যায় গল্পে। সালমানের পাশাপাশি কারিশমা কাপুর ও অনুপম খেরের হাস্যরসধর্মী অভিনয় সব বয়সী দর্শককে আনন্দ দিয়েছে।  

* দিওয়ানা মাস্তানা (১৯৯৭)
এ ছবির দুই মূল নায়ক অনিল কাপুর ও গোবিন্দ প্রেমে পড়েন সুন্দরী জুহি চাওলার। তার মন জয় করতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেন না তারা। কিন্তু জুহির মন তো আর গলে না। উল্টো প্রেম কুমার হিসেবে সালমানকে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। জুহি নাকি তার প্রেমেই মশগুল, বিয়েও করবেন তাকেই। ছবিটির নায়ক না হলেও সবশেষে নায়িকাকে তিনিই পেয়েছেন!

* সির্ফ তুম (১৯৯৭)
ছবিটিতে অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন সালমান। মূল তিন চরিত্রে ছিলেন সঞ্জয় কাপুর, প্রিয়া গিল ও সুস্মিতা সেন। আরতির (প্রিয়া গিল) প্রেমে পড়ে প্রেম। তাকে বিয়ের প্রস্তাবও দেয় প্রেম। কিন্তু আরতি তা প্রত্যাখান করে। কারণ সে ভালোবাসে সঞ্জয়কে। ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ও ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন..!’ ছবির প্রেমের মতোই এই প্রেম।  

* হাম সাথ সাথ হ্যায় (১৯৯৯)
এই গল্পটা একটি যৌথ পরিবারের, যারা থাকে একসঙ্গে। বেড়ানো কিংবা নাচ-গানও করেন তারা সম্মিলিতভাবে। এখানে প্রেম একধারে ভাই, প্রেমিক, শ্যালক ও পুত্র হিসেবে সবার প্রিয়। সালমান ছাড়া এমন চরিত্রে আর কাউকেই হয়তো মানাতো না! এটিও পরিচালনা করেন সুরজ বরজাতিয়া।  

* বিবি নাম্বার ওয়ান (১৯৯৯)
এ ছবিতে কে নেই! সালমান খান, কারিশমা কাপুর, সুস্মিতা সেন, অনিল কাপুর ও টাবু- তারকায় সয়লাব। বক্স অফিসে ভালো সাফল্য না পেলেও গানগুলো জনপ্রিয় হয়েছে ঠিকই। এখানে প্রেম পড়ে দুই নারীর মাঝে। একজন তার স্ত্রী, অন্যজন তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সুপারমডেল। কাকে তার মনে ধরেছে, তা বুঝতে বুঝতেই ছবি শেষ হয়ে যায়!

* চল মেরে ভাই (২০০০)
ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত এ ছবিতে সঞ্জয় দত্তের ছোট ভাইয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন সালমান। তারা একই  মেয়ের (কারিশমা কাপুর) প্রেমে পড়েন। তাদের মধ্যে প্রেম ওবেরয় প্রাণচঞ্চল। তবে কাজ করতে তার মোটেই ভালো লাগে না। অন্যদিকে তার বড় ভাই কাজপাগল মানুষ। ছবিটি ক্লাইম্যাক্স দর্শকদের মনে করিয়ে দেয় ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন..!’ ছবির কথা।  

* কাহি পেয়ার না হো জায়ে (২০০০)
উচ্চকাঙ্ক্ষী গায়ক প্রেম কাপুর থাকে তার বোন কাশ্মিরা শাহকে নিয়ে। তার দুই প্রেমিকা তাকে ছেড়ে বিয়ে করে ধনী প্রবাসীকে। তবে প্রিয়ার (রানী মুখার্জি) মাঝে সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পায় প্রেম।  

* নো এন্ট্রি (২০০৫)
এখানে প্রেম হলো নারী পটানো পুরুষ। সে বিয়ে করে সরল একটি মেয়েকে (এশা দেওল)। প্রেম যে প্রতারণা করছে তা মোটেই টের পায় না মেয়েটি।  

* পার্টনার (২০০৭)
এ ছবির আকর্ষণীয় দিক হলো সালমান খান ও গোবিন্দকে একসঙ্গে পাওয়া। এখানে প্রেম কাজ করে লাভ গুরু হিসেবে। ক্যাটরিনা কাইফের মন জয় করার জন্য ভাস্করকে (গোবিন্দ) নানান বুদ্ধি দেয় সে। এটি হলো হলিউডের ‘হিচ’ ছবির রিমেক।  

* ম্যারিগোল্ড (২০০৭)
উইলার্ড ক্যারল পরিচালিত এ ছবিতে সালমানের সহশিল্পী আলি কার্টার। গল্পটা আমেরিকান এক অভিনেত্রী ভারতে আসার গল্প। এখানে প্রেম রাজপুতের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় তার। সে নৃত্য প্রশিক্ষক প্রেমের প্রেমে পড়ে।  

* রেডি (২০১১)
ছবিটিতে সালমানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন দক্ষিণী চলচ্চিত্র থেকে আসা ‘গজিনি’ তারকা অসিন। গল্পে প্রেম কাপুর একাই সবকিছুর সমাধান করে ফেলতে পারে। এখানে প্রেম অনেক রসিক। অনেকটা ‘আন্দাজ আপনা আপনা’র মতো।  

* প্রেম রতন ধন পায়ো (২০১৫)
‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন..!’ ও ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির পর সুরজ বরজাতিয়া ও রাজশ্রী প্রোডাকশন্সের সঙ্গে দীর্ঘ ১৬ বছর পর কাজ করলেন সালমান। ফিরে এলেন প্রেম হিসেবে। এতে তাকে দেখা গেছে দ্বৈত চরিত্রে। আরেকজনের নাম বিজয়। এ ছবির মাধ্যমে পারিবারিক নাটকীয়তায় সাজানো ছবিতে ফিরলেন তিনি। এতে তার নায়িকা হয়েছেন হাঁটুর বয়সী সোনম কাপুর।  

বাংলাদেশ সময়: ০১২৯ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৭

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।